পদ্মার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে কয়েক গ্রাম
, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) তাজা খবর
রাজশাহী সংবাদদাতা:
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভারত সীমান্তবর্তী চার ইউনিয়নে প্রতিদিন তীব্র হচ্ছে পদ্মার ভাঙন। নদীর স্রোতে হারিয়ে গেছে শত শত বসতবাড়ি, হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভাঙনের ফলে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বিজিবির ক্যাম্পও ভাঙন ঝুঁকিতে আছে। সব মিলিয়ে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ পদ্মা পাড়ের মানুষের দিনরাত কাটছে ভাঙন ও অস্তিত্ব হারানোর আতঙ্কে। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকেও হারাতে বসেছে পদ্মা পাড়ের কয়েকটি গ্রাম। দিশাহারা অবস্থায় আছে নদীপাড়ের অন্তত এক হাজার পরিবার।
ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই বছরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ও দেওপাড়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চর আলাতুলি ও চর দেবীনগর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম গত দুই বছরে বিলীন হয়েছে পদ্মায়। ভাঙনের কারণে কেউ কেউ একাধিকবার বাড়িঘর সরিয়েছেন দূরে। তারপরও রেহাই মেলেনি। তাদের বাকি সম্বলও এখন ঝুঁকির মুখে। এ অবস্থায় সাময়িক প্রতিরক্ষা নয়, এখন জরুরিভাবে দরকার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। স্থায়ী সমাধান না হলে অচিরেই পুরো সীমান্তবর্তী গ্রাম ও অবকাঠামোগুলো বিলীন হয়ে যাবে। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে কয়েকটি গ্রাম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর আলাতুলি ইউনিয়নের কৃষক ছিদ্দিক বলেন, ‘একসময় আমাদের গ্রামে এক হাজারের বেশি বাড়ি ছিল। এখন অর্ধেকও নেই। পদ্মা সব নিয়ে গেছে। বাকি যারা আছি, জানি না কয়দিন থাকতে পারবো। আমরা চাই টেকসই বাঁধ। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে আমাদের অস্তিত্ব টিকবে না।’
দেবীনগর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মারফত আলী বলেন, পদ্মার ভাঙনে প্রতিনিয়ত সঙ্কুচিত হচ্ছে গ্রামগুলো। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে পোলাডাঙ্গ ও হরমা গ্রাম। ভাঙনের কারণে সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিজিবি ক্যাম্পও ঝুঁকিতে পড়েছে। যদি ক্যাম্প নদীগর্ভে চলে যায় তবে সীমান্ত এলাকা কার্যত নিয়ন্ত্রণে নেবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এতে সীমান্ত নিরাপত্তায় ভয়াবহ সংকট তৈরি হবে।
দেবীনগর ইউনিয়নের হরমা গ্রামের আমিন আলী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা টেকসই হয়নি। যে ব্যাগে ২৫০ কেজি বালু ভরার কথা, সেখানে মাত্র ১০০ কেজি ভরে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। এভাবে কাজ করলে নদীকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, ‘ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চলছে। ভাঙন ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে স্রোত তীব্র হওয়ায় প্রতিরক্ষা কাজ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার ভাঙনে খোলা আকাশের নিচে ছয়টি পরিবার বসবাস করছে। গত ২৮ আগস্ট রাত ১০টার পর থেকে চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী পাড়ের এই পরিবারগুলো বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছে।
তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৮ আগস্ট রাত ১০টার দিকে প্রায় ১০০ মিটার এলাকার আম, মেহগনি গাছসহ তাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। হুমকিতে রয়েছে আরও ২০-২৫টি বাড়ি ও চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ফজলুল হক বলেন, চকরাজাপুর বলে কোনও চিহ্ন নেই। ইতোমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে। এই ওয়ার্ডের তিন ভাগের দুই ভাগ পদ্মায় চলে গেছে। এবার যে হারে ভাঙা শুরু হয়েছে, এভাবে ভাঙতে থাকলে আর কিছু দিনের মধ্যে এই ওয়ার্ডও বিলীন হয়ে যাবে।
একই কথা বলেছেন বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে ভাঙন। এবার যেসব জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে, তার সিংহভাগ জমিতে ছিল আম, মেহগনি গাছ ও বাড়িঘর। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ২৬২ জন। পরিবার ছিল চার শতাধিক। ভাঙনের কারণে অর্ধশতাধিক পরিবার বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে। অসহায়দের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করছি। এখন সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাবলু দেওয়ান বলেন, নদীভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে এখনও তারা কোনও উদ্যোগ নেয়নি।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, পদ্মার ভাঙনের বিষয়ে অবগত আছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পূর্বাঞ্চলীয় শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার রাশিয়ার দাবি অস্বীকার জেলেনস্কির
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বদলি নয়, চাকরিচ্যুত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরানীবাদে (নরসিংদীতে) পুকুরে ডুবে একই পরিবারের ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি: দেশের সব হাসপাতালে ৬ নির্দেশনা
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চাঁদপুরে এক ইলিশ বিক্রি হলো ২২ হাজার ৭৯৮ টাকায়
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আ. লীগের দাফন হয়েছে দিল্লিতে, আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘আমরা খামেনির রক্তের প্রতিশোধ নেব’, শোকাহত লাখো ইরানির হুঙ্কার
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আলী খামেনির কফিনের পাশে ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট কফিন
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












