নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হাযির-নাযির শান মুবারক (১)
, ২৩ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাযির-নাযির এ সম্পর্কে যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّــاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْــرًا
অর্থ: “(আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি শাহিদ অর্থাৎ সাক্ষ্যদাতা, উপস্থিত বা হাযির-নাযির হিসেবে, সুসংবাদ দানকারী এবং সতর্ককারীরূপে।” (পবিত্র সূরা ফাত্হ : আয়াত শরীফ ৮)
আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত شَاهِدٌ (শাহিদ) শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারকই হচ্ছেন ‘হাযির-নাযির’। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদায় হজ্জের সময় খুতবা মুবারক দানকালে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
فَـلْـيُـبَلِّغِ الشَّاهِدُ الغَائِبَ
অর্থ: “যারা এখানে উপস্থিত রয়েছেন উনারা গইব বা অনুপস্থিত ব্যক্তিদেরকে (আমার নছীহত মুবারক সমূহ) পৌঁছিয়ে দিবেন। (বুখারী শরীফ)
شَاهِدٌ (শাহিদ) শব্দ মুবারক উনার অর্থ যে উপস্থিত বা হাযির এ বিষয়টি লুগাত বা অভিধানের কিতাব সমূহেও বর্ণিত হয়েছে।
আর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যিনি উপস্থিত তিনিই হাযির এবং যিনি হাযির তিনি নাযির বা প্রত্যক্ষকারী, প্রত্যক্ষদশীর্। অর্থাৎ যিনি হাযির তিনিই নাযির আবার যিনি নাযির তিনিই হাযির।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ جُرَىٍّ جَابِـرِ بْنِ سُلَـيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اَتَــيْتُ الْمَدِيْــنَةَ فَـرَاَيْتُ رَجُلًا يَّصْدُرُ النَّاسُ عَنْ رَاْيِهٖ لَا يَـقُوْلُ شَيْـئًا اِلَّا صَدَرُوْا عَـنْهُ قُـلْتُ مَنْ هٰذَا قَالُوْا هٰذَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قُـلْتُ عَلَـيْكَ السَّلَامُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّتَــيْـنِ قَالَ لَا تَـقُلْ عَلَـيْكَ السَّلَامُ فَاِنَّ عَلَـيْكَ السَّلَامُ تَـحِيَّةُ الْمَيِّتِ قُلْ اَلسَّلَامُ عَلَـيْكَ قُـلْتُ اَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ اَلَّذِىْ اِذَا اَصَابَكَ ضُرٌّ فَدَعَوْتَهٗ كَشَفَهٗ عَـنْكَ وَاِنْ اَصَابَكَ عَامُ سَنَةٍ فَدَعَوْتَهٗ اَنْـبَـتَـهَا لَكَ وَاِذَا كُنْتَ بِاَرْضٍ قَـفْرٍ اَوْ فَلَاةٍ فَضَلَّتْ رَاحِلَــتُكَ فَدَعَوْتَهٗ رَدَّهَا عَلَـيْكَ
অর্থ: হযরত আবূ জুরাই জাবির ইবনে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার পবিত্র মদীনা শরীফ আসলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, একজন মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনার তা’লীম-তালকীন, নির্দেশনা মুবারক অনুযায়ী মানুষ চলে থাকেন। তিনি যা বলেন, যা আদেশ-নির্দেশ মুবারক করেন সকলে হুবহু সেটাই আমল করেন। আমি বললাম, তিনি কোন মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব? উনারা বললেন, (তিনি হচ্ছেন) মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি ‘আলাইকাস সালাম’ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দুই বার বললাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি ‘আলাইকাস সালাম’ বলবেন না, ‘আলাইকাস সালাম’ মৃত ব্যক্তিদের সম্বোধন। আপনি বলুন, ‘আস সালামু আলাইকা’। আমি (আস সালামু আলাইকা বললাম। তারপর) বললাম, আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (হ্যাঁ) আমি ঐ মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যখন তুমি কোন বিপদে-আপদে, দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হও তখন তুমি উনার নিকট দো‘আ করলে তিনি তোমার বিপদ-আপদ, দুঃখ-দূর্দশা দূর করে দেন। সুবহানাল্লাহ! যখন তোমার জমিনে ফসল হয় না, দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তুমি উনার নিকট দো‘আ করলে তিনি তোমার জমিতে ফসল ফলিয়ে দেন, দূর্ভিক্ষ দূর করে দেন। সুবহানাল্লাহ! যখন তুমি কোন জনমানবহীন শূন্য স্থানে, (খাল-বিল, নদী-নালা, সমুদ্রে,) নির্জন প্রান্তরে, মরুভূমিতে অথবা বনে, ঝোপ-ঝার, জঙ্গলে থাকো আর তোমার বাহন হারিয়ে যায় বা বাহন না থাকে, তখন তুমি উনার নিকট দো‘আ করলে তিনি তোমার বাহন ফিরিয়ে দেন, বাহনের ব্যাবস্থা করে দেন। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, আল কুনা’ ওয়াল আসমা’ ১/৫৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ১০/২৩৬, মেশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ ৪/১৩৪৪, জামী‘উল উছূল ১১/৭৪৬ ইত্যাদি)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সহ আরো অসংখ্য পবিত্র বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির। (মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ থেকে সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৫)
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে-
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিনি একমাত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত কায়িনাতবাসী সকলের জন্য মহাসম্মানিত ক্বাসিম তথা বণ্টনকারী
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৫)
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি ইস্তেকামত থাকলে কাফিরদের ষড়যন্ত্র ক্ষতি করতে পারবে না
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (১)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল বানানো নিষেধ
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












