সম্মানিতা মহিলা আউলিয়া-ই কিরাম উনাদের পরিচিতি:
হযরত বিবি ফিদ্দাহ রহমতুল্লাহি আলাইহা
, ২১শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৫ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ২২ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ০৮ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত শায়েখ আবুর রবী মালেকী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি এক নেক বখ্ত্ গ্রাম্য মহিলার কথা শুনেছিলাম।
উনার কারামতের শোহরত শুনে আমি উনার সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা পোষণ করতে লাগলাম। এই আরিফা মহিলার নাম ছিলেন ফিদ্দাহ রহমতুল্লাহি আলাইহা।
আমি যখন সেই গ্রামে পৌঁছলাম যেখানে এই আরিফা মহিলা বাস করতেন, তখন লোকেরা বললো, উনার নিকট একটি বকরী রয়েছে, তিনি দুধ ও মধু ইহা থেকে দোহন করেন।
আমি একটি নতুন পেয়ালা ক্রয় করে নিলাম এবং সেই আরিফা মহিলার নিকট পৌঁছলাম। উনাকে সালাম দিলাম, অতঃপর উনাকে বললাম, আমি আপনার সেই বকরী দেখতে চাই যার ব্যাপারে লোকদের মধ্যে শোহরত হয়েছে, সেই বকরীটি নিয়ে আসুন।
আমি আমার নতুন পেয়ালায় ইহার দুধ দোহন করলাম। ইহা দুধ ও মধু মিশ্রিত ছিলো।
আমি এ বিষয়ে উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, আমার নিকট একটি বকরী ছিলো, আমরা গরীব লোক, ঈদের দিনে আমার আহাল বা স্বামী, যিনি একজন নেককার লোক; বললেন, আজ আমরা এই বকরীটি কুরবানী দিবো।
আমি বললাম, না; কারণ কুরবানী না দেয়ার ইজাযত আমাদের আছে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের অভাব অনটন সম্পর্কে ওয়াকিফহাল আছেন। এই বকরীটি আমাদের নিজেদের জন্য প্রয়োজন রয়েছে।
ঘটনাক্রমে সেই রাত্রেই মেহমান এসে যায়। আমি আমার আহালকে বললাম, মেহমানের সম্মান ও ইজ্জত করার জন্য আমাদেরকে হুকুম দেয়া হয়েছে। আপনি গিয়ে সেই বকরীটি যবেহ করে নিন। কিন্তু এমন স্থানে যবেহ করতে হবে যেন ছেলেরা না দেখে, আর তারা না কাঁদে।
আমার আহাল বকরীটি বাইরে নিয়ে গেলেন যেন দেয়ালের নীচে ইহাকে যবেহ করেন। আমি দেখতে পেলাম একটি বকরী দেয়াল টপকিয়ে ঘরে ঢুকে পড়লো। আমি ধারণা করলাম, বকরীটি আমার আহালের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে এসেছে। আমি যখন বাইরে আসলাম, দেখতে পেলাম আমার আহাল যবেহকৃত বকরীটির চামড়া ছাড়াচ্ছেন। আমি খুবই আশ্চর্যান্বিত হলাম এবং সব ঘটনা আমার আহালকে অবহিত করলাম।
তিনি বললেন, সম্ভবতঃ মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত বকরীটি থেকে আরো উত্তম বকরী পাঠিয়েছেন, কেননা আমরা মেহমানের খেদমত করেছি সেজন্য।
অতঃপর হযরত ফিদ্দাহ রহমতুল্লাহি আলাইহা বললেন, আয় ফরযন্দ! এই বকরী মুরীদগণের অন্তরে চারণ করে। যখন তাদের অন্তর ভাল থাকে তখন ইহার দুধও ভাল থাকে।
আর যখন তাদের অন্তর খারাপ হয়ে যায় তখন ইহার দুধও খারাপ হয়। সুতরাং আপনি খুশি থাকুন যে, আপনি উত্তম দুধ পেয়েছেন।
হযরত ইমাম ইয়াফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত ফিদ্দাহ রহমতুল্লাহি আলাইহা মুরীদগণের নাম ব্যবহার করেছেন।
এতে উদ্দেশ্য হলো উনার নিজ আহাল বা স্বামী। শুধু নিজেদের অবস্থা গোপন করার জন্য তিনি এরূপ বলেছেন। আর মুরীদগণের অন্তরকে পাক রাখার বিষয়ে উৎসাহ দিলেন।
উদ্দেশ্য এই যে, যদি আমাদের অন্তর পাক পবিত্র থাকে, তবে যা কিছু আমাদের অধিকারে রয়েছে তা সবই উত্তম। সুতরাং আপনিও আপনার অন্তর উত্তম রাখুন, যাতে যা কিছু আপনার নিকট রয়েছে তাও পাক পবিত্র ও উত্তম থাকে। (নাফাহাতুল উনস, পৃষ্ঠা ৮৯১)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনভী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












