পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা” তথা অনুসরণ-অনুকরণ করার গুরুত্ব-তাৎপর্য এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৪)
, ২৭ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০৪ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
একটা বিদয়াত প্রচলন করলে যদি সেখান থেকে একখানা সুন্নত মুবারক বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং যারা বিদয়াত প্রচলন করবে তাদের জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যায়, তাহলে যারা একখানা সুন্নত মুবারক ইত্তিবা’ তথা অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে অবশ্যই একটি বিদয়াত প্রতিহত করার ফযীলত হাছিল করবে এবং অবশ্যই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেয়া হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। সুবহানাল্লাহ!
যারা পবিত্র সুন্নত মুবারক ইত্তিবা’ তথা অনুসরণ-অনুকরণ করবে, তাদের সমস্ত ‘আমল কুদরতময়ভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে:
এ সম্পর্কে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
یٰۤاَیُّها الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اَطِيْعُوا اللهَ وَاَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ وَلَا تُبْطِلُوْا اَعْمَالَكُمْ.
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তিবা তথা অনুসরণ-অনুকরণ করো। আর তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না। ” (পবিত্র সূরা মুহম্মদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
অর্থাৎ পবিত্র সুন্নত মুবারকের খিলাফ আমল করলে সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে, বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করলে সমস্ত আমল কুদরতময়ভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে। সুবহানাল্লাহ!
যারা পবিত্র সুন্নত মুবারক ইত্তিবা তথা অনুসরণ-অনুকরণ করবে, তাদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার খাছ উম্মত হিসেবে কবুল করবেন এবং তাদেরকে বিজাতী-বিধর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে কুদরতময়ভাবে হিফাযত করবেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَخَذَ بِسُنَّتِـىْ فَهُوَ مِنِّـىْ وَمَنْ رَّغِبَ عَنْ سُنَّتِـىْ فَلَيْسَ مِنِّـىْ.
অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নত মুবারক আঁকড়ে ধরে থাকবে, সে আমার (খাছ উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত হবে। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার পবিত্র সুন্নত মুবারক থেকে সরে যাবে, মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নয়। ” নাঊযুবিল্লাহ! (আল ফাতহুল কাবীর ৩/১৪৩, আল জামি‘উছ ছগীর ২/৩০৭, জামি‘উল আহাদীছ ৩৬/৪৫৩, কানযুল উম্মাল ১/১৮৪, মুখতাছরু তারীখে দিমাশক্ব ৫/১৩২ ইত্যাদি)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ.
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি যেই সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখবে, অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত হবে। অর্থাৎ তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে। ” নাঊযুবিল্লাহ! (আবূ দাঊদ, মুসনাদে আহমদ, মুসনাদুশ শিহাব ১/২৪৪, মিশকাত শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدِّهٖ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْـرِنَا.
অর্থ: “হযরত আমর বিন শু‘য়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতার থেকে এবং তিনি উনার দাদা (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ঐ ব্যক্তি আমার (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য রাখে। ” নাঊযুবিল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
যারা পবিত্র সুন্নত মুবারক ইত্তিবা’ তথা অনুসরণ-অনুকরণ করবে, অবশ্যই তাদের সমস্ত কথা, কাজ এবং নিয়ত সবচেয়ে সঠিক এবং অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ হবে:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَلْـحَسَنِ الْبَصْرِىِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ لَا يَسْتَوِىْ قَوْلٌ اِلَّا بِعَمَلٍ وَلَا يَصْلُحُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ اِلَّا بِنِيَّةٍ وَلَا يَصْلُحُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ وَنِيَّةٌ اِلَّا بِالسُّنَّةِ.
অর্থ: হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “কোনো কথা কখনো সঠিক হয় না আমল করা ব্যতীত। কোন কথা এবং আমল শুদ্ধ হয় না নিয়ত ব্যতীত। আর কোন কথা, আমল এবং নিয়ত শুদ্ধ হয় না পবিত্র সুন্নত মুবারক ব্যতীত। (যারা পবিত্র সুন্নত মুবারক ইত্তিবা তথা অনুসরণ-অনুকরণ করবে, তাদের কথা, আমল এবং নিয়ত সমস্ত কিছু সবচেয়ে সঠিক হবে। )” সুবহানাল্লাহ! (মাফাতীহুস সুন্নাহ ফিল ইহতিজাজে বিস সুন্নাহ লিস সুয়ূত্বী ১/৬৪, আল বাদরুল মুনীর ২/৬২৯, রিয়াদ্বুল জান্নাহ বি তাখরীজি উছূলিস সুন্নাহ ১/২০৯ ইত্যাদি) (অসমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












