পবিত্র ই’জায শরীফ
বরকতের স্পর্শে দুধভরা ছাগী
, ০৪ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১০ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
পবিত্র মক্কা শরীফের এক কিশোর; তিনি তখনও যৌবনে পদার্পণ করেননি। কুরাইশ গোত্রের এক সর্দার, উকবা ইবনে আবূ মুয়ীতের একপাল ছাগল তিনি মক্কা শরীফের গিরিপথগুলোতে চরাতেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে উঠে উকবার ছাগলের পাল নিয়ে বের হয়ে যেতেন, আবার সন্ধ্যায় ফিরতেন।
একদিন এ কিশোর ছেলেটি দু’জন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন; চেহারায় বুযূর্গীর ছাপ বিরাজমান। উনারা দূর থেকে ছেলেটির দিকেই এগিয়ে আসছেন। উনারা পরিশ্রান্ত ও পিপাসার্ত ছিলেন। নিকটে এসে উনারা ছেলেটিকে সালাম জানিয়ে বললেন, “বৎস! এ ছাগলগুলো থেকে কিছু দুধ দোহন করে আমাদেরকে দিন। আমরা পান করে পিপাসা নিবারণ করি।”
কিন্তু ছেলেটি বললেন, “এটা তো আমার দ্বারা সম্ভব নয়। কারণ ছাগলগুলো আমার নয়। আমি এগুলোর রাখাল ও আমানতদার মাত্র।” বুযূর্গ ব্যক্তি দু’জন এই কথায় অসন্তুষ্ট হলেন না, বরং উনাদের মুখমন্ডলে একধরনের সন্তুষ্টির ছাপ ফুটে উঠলো। উনাদের মধ্যে প্রথম বুযূর্গ ব্যক্তি বললেন, “তাহলে এমন একটি ছাগী আমাকে দিন, যা এখনো পাঁঠার সংস্পর্শে আসেনি।” ছেলেটি নিকটেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছোট্ট ছাগীর দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলেন। প্রথম বুযূর্গ ব্যক্তি এগিয়ে গিয়ে ছাগীটি ধরে ফেললেন এবং “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম” বলে উনার মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) ছাগীটির ওলানে রাখলেন।
অবাক বিস্ময়ে ছেলেটি এ দৃশ্য দেখে মনে মনে বললেন, ‘কখনও পাঁঠার সংস্পর্শে আসেনি এমন ছোট ছাগী কি করে দুধ দেয়?’ কিন্তু কি আশ্চর্য! কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাগীটির ওলান ফুলে উঠলো এবং প্রচুর পরিমাণে দুধ বের হতে থাকলো। দ্বিতীয় বুযূর্গ ব্যক্তি তখন একটি গর্তবিশিষ্ট পাথর নিয়ে, তাতে দুধ ভর্তি করলেন। তারপর উনারা উভয়ে তা পান করলেন এবং ছেলেটিকেও উনাদের সাথে পান করালেন। তারপর সবাই যখন পরিতৃপ্ত হলেন, তখন প্রথম বুযূর্গ ব্যক্তি ছাগীটির ওলান লক্ষ্য করে বললেন, ‘চুপসে যাও।’ আর সাথে সাথে সেটি পূর্বের ন্যায় চুপসে গেলো। ছেলেটি যা কিছু দেখছিলেন, সবই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিলো। তিনি প্রথম বুযূর্গ ব্যক্তিকে অনুরোধ করলেন, ‘আপনি যে কথাগুলো উচ্চারণ করলেন, তা দয়া করে আমাকে শিখিয়ে দিন।’ কিন্তু প্রথম বুযূর্গ ব্যক্তি বললেন, “আপনি তো শিক্ষাপ্রাপ্ত বালক।”
এই প্রথম বুযূর্গ ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি হলেন, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর উনার সঙ্গী দ্বিতীয় বুযূর্গ ব্যক্তি হলেন, খলীফাতু রসূলিল্লাহ হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! কিশোর ছেলেটির যেমন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাদেরকে ভালো লেগেছিলো তেমনি উনাদের কাছেও ছেলেটির আচরণ, আমানতদারী ও বিচক্ষণতা চমৎকার মনে হয়েছিলো। এই ঘটনার অল্প কিছুদিন পরেই সেই কিশোর ছেলেটি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করেন।
সেই সৌভাগ্যবান কিশোর ছেলেটি হলেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই অনুসরণ করেন এবং উনারই মতো আচার-আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হন। এ কারণে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘হিদায়াত প্রাপ্তি, আচার-আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে তিনিই হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উত্তম ব্যক্তি।’ সুবহানাল্লাহ!
এই পবিত্র ই’জায শরীফ দ্বারা আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে, সততা ও দায়িত্ববোধ মানুষকে মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্যে পৌঁছে দেয়। ছাগলগুলো নিজের না হওয়ায় দুধ দিতে অস্বীকার করা ছিলো খাঁটি আমানতদারীর প্রমাণ। মহান আল্লাহ পাক তিনি এমন চরিত্রকে মুহব্বত করেন এবং সম্মানিত করেন। অন্যদিকে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকে অসম্ভব কোন কিছু সম্ভব হয় তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পবিত্র ই’জায শরীফ উনার মাধ্যমে দেখিয়ে দিলেন। উনার সম্মানিত আদবপূর্ণ ব্যবহার ও “বিসমিল্লাহ” বলার বরকত মুবারক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পথপ্রদর্শক। এই এক ই’জায শরীফই একটি মানুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে এবং উনাকে শ্রেষ্ঠ ছাহাবী উনাদের কাতারে পৌঁছে দেয়।
-খুবাইব আহমদ সাফওয়ান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৪)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবার
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের খুশি মুবারক প্রকাশ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৫)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ বিশেষ নিসবত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












