নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পশু-পাখিদের মহব্বত ও সম্মান প্রদর্শনের কিছু নমুনা (২)
, ১৮ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়ার জন্য সমস্ত কায়িনাত, হাজারাত, শাজারাত, জিন-ইনসান, বনের পশু-পাখি সকলেই ব্যাকুল ছিলো। হযরত কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি তিনি উনার ‘আল বারাহীনুল ক্বতইয়্যিাহ’ কিতাবে ‘মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ’ কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের পর গাইব হতে নেদা হলো এই মুক্তা দানা সদৃশ্য একক মর্যাদা মুবারক উনার অধিকারী মহান বালক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতিপালন কে করবে? তখন পাখিরা বললো-
نَحْنُ نَكْفُلُهُ وَنَغْنَمُ خِدْمَتَهُ الْعَظِيمَةَ غَنَمًا
‘আমরা উনার দায়িত্বভার গ্রহণ করবো এবং উনার মহান খেদমত মুবারক করার সুযোগকে পরম সৌভাগ্য ও বিরাট অর্জন হিসেবে মনে করবো।’
আর পশুরা বললো-
نَحْنُ اَوْلَى بِذَالِكَ نَنَالُ شَرفَهُ وَتَعْظِيْمَهُ نَيْلًا
‘আমরাই উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দেয়ার অধিক হক্বদার। কাজেই আমরাই এই মহান বুজূর্গী ও সম্মান প্রাপ্ত হবো।’
তখন পুনরায় গাইবী নেদা হলো, হে সমস্ত সৃষ্টিকুল তোমরা জেনে রাখো! মহান আল্লাহ পাক তিনি পূর্বেই লিখে রেখেছেন, উনার মহাসম্মানিত নবী-রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দুধমাতা হবেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বায়াহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালীমাহ সা’দিয়াহ আলাইহাস সালাম) তিনি। অর্থাৎ তিনিই উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিবেন। সুবহানাল্লাহ!
পরবর্তী সময়েও গাছ-পালা, পশু-পাখী, পাথর ইত্যাদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিভিন্নভাবে সম্মান প্রদর্শন করেছে, উনাকে তা’যীম-তাকরীম করেছে, মহাসম্মানিত রেসালাত মুবারক উনার সাক্ষ্য প্রদান করেছে। এখানে কতিপয় ওয়াক্বেয়াহ বর্ণনা করা হলো।
(২)
সিংহের তা’যীমে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম:
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ رحمة الله عليه عَنْ حَضْرَتْ سَفِينَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " رَكِبْتُ سَفِينَةً فِي الْبَحْرِ فَانْكَسَرَتْ فَرَكِبْتُ لَوْحًا مِنْهَا فَطَرَحَنِي فِي أَجَمَةٍ فِيهَا أَسَدٌ قَالَ فَقُلْتُ: يَا أَبَا الْحَارِثِ، أَنَا سَفِينَةُ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَطَأْطَأَ رَأْسَهُ وَجَعَلَ يَدْفَعُنِي بِجَنْبِهِ أَوْ بِكَتِفِهِ حَتَّى وَضَعَنِي عَلَى الطَّرِيقِ فَلَمَّا وَضَعَنِي عَلَى الطَّرِيقِ هَمْهَمَ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ يُوَدِّعُنِي
অর্থ: হযরত মুহম্মদ ইবনুল মুনকাদির রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম হযরত সাফীনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি সমুদ্রে একটি জাহাজে আরোহণ করলাম। অতঃপর জাহাজটি ভেঙে গেল। তখন আমি জাহাজের একটি তক্তার উপর আরোহণ করলাম। পরে তা আমাকে এমন এক জঙ্গলে পৌঁছে দিলো, যেখানে একটি সিংহ অবস্থান করছিলো। তখন আমি সিংহটিকে বললাম, হে আবুল হারেছ! (সিংহের উপনাম) আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম হযরত সাফীনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। (আমার কথা শুনে) সিংহটি তার মাথা নিচু করে ফেললো। অর্থাৎ আনুগত্য ও সম্মান প্রদর্শন করলো। এরপর তার শরীরের পাশ দিয়ে অথবা তার কাঁধ দিয়ে আমাকে ঠেলে ঠেলে এগিয়ে নিতে লাগল, অবশেষে সে আমাকে রাস্তার উপর পৌঁছে দিল। যখন সে আমাকে রাস্তায় পৌঁছে দিল, তখন সে গুনগুন করে কিছু আওয়াজ করছিলো। আমি মনে করলাম যে, সে যেন আমাকে বিদায় জানাচ্ছে। সুবহানাল্লাহ! (হিলইয়াতুল আউলিয়া ১/৩৬৯, মুসনাদুর রূ-ইয়ানী ১/৪৩৭)
আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ الْمُنْكَدِرِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أَنَّ حَضْرَتْ سَفِيْنَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْطَأَ الْجَيْشَ بِأَرْضِ الرُّومِ أَوْ أُسِرَ فَانْطَلَقَ هَارِبًا يَلْتَمِسُ الْجَيْشَ فَإِذَا هُوَ بِالْأَسَدِ. فَقَالَ: يَا أَبَا الْحَارِثِ أَنَا مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ مِنْ أَمْرِي كَيْتَ وَكَيْتَ فَأَقْبَلَ الْأَسَدُ لَهُ بَصْبَصَةٌ حَتَّى قَامَ إِلَى جَنْبِهِ كُلَّمَا سَمِعَ صَوْتًا أَهْوَى إِلَيْهِ ثُمَّ أَقْبَلَ يَمْشِي إِلَى جَنْبِهِ حَتَّى بَلَغَ الْجَيْشَ ثُمَّ رَجَعَ الْأَسَدُ. رَوَاهُ فِي ্রشَرْحِ السُّنَّةِগ্ধ
অর্থ: হযরত মুহম্মদ ইবনুল মুনকাদির রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদেম হযরত সাফীনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি রোম এলাকায় মুসলিম সেনাদল হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন অথবা বন্দী হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি শত্রুর কবল থেকে সুকৌশলে মুক্ত হয়ে মুসলিম সেনা দলের অনুসন্ধান করতে লাগলেন। হঠাৎ তিনি একটি সিংহ দেখতে পেলেন। তখন তিনি সিংহটিকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবুল হারেছ! (সিংহের উপনাম), আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম। আর আমার বিষয়টা হলো এমন এমন অর্থাৎ আমি কাফেরদের হাতে বন্দী হয়েছিলাম। এখন আমি তাদের থেকে মুক্ত হয়ে এসে আমার সেনাদল উনাদেরকে খোজ করছি। এই কথা শুনে সিংহটি (আনুগত্যের ভঙ্গিতে) স্বীয় লেজ নাড়তে নাড়তে উনার নিকটে এসে দাঁড়াল। সিংহটি যখন কোনো ভীতিজনক আওয়াজ শুনতে পেত, তখন সেদিকে ছুটে যেত অর্থাৎ আশঙ্কাজনক বিষয়কে প্রতিহত করত। এরপর ফিরে এসে হযরত সাফিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পাশে পাশে চলত। অবশেষে মুসলিম সেনাদলের সন্ধান পেয়ে উনাকে সেখানে পৌঁছে দিয়ে সিংহটি ফিরে গেল। সুবহানাল্লাহ! (দালায়েলুন নুবুওওয়াহ ৬/৪৬, শরহুস সুন্নাহ ১৩/৩১৩, মিরকাতুল মাফাতীহ ৯/৩৮৩৮, তুহফাতুল আবরার ৩/৫৩০ ইত্যাদি)
-মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপাদমস্তক মহাসম্মানিত নূর মুবারক; উনার ছায়া ছিলো না
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৪৮)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৭০)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৪৭)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক দলীলে মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ পালন
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৪৬)
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬৯)
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












