জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
বিলাদত শরীফ: ৫৯১ খৃ: বিছাল শরীফ: ৩৩ হিজরী (৬৫৩ খৃ:) বয়স মুবারক: ৬৩ বছর
, ৫ই শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৮ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ২২ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পরিচিতি:
নাম মুবারক- আবদুল্লাহ, কুনিয়াত বা উপনাম মুবারক- আবু আবদির রহমান, পিতা- মাসঊদ এবং মাতার নাম উম্মু আবদ্। লোকে উনাকে ইবনু উম্মে আবদ্ বলে ডাকত। পবিত্র মক্কা শরীফের হুযাইল গোত্রের লোক। নসবনামা মুবারক- মুদার বিন নিযার আলাইহিমুস সালাম পর্যন্ত প্রলম্বিত। বনু যুহরার হালীফ (মিত্র), একজন মুহাজির বদরী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। প্রথম পর্যায়ের দ্বীন ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। বদরের জিহাদে অংশগ্রহণকারী, দুইবার হিজরতকারী, উম্মতের একজন বিশিষ্ট আলিম ও ফক্বীহ ছাহাবী; এজন্য উনার মশহুর ও প্রসিদ্ধ লক্বব মুবারক হচ্ছেন ফক্বীহুল উম্মত। বেমেছাল উনার ফযীলত মুবারক।
দ্বীন ইসলাম গ্রহণ:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বাল্যকালে কুরাইশ গোত্রের এক সর্দার উকবা ইবনে আবী মুঈতের বকরী চরাতেন। একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা ঘটনাক্রমে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যে মাঠে বকরী চরাচ্ছিলেন, সেখান দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। উনারা পানীয় পান করার ইচ্ছা মুবারক পোষণ করলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বকরীর রাখালের নিকট দুগ্ধ চাইলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যেহেতু উনাদেরকে চিনেননি, তাই বললেন যে, তিনি মুনিবের আমানতদার মাত্র, কাজেই দুধ দিতে পারবেন না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এমন কোনো বকরী আছে যে পাঠার সংস্পর্শে আসেনি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; এবং তদ্রুপ একটি বকরী ধরে এনে পেশ করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উহার ওলানের উপর পবিত্র নূরুল মাগফিরাত বা হাত মুবারক বুলিয়ে দোয়া মুবারক করলেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই ওলান দুগ্ধপূর্ণ হয়ে স্ফীত হয়ে উঠলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উহা হতে প্রচুর দুধ দোহন করলেন এবং উনারা তৃপ্তি সহকারে পান করলেন।
এই ঘটনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিস্মিত হয়ে যে অলৌকিক কালাম বা দোয়া মুবারক দ্বারা ইহা সম্ভব হয়েছে তা উনাকে শিখাবার জন্য আরজি পেশ করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সস্নেহে উনার মস্তকে পবিত্র নূরুল মাগফিরাত বা হাত মুবারক রেখে বললেন, আপনি যথার্থ সুশিক্ষিত বালক।
দ্বীন ইসলামে উনার সাথে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পরিচিতির এটাই প্রথম ঘটনা। এই ঘটনায় আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাদেরকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার যেমন ভাল লেগেছিলো, তেমনি উনাদের কাছেও ছেলেটির আচরণ, আমানতদারী ও বিচক্ষণতা খুব চমৎকার মনে হয়েছিলো। ইহার অল্প কিছুদিন পরই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম:
ইসলাম গ্রহণ করার পর হতেই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নিজেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম হিসাবে নিবেদিত করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে স্বীয় খাদিম হিসাবে নিয়োগ দেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছায়ার মত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করেন। সফরে বা ইক্বামতে, হুজরা শরীফের অভ্যন্তরে বা বাহিরে সব সময় তিনি উনার সাথে থাকতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নূরুল মুত্বমাইন্নাহ্ মুবারক অর্থাৎ নিদ্রা মুবারকে গেলে উনাকে পাহারা দিতেন, মহাসম্মানিত নূরুশ শাওকাত মুবারক অর্থাৎ গোসল মুবারকের সময় পর্দা করতেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাহিরে যাওয়ার সময় মহাসম্মানিত নূরুল ফখ্র মুবারক অর্থাৎ না’লাইন শরীফ পরিয়ে দিতেন, আবার হুজরা শরীফে প্রবেশের সময় না’লাইন শরীফ খুলে দিতেন এবং উনার লাঠি মুবারক ও মিসওয়াক মুবারক বহন করতেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন হুজরা শরীফে অবস্থান করতেন তখনও উনার কাছে যাতায়াত করতেন। অর্থাৎ সার্বিক খিদমত মুবারকের আনজাম দিতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে যখনই ইচ্ছা উনার কাছে প্রবেশ এবং কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও সংকোচ না করে উনার সকল বিষয় অবগত হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। এ কারণে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ‘ছাহিবু সির’ বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাবতীয় গোপন বিষয়ের অধিকারী বলা হয়। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












