সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সংক্ষেপে বা ইশারা-ইঙ্গিতে পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখা নাজায়িয, চরম বেয়াদবী ও কুফরী (৪)
, ০৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ১০ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
সংক্ষেপে দুরূদ শরীফ লেখা চরম বেয়াদবী:
এমনকি কেউ যদি দুরূদ শরীফ লেখতে গাফলতি করে এটা কুফরী পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। যেমন- ‘হাশিয়াতুত্ব ত্বাহত্বাহবী আলাদ দুররিল মুখতার’ কিতাবে ‘তাতারখানীয়া’ কিতাবের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে-
من کتب علیه السلام بالهمزة والمیم یکفر لانه تخفیف و تخفیف الانبیاء کفر بلا شك
অর্থ: “যে ব্যক্তি আলাইহিস সালাম কে হামযা ও মীম দ্বারা লিখলো সে কুফরী করলো। কেননা এটা হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল। আর হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা সন্দেহাতীতভাবে কুফরী। ” নাঊযুবিল্লাহ! (হাশিয়াতুত্ব ত্বাহত্বাহবী আলাদ দুররিল মুখতার ১/৬, ফাতওয়ায়ে তাতারখানিয়া)
হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে সংক্ষেপে দুরূদ শরীফ লেখা যদি কুফরী হয়। তাহলে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, যাঁর সম্মানার্থে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সৃষ্টি হয়েছেন, নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক লাভ করেছেন। উনার শানে সংক্ষেপে দরূদ শরীফ লেখা উনার কতটুকু শান মুবারক উনার খিলাফ হবে, কোন পর্যায়ের কুফরী হবে এবং কত বড় বেয়াদবী হবে সেটা বান্দা-বান্দী, উম্মতের চিন্তা ও ফিকির করতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
সংক্ষেপে পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কীকরণ:
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন-
قال حضرت حمزة الكتاني رحمة الله عليه كنت أكتب عند ذكر النبي صلى الله عليه و سلم الصلاة دون السلام فرأيت النبي صلى الله عليه و سلم في المنام فقال لي مالك لا تتم والرمز إليهما في الكتابة بل يكتبهما بكمالهما
অর্থ: “হযরত ইমাম হামযা আল কাত্তানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক লেখার সময় সালাম বাদ দিয়ে শুধু ছলাত লিখতাম। অতঃপর একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্ন মুবারকে দেখলাম। তিনি আমাকে বলছেন, তোমার কি হলো যে, তুমি দুরূদ শরীফ পূর্ণ করে লিখো না? (তিনি বলেন, এরপর থেকে) পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার সময় তিনি কখনো সংক্ষেপে লিখতেন না। বরং ছলাত ও সালাম দুইটাই পূর্ণ করে লিখতেন। ” সুবহানাল্লাহ! (তাদরীবুর রাবী ২/৭৬-৭৭, শরহুত তাবছিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ্ ১৫৩ নং পৃষ্ঠা)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
وعن حضرت أبي سليمان محمد بن الحسين الحراني رحمة الله عليه قال قال رجل من جواري يقال له الفضل وكان كثير الصوم والصلاة كنت أكتب الحديث ولا أصلي على النبي صلى الله عليه وسلم فرأيته في المنام فقال لي إذا كتبت أو ذكرت لم لا تصلي علي ثم رأيته صلى الله عليه وسلم مرة أخرى من الزمان فقال لي بلغتني صلاتك علي فإذا صليت علي أو ذكرت فقل صلى الله عليه وسلم
অর্থ: হযরত আবূ সুলাইমান মুহম্মদ ইবনে হুসাইন হাররানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এক প্রতিবেশী ছিলেন যাকে ফদ্বল বলা হতো। যিনি অধিক পরিমাণে নামায ও রোযা আদায় করতেন। তিনি বলেন, আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ লিখতাম কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত দুরূদ শরীফ লিখতাম না। একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আমাকে বলছেন, তুমি যখন (আমার নাম মুবারক) লিখো অথবা তোমার নিকট যখন আমার নাম মুবারক উল্লেখ করা হয় তখন কেন আমার প্রতি সম্মানিত দুরূদ শরীফ পাঠ করো না। (এরপর আমি সম্মানিত দুরূদ শরীফ পাঠ করা শুরু করি। ) অতঃপর পুনরায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখি। তিনি আমাকে বললেন, তোমার দুরূদ শরীফ আমার নিকট পৌঁছেছে। এবং তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করলেন, যখন তুমি আমার প্রতি সম্মানিত দুরূদ শরীফ পাঠ করবে অথবা তোমার নিকট আমার নাম মুবারক উল্লেখ করা হবে তখন পাঠ করবে- ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। ” সুবহানাল্লাহ! (আত তারগীব ওয়াত তারহীব ২/৩২৮, জালাউল আফহাম ৪১১ নং পৃষ্ঠা, আল ক্বওলুল বদী’ ইত্যাদি)
হযরত আবূ সুলাইমান মুহম্মদ ইবনে হুসাইন হাররানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন-
رأيت النبي- صلى الله عليه وسلم- في المنام فقال لي يا حضرت أبا سليمان رحمة الله عليه إذا ذكرتني في الحديث فصليت علي إلا تقول وسلم وهي أربعة أحرف بكل حرف عشر حسنات تترك أربعين حسنة
অর্থ: “আমি একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে আবূ সুলাইমান! তোমার নিকট পবিত্র হাদীছ শরীফে যখন আমার নাম মুবারক উল্লেখ করা হয়। তখন তুমি আমার উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করো কিন্তু তাতে ওয়া সাল্লাম (এই অংশ) বলো না। এখানে ৪টি হরফ রয়েছে। প্রত্যেক হরফের বিনিময়ে দশটি করে নেকী রয়েছে। তুমি ৪০ নেকী ছেড়ে দিলে। ” (আত তারগীব ওয়াত তারহীব ২/৩২৮, আল ক্বওলুল বদী’)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৪)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবার
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের খুশি মুবারক প্রকাশ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৫)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ বিশেষ নিসবত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












