‘এক কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই’, সেই অডিওতে ফেঁসে গেছেন পুলিশ কর্মকর্তা
, ২৮ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) দেশের খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছয় বছর আগে ঢাকায় সিআইডির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আকসাদুদ-জামানকে অপহরণ করে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় এসেছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মর্যাদার কর্মকর্তা কায়সার রিজভী কোরায়েশী। ওই ঘটনায় আকসাদুদ-জামানের স্ত্রী তাহমিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ কর্মকর্তা কায়সার কোরায়েশীর মধ্যে মুঠোফোনের কথোপকথনের একটি অডিও তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাহমিনা ইয়াসমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘১ কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই। আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ১৪ লাখ দিছি না?’
ঘটনাটি নিয়ে বিভাগীয় মামলার তদন্ত শেষে সম্প্রতি কায়সার কোরায়েশীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং তার টিমের (দল) অন্য পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। কায়সার কোরায়েশী এখন উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদর দপ্তরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত।
বিভাগীয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিকের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী।
গত শনিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কায়সার কোরায়েশীসহ তার দলের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিভাগীয় মামলার তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কায়সার রিজভী কোরায়েশী ছাড়া শাস্তির সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জাহিদুর রহমান, মিজানুর রহমান, এসআই মাসুদুল ইসলাম, এএসআই প্রকাশ চন্দ্র গুহ ও জুলহাস মিয়া এবং কনস্টেবল মাসুদ রানা।
সিআইডি কর্মকর্তাকে অপহরণ ও ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় এডিসি কায়সার কোরায়েশীকে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে; শাস্তির মুখে পড়েছেন তার দলের আরও ৫ সদস্য।
বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর তদন্তসংশ্লিষ্ট ৭, ৮ ও ১১ বিধিসহ প্রাসঙ্গিক অন্য বিধিবিধান অনুসরণ করে কায়সার কোরায়েশীকে বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (ক), ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) বিধি মোতাবেক অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ দুর্নীতিকে গুরুতর অসদাচরণ বা অনিয়ম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। যার ফলে বরখাস্ত বা অপসারণের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরকারি পদের অপব্যবহারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। যার জন্য ফৌজদারি মামলাসহ বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে ফৌজদারি মামলা ও গ্রেপ্তারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুর রহমানের গুরুদ- হিসেবে এক বছর এবং পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমানের এক বছর পদোন্নতি বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুল ইসলামকে লঘুদ- হিসেবে ১ মাসের, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) প্রকাশ চন্দ্র গুহকে ১৫ দিনের, এএসআই জুলহাস মিয়াকে ১৫ দিনের এবং কনস্টেবল এস এম মাসুদ রানার লঘুদ- হিসেবে ৩ দিনের বেতন কাটার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের সদস্যদের দায়ভার কায়সার কোরায়েশীর ওপর বর্তায়। অবৈধ কার্যক্রমের দায়ভার তিনি কোনোভাবে এড়িয়ে যেতে পারেন না। তার গাফিলতি ও যোগসাজশে সম্মিলিতভাবে একটি টিম হিসেবে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার অপচেষ্টায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপরাধ করেছিল। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গত সোমবার যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) কে এম আওলাদ হোসেন বলেন, ‘কায়সার কোরায়েশীসহ ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার প্রতিবেদন ফাইল আমি এখনো হাতে পাইনি। সিস্টেমিক ওয়েতে ফাইল আমার কাছে যখন আসবে, তখন আমি এ নিয়ে কথা বলতে পারব।’
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, কায়সার কোরায়েশীর বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে।
বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ফৌজদারি অপরাধ। সে ক্ষেত্রে ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তার দলের বিরুদ্ধে মামলা ও তাদের জেল হবে। কিন্তু তা না করে পুলিশ কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলা একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর সর্বোচ্চ সাজা চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ রফতানিকারকদের
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ৫০ লাখ, দুর্ঘটনা কমাতে চলছে অভিযান
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরম, স্বস্তি মিলতে পারে ২০ জুনের পর
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
এক লাফে সোনার দাম ভরিতে বাড়লো ৫৪৮২ টাকা
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নাফনদী থেকে ৭ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
রাজধানীতে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দুই সন্তানের বেশি হলে ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি’ সীমিত করার বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক -শিক্ষামন্ত্রী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অকেজো রেললাইন নিলামে বিক্রি করা হয় না কেন, প্রশ্নে যা জানালেন মন্ত্রী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গণমাধ্যমকে নিখুঁত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন -তথ্যমন্ত্রী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা, ছাঁটাই প্রস্তাব ৩০৪টি
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দাম-ক্রেতা সংকটে ফেরত ৩০ হাজার গরু, দুশ্চিন্তায় পাবনার খামারিরা
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












