শীত নিবারনে কোন কোন পোশাক সম্মানিত সুন্নত মুবারক? এ বিষয়ে জানা ও ইত্তেবা (অনুসরণ) করা সকলের জন্য ফরয। (পর্ব-২)
, ২২ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৫ সাদিস, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
শীত নিবরানের জন্য আমরা সাধারণত দেখি বর্তমান সময়ে নতুন নকশার শীতের পোশাক কোনটা আসছে, কোন চাদরটি এখন বহুল জনপ্রিয় (ট্রেন্ডিং) এসব খুজে ফিরি। কিন্তু একবারও কি আমরা ভেবেছি যে, আমাদের যিনি প্রাণাধিক প্রিয় রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শীতের সময় কেমন পোশাক মুবারক পড়েছেন? তিনি নিজের ও পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য শীত নিবারণের কি কি ব্যবস্থা মুবারক নিয়েছেন? শীত নিবারনের জন্য ওহী মুবারক দ্বারা নাযিলকৃত সেই সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্নত মুবারক কি কি ছিল? প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এই বিষয়গুলো খুঁজে খুঁজে সুন্নত মুবারক অনুসরণ করা ফরয। সেই লক্ষ্যে শীত নিবারনের সুন্নতী লিবাসের বিষয়গুলো দলিলসহকারে আমরা ধারাবহিকভাবে জানবো ইনশাআল্লাহ। (পূর্ব প্রকাশিতের পর)
শীতের চাদর
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুই ধরনের মহাসম্মানিত চাদর মুবারক ব্যবহার করতেন। (১) ছোট চাদর, (২) বড় চাদর। ছোট চাদরের দৈর্ঘ্য ছিলো ৪ (চার) হাত। আর প্রস্থ ছিলো আড়াই হাত।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত চাদর মুবারক চার হাত লম্বা এবং আড়াই হাত প্রস্থ ছিলো। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-১৭১, আত তাবাকতুল কুবরা- ১/৪৫৮)
বড় চাদরের দৈর্ঘ্য ছিল ৬ হাত এবং প্রস্থ ছিল সাড়ে তিন হাত। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ফক্বীহ হযরত শায়েখ মাজদুদ্দীন মুহম্মদ ইবনে ইয়াকুব সিরাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো কখনো চাদর মুবারক পরিধান করতেন। সেই চাদর মুবারক উনার দৈর্ঘ্য ছিল ৬ হাত এবং প্রস্থ ছিল সাড়ে তিন হাত। (সিফরুস সায়াদাহ- ১৯৮)
চাদর মুবারক উনার রং
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিভিন্ন রঙের চাদর মুবারক পরিধান করেছেন। যেমন- কালো, সবুজ, সাদা, ঘিয়া, ধূসর, গন্ধম, খয়েরী। কখনো মোটা ও চিকন পাড় বিশিষ্ট, ডোরা কাটা, নকশা খচিত চাদর মুবারকও ব্যবহার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে -
হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে পথ চলছিলাম। সে সময় উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জিসিম মুবারক)-এ নাজরানের তৈরি মোটা পাড় বিশিষ্ট একখানা চাদর মুবারক ছিল। (বুখারী শরীফ, আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
অর্থ: “যে মুবারক পোশাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ দিতেন তা ছিলেন সবুজ রঙের। সেই মহাসম্মানিত চাদর মুবারক উনার দৈর্ঘ্য ছিল চার হাত আর প্রস্থ ছিল আড়াই হাত। (মুসলিম শরীফ)
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গন্দম রঙয়ের একখানা চাদর মুবারক ছিল। তিনি তা দুই ঈদ এবং পবিত্র জুমুআর দিন পরিধান মুবারক করতেন। (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-১৯৭)
উল্লেখ্য যে, حُلَّةٌ حَمْرَاءُ অর্থ: গন্দম বা সোনালী রঙ। কেউ কেউ লাল ডোরা বিশিষ্ট অর্থ করে থাকে। যা শুদ্ধ নয়। কেননা হানাফী মাযহাবে উহাকে গন্দম রঙ বলেই অর্থ করা হয়েছে। (বিস্তারিত জানতে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১৫৩-১৫৪ তম সংখ্যার ফতওয়া বিভাগ পাঠ করুন)
ছোট চাদর ও বড় চাদর পরিধান করার সুন্নতী নিয়ম
হযরত জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন- হে জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আমি বলি- লাব্বাইকা, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বলেনঃ যখন তোমার চাদর বড় হবে তখন তা তোমার কাঁধের দুই পাশে জড়িয়ে রাখবে।(মুসলিম শরীফ, সুনানে আবূ দাউদ শরীফ)।
পুরুষ ও মহিলাদের, ছোট-বড় সবধরনের সুন্নতী চাদর আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রে পাওয়া যায়। এখান থেকে সংগ্রহ করলে হক্বীকীভাবে সুন্নত মুবারক ইত্তেবা হবে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা সহজ হবে।
পরবর্তী পর্বে আমরা শীতের জুব্বা সম্পর্কে জানবো ইনশাআল্লাহ।
-মুহম্মদ ইবরাহীম সোহেল
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিবাহের ক্ষেত্রে ওয়ালিমা একখানা বিশেষ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তরীক্বায় বিবাহের মোহর
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিবাহের ক্ষেত্রে কুফু বা সমকক্ষতা রক্ষা করা পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিবাহের পূর্বে বরকে ও কনেকে দেখার সম্মানিত শরয়ী অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিবাহের প্রস্তাব দেয়া এবং সম্মতি জ্ঞাপন করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিবাহের ক্ষেত্রে কুফু বা সমকক্ষতা রক্ষা করা পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিবাহ-শাদীর গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তরীক্বাহ (৩)
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিবাহ-শাদীর গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিবাহ-শাদীর গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী আসবাবপত্রের পরিচয় ও ব্যবহার করার গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












