১০ই রবীউছ ছানী সর্বপ্রকার মুহাব্বত মুবারক, সন্তুষ্টি মুবারক পাওয়ার উছিলাহ মুবারক
, ১৩ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৭ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
১০ই রবীউছ ছানী বিলাদতে" সাইয়্যিদুনা হযরত "শাহ নাওয়াদা সাইয়্যিদুল উমাম আলাইহিস সালাম" যিনি পৃথিবীর বুকে তাশরীফ গ্রহন করে নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি নিছবত হাছিল করার সর্বশ্রষ্ঠ নিয়ামত মুবারক আমাদের সকল জিন- ইনসানকে দান করলেন, কারণ কেউ যদি সর্বপ্রকার মুহাব্বত, সন্তুষ্টি, দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত কামিয়াবী, এবং ক্ষুধার্ত হয়েও যদি নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে খাদ্য চায় সেটাও মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধম্য দিয়ে পেতে হবে “আলহামদুলিলাহ” আমরা সকল গোলামেরা সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম,সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত মুজীরাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের উছিলায়ে পেয়েছি ১০ই রবীউছ ছানী বিলাদতে" সাইয়্যিদুনা হযরত "শাহ নাওয়াদা সাইয়্যিদুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি হলেন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যমণি আর তিনি মহান আল্লাহ পাক ও নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পাওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ উছিলা মুবারক । আর মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে বান্দার মনের চাওয়া পূরণ করা হয় যা ৩শ হিজরীর মধ্য ভাগে একজন অন্ধ প্রখ্যাত ক্বারী (আল-মুকরী), মুহাদ্দিছ ও সম্মানিত শাফেয়ী মাযহাবের ফক্বীহ নিজেই বর্ণনা করেন
٨٠ - سمعتُ أبا الفضل أحمد بن عبد الكريم بن مقاتل القيرواني المقرئ بالثغر يقول : سمعتُ القاضي أبا العباس أحمد بن عمر بن أحمد الباجي بتونس يقول : سمعتُ أبا العباس أحمد بن نفيس المقرئ الضرير التونسي يقول : رأيتُ النبيَّ ﷺ في المنام بمصر بعد رجوعي من الحجاز وتوجّهي إلى المغرب فقال : أوجشتَنا يا أبا العباس وذلك أني كنتَ أُكثر من قراءةِ القرآن عند ضريحه بالمدينة
قال الباجي فقلتُ له : كم قرأتَ من ختمةٍ عند قبره يا أستاذ فقال : ألف ختمة .
وقال : جعتُ بالمدينة ثلاثةَ أيامٍ فجئتُ إلى القبر فقلتُ : يا رسولَ الله ﷺ جعتُ ثم نمتُ ضعفاً فركضتني جاريةٌ برجلهَا فقمتُ إليها فقالت : اعزَم . فقمتُ معها إلى دارِها فقدّمت إليَّ خبزَ بُرٍّ وتَمراً وسَمناً وقالت كُلْ أبا العباس فقد أمرني بهذا جَدِّي ﷺ ومتى
جِعْتَ فَأْتِ إِلَيْنَا . قَالَ أَبُو الفَضْلِ : وَالبَاجِيُّ هَذَا مِنْ بَاجَةَ إِفْرِيقِيَّةَ لَا مِنْ بَاجَةَ الأَنْدَلُسِ .
অনুবাদ: ৮০ – আমি হযরত আবুল ফদ্বল আহমদ বিন আব্দুল কারীম বিন মুকাতিল আল-কায়রাওয়ানী আল-মুকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সীমান্তবর্তী শহরে (আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি তিউনিসের হযরত কাজী আবুল আব্বাস আহমদ বিন উমর বিন আহমদ আল-বাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হযরত আবুল আব্বাস আহমদ বিন নাফীস আল-মুকরী অন্ধ তিউনিসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন (১) আমি হিজাজ থেকে ফিরে মরক্কোর উদ্দেশ্যে রওয়ানাপথে মিসরে স্বপ্ন মুবারকে নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত মুবা্রক নছিব হলে, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: হে আবুল আব্বাস! আপনি আমাদেকে বিরহ-কাতর করেছেন; আর তা এ কারণে যে, আপনি পবিত্র মদিনা শরীফে আমার মহাপবিত্র রওজা শরীফ উনার কাছে বেশি বেশি মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ তেলাওয়াত করতেন। হযরত আল-বাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম: 'হে শায়েখ আপনি নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মনিত রওজা শরীফ উনার পাশে কতবার মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ খতম করেছেন?' তিনি বললেন: ১,০০০ বার খতম করেছি।' এবং তিনি আরো বর্ণনা করেন : 'আমি পবিত্র মদিনা শরীফে তিন দিন ক্ষুধার্ত ছিলাম; অতঃপর মহাসম্মনিত রওজা শরীফ উনার কাছে গিয়ে আরজ করলাম: আয় মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি ক্ষুধার্ত। এরপর দুর্বলতায় ঘুমিয়ে পড়লাম, তখন এক সম্মানিত ব্যক্তি এসে পা দিয়ে আমাকে ধাক্কা দিল। আমি উঠে