শিশুদের আনন্দ সামগ্রীতে ‘বিষ’, কীভাবে চলবে নজরদারি?
, ১৮ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৫ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২০ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) দেশের খবর
নিজস্ব সংবাদদাতা:
দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো শিশুদের আনন্দ সামগ্রীর নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে শিশুদের আনন্দ সামগ্রী উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, কীভাবে মান নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি চলবে-সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
গত ২৩ জুন শিল্প মন্ত্রণালয় শিশুদের আনন্দ সামগ্রীসহ প্লাস্টিক ফিডিং বোতল, এলইডি লাইট, ভুট্টার ভোজ্যতেল, কংক্রিটের ব্লক, কৃত্রিম তন্তুর শাড়ি এবং নারী ও মেয়েদের পোশাকের কাপড়-এই সাতটি পণ্যের জন্য নতুন বা সংশোধিত বাংলাদেশ মান (বিডিএস) বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এসব মান বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের ব্যবহৃত আনন্দ সামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশে উৎপাদিত ও আমদানি করা সব আনন্দ সামগ্রী বাজারজাতের আগে নির্ধারিত নিরাপত্তা মান পূরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে, আনন্দ সামগ্রীয় এমন কোনও উপাদান থাকবে না, যা শিশুদের শ্বাসরোধ, বিষক্রিয়া, আগুন বা শারীরিক আঘাতের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
বাজার থেকে মানহীন আনন্দ সামগ্রী সরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিএসটিআই। সংস্থাটি বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়মিত পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ে তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে শিশুদের জন্য নিরাপদ আনন্দ সামগ্রী নিশ্চিত করতে চায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসটিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আনন্দ সামগ্রীর জন্য বাংলাদেশে নির্ধারিত মান (স্ট্যান্ডার্ড) রয়েছে। কোনও আনন্দ সামগ্রী যদি ওই মানের সব শর্ত পূরণ করে, তাহলে সেটিকে মানহীন বলা যাবে না। বাংলাদেশে আনন্দ সামগ্রীর জন্য যে মান প্রণয়ন করা হয়েছে, তা মূলত আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আনন্দ সামগ্রীর মান নির্ধারণের জন্য বিএসটিআইয়ের একটি জাতীয় কারিগরি কমিটি রয়েছে, যার নাম ‘রাবার অ্যান্ড প্লাস্টিক কমিটি’। যেহেতু অধিকাংশ আনন্দ সামগ্রীয় প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, তাই আন্তর্জাতিক মান পর্যালোচনা করে বাংলাদেশে তা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি শিশুদের জন্য নিরাপদ আনন্দ সামগ্রী নিশ্চিত করতে এসব মান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’
তিনি জানান, আনন্দ সামগ্রীর জন্য চারটি মান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-দাহ্যতা (ফ্লেমেবিলিটি) পরীক্ষা, প্লাস্টিকে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক বিশেষ করে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ফথ্যালেট পরীক্ষা, হেভি মেটাল পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক্রোবায়াল পরীক্ষা।
তার ভাষ্য, ‘এই চারটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কোনও আনন্দ সামগ্রীকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং বাজারজাতের অনুমতি দেওয়া হবে। আনন্দ সামগ্রীর নমুনা বিএসটিআইয়ের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হবে এবং নির্ধারিত মানদ- পূরণ করলেই সেটিকে মানসম্মত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’
তিনি আরও জানান, প্রজ্ঞাপন জারির পর উৎপাদক ও আমদানিকারকদের লাইসেন্স নেওয়ার জন্য দুই মাস সময় দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এরপর লাইসেন্স না নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং আনন্দ সামগ্রী পরীক্ষা করা হবে। হেভি মেটাল পরীক্ষার জন্য ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আনন্দ সামগ্রীকে লাইসেন্স দেওয়া হবে, আর ব্যর্থ আনন্দ সামগ্রী লাইসেন্স পাবে না। লাইসেন্স দেওয়ার পরও বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়মিত পরীক্ষা ও মনিটরিং চলবে।
এই কর্মকর্তা বলেন, আনন্দ সামগ্রীতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রঙে প্রায়ই হেভি মেটাল, বিশেষ করে সিসা পাওয়া যায়। এসব সিসাযুক্ত রঙ অনেক সময় মিষ্টি হয়। তাই শিশুরা সেগুলো বেশি মুখে নেয়, যা তাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আনন্দ সামগ্রীর মান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাজারে নিরাপদ আনন্দ সামগ্রী নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন জারির পর কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে এই সময় গণনা করা হবে। এখন সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিএসটিআই চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও নোটিশ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘দুই মাসের সময়সীমা শেষ হলে লাইসেন্সবিহীন আনন্দ সামগ্রী বাজারজাত করা যাবে না। একই সময় থেকে বিএসটিআই মাঠপর্যায়ে তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করবে।’
তিনি জানান, লাইসেন্সিং কার্যক্রম বিএসটিআইয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা পরিচালনা করবে। আর মান প্রণয়ন, পরীক্ষা ও তদারকির কাজ বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বছরের পর বছর একই চিত্র, সড়ক নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে শহরবাসী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
স্বেচ্ছাশ্রমে জমির আইল হলো রাস্তা, স্বস্তিতে দুই গ্রামের মানুষ
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জুলাই-আগস্টে দেশে রয়েছে বন্যার আশঙ্কা
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ডার্ক ওয়েব-ক্রিপ্টোতে অপরাধ ঠেকাতে ‘সাইবার ফরেনসিক’
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ডিএমপির পাঁচ এডিসি ও এক এসিকে বদলি
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হাইকোর্টে একদিনেই নিষ্পত্তি ২,৪১১ পুরোনো মামলা
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হাইকোর্টে একদিনেই নিষ্পত্তি ২,৪১১ পুরোনো মামলা
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘চীন থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনার বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত’
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন -ফখরুল
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘সরকার এলপিজির দাম কমিয়েছে, ধাপে ধাপে জ্বালানির দামও কমবে’
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘জাল যার, পানি তার’ নীতিতে চলবে হাওর ও নদী ব্যবস্থাপনা -মৎস্য প্রতিমন্ত্রী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জুলাই-সংশ্লিষ্ট মামলায় বাহিনীর এজাহারভুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে রিট
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












