নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরানী হুলিয়া মুবারক (১ম পর্ব)
, ১৯ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৬ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
মহাসম্মানিত নূরানী হুলিয়া মুবারক উনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে-
لو لاك لما خلقت الافلاك
অর্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে সৃষ্টি না করলে আসমান-যমীন কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম না। ”
পবিত্র হাদীসে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لو لاك لما أظهرت الربوبية
অর্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি মহান আল্লাহ পাক আমার নিজের সম্মানিত রুবুবিয়ত মুবারক প্রকাশ করতাম না। ”
যেই মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সৃষ্টি মুবারকের ব্যাপারে এত বড় মাহাত্ম, বেমেছাল সম্মান, অপরিসীম গৌরব, সেই হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রকৃত সম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক, উনার সম্মানিত হুলিয়া মুবারক, উনার বেমেছাল অবয়ব মুবারক বর্ণনা করা সৃষ্টিকুলের পক্ষে কশ্মিনকালেও সম্ভব নয়। এ বিষয় মুবারকগুলো শুধুমাত্র অনুভবনীয়।
সেজন্যই প্রত্যক্ষদর্শী ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “যারা সাইয়্যিদুল মাখদুম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছেন উনারা বর্ণনা করেন যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে সুদর্শন কাউকে উনারা পূর্বে এবং পরে কখনো দেখেননি। ” (পবিত্র তিরমিযী শরীফ)
মূলত এটা একটি বাহ্যিক বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আসলে উনার সাথে কোন কিছুর মেছাল দেয়া কিংবা তুলনা করা কাট্টা কুফরী হবে। পরবর্তী উম্মত যাতে করে উনার মহাসম্মানিত অবয়ব মুবারক উল্লেখ করে ফায়দা হাছিল করতে পারে, কামিয়াবী হাছিল করতে পারে সে জন্যই উনার মহাসম্মানিত হুলিয়া মুবারক উনার আলোচনা-
তবুও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আকরামুল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, ফখরুল আম্বিয়া, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সীরত মুবারক ও মহাসম্মানিত ছূরত মুবারক এবং সম্মানিত অবয়ব মুবারক সম্মানিত আকৃতি মুবারক পরিস্ফুটনের লক্ষ্যে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কিছু কিছু বর্ণনা মুবারক করেছেন। যাতে করে পরবর্তী উম্মতগণ উনার মহাসম্মানিত হুলিয়া মুবারক উনার বর্ণনা মুবারক করে ফায়দা হাছিল করতে পারে।
আফদ্বালুন্ নাস বা’দাল আম্বিয়া, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-
كَانَ وَجْهُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم كَاَنَّهُ دارة قمر.
অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, ছাহিবে জা’মিউল আসমা ওয়াছ ছিফাত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুর রহমাহ মুবারক সম্মানিত চেহারা মুবারক যেন দীপ্তমান চন্দ্র থেকেও লক্ষ কোটি গুণ অতি উজ্জল থেকে উজ্জলতম। ” (আল ইনসানুল কামিল)
হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال كان الشمس تجرى فى وجهه.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আত্-ত্বাহির, আত্-ত্বইয়িব, শাফিউল উম্মাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুর রহমাহ মুবারক সম্মানিত চেহারা মুবারক সূর্যের থেকে লক্ষ-কোটি গুণ বেশী উদ্ভাসিত হতো। ” (পবিত্র তিরমিযী শরীফ)
আল্লামা হযরত ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
لم يظهر لنا تمام حسن لانه لو ظهر لنا تمام حسن لما اطاقت اعيننا رويته صلى الله عليه وسلم.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব রঊফুর রহীম, রহমতুল্লিল ‘আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ মহাসম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক আমাদের নিকট তথা কায়িনাত মাঝে প্রকাশ করা হয়নি, যদি উনার পূর্ণ মহাসম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক প্রকাশ করা হতো, তাহলে আমাদের চক্ষু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, ছাহিবে লাসতু কা-আহাদিকুম, ছাহিবে মি‘রাজ শরীফ, ছাহিবে কুন ফাইয়াকুন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বাহ্যিকভাবে দেখার শক্তি রাখতো না। ” (শামায়েলে তিরমিযী)
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৪)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবার
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের খুশি মুবারক প্রকাশ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৫)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ বিশেষ নিসবত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