দাঁড়ালে তিনি বললেন: চলুন। আমি উনার সাথে উনার বাড়িতে গেলাম, তিনি আমাকে গমের রুটি, খেজুর ও ঘি খেতে দিলেন এবং বললেন: খেয়ে নেন,হে হযরত আবুল আব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি কারণ আমার মহাসম্মনিত হযরত নানাজান (নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এটা করতে বলেছেন এবং আমাকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন, যখনই আপনি ক্ষুধার্ত হবেন, আমাদের কাছে চলে আসবেন। হযরত আবুল ফদ্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: আর এই হযরত 'আল-বাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি হলেন আফ্রিকা (তিউনিসিয়া)-এর 'বাজাহ' অঞ্চলের অধিবাসী, আন্দালুসিয়ার (স্পেন) 'বাজাহ' অঞ্চলের নন।( معجم السفر "মু'জামুস সাফর" কিতাবের- ৩৫ নং পৃষ্ঠার ৪৪ নং বর্ণনা)।
(১) মূল বর্ণনা কারীর পরিচিতি : হযরত আবুল আব্বাস আহমদ বিন নাফীস আল-মুকরী অন্ধ তিউনিসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত: ৩৫৩ হিজরী, বিছাল: ৪৫৩ হিজরী )- তিনি একজন অন্ধ প্রখ্যাত ক্বারী (আল-মুকরী), মুহাদ্দিছ ও সম্মানিত শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহ ছিলেন, তিনি তৎকালীন সময়ের একজন প্রখ্যাত কিরাআত বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং উনার নিকট থেকে বহু বিখ্যাত আলিম ও মুহাদ্দিছ কিরাআত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ রেওয়ায়াত করেছেন। দলীলসমূহ -
معجم السفر "মু'জামুস সাফর"
লেখকের للإمام الحافظ أبي طاهر أحمد بن محمد السلفي المتوفى سنة ٥٧٦ هـ
"ইমাম হাফিজ আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সিলাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি-( বিলাদত শরীফ- ৪৮৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৫৭৬ হিজরী)- তিনি বিখ্যাত কিতাব 'মু'জামুস সাফর' (معجم السفر), লিখক, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও ফিকহ সংগ্রহের জন্য তিনি সমকালীন শীর্ষ কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ করেন এবং বিশ্বভ্রমণকালে দেখা পাওয়া সম্মানিত আলিম, সুফি, কবি ও উস্তাদদের পরিচয় ও সনদ সংকলন করেছেন। মিসরের ফাতিমী শাসক ও উজিরদের অনুরোধে আলেকজান্দ্রিয়ায় উনার জন্য "মাদরাসা আল-আদিলিয়া" প্রতিষ্ঠা করা হয়, যেখানে তিনি জীবনের শেষ পাঁচ দশক পবিত্র হাদিছ বর্ণনাকারী ও শীর্ষ শিক্ষক হিসেবে অবস্থান করেন।
এই ঘটনা থেকে আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- দায়িমীভাবে সাইয়্যিদুনা শাহ নাওয়াদা সাইয়্যিদুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার গোলামী মুবারক করার মাধ্যমে উনাদের রেযামন্দী-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের কোশেশ করা। বিশেষভাবে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদত শরীফ উনার মহাসম্মানিত দিবস মুবারক যথাযথ তা’যীম-তাকরীম ও মুহব্বতের সাথে পালন করার মাধ্যম দিয়ে উনাদের হাক্বীক্বী মুহব্বত-মা’রিফত, রেযামন্দী-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা। আর মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুসরণ মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও নাজাতের উছিলা। উনাদের মুহব্বত মুমিনের জীবনের নূর ও ইমানের মূল ভিত্তি ।
তাই কবি বলেন : -ফিদাকা মালিকে - মুহতারাম কুরবানীতে প্রস্তুত - সুবহ শাম শামিয়ানা বানিয়ে পাক শানে ইশকের বাহারী ইন্তেজাম আজ লক্ষ জবানে ধুম আজ বক্ষ মাঝে রুমঝুম আমীর ইবনুল আমীর লাব্বাঈক সালামু আলাইকুম
-শাহযাদায়ী শেহযাদা - সুলতান শাহ আরূসী মায়াবী - মুসকান নূর তাশরীফে মিষ্টি মহরত বিছিয়ে বাদামী দস্তুরখান আজ লক্ষ জবানে ধুম আজ বক্ষ মাঝে রুমঝুম আমীর ইবনুল আমীর লাব্বাঈক সালামু আলাইকুম!!!
-খন্দকার মুহম্মদ আরিফ হাসান
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
রহমতের অমরাবতী, নূরের তজাল্লি ও কুদরতি নূরুত তাশরীফ মুবারক ঈদে নূরুত তাশরীফে শাহেন শাহ আলাইহিস সালাম
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে সম্মানিত শাফায়াত মুবারক লাভ
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির সমস্ত কামিয়াবীর সোপান (১ম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৪)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ। খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৩)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












