নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পক্ষ থেকে উম্মতের ১২ হাজার কুরবানী করার ঐতিহাসিক অকাট্য দলীল (২)
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২১ হাদি আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ২০ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রি:, ৭ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পক্ষ থেকে উম্মতের কুরবানী করার বিষয়ে দুইটি আপত্তি সমাজে দেখে যায়। ১ম আপত্তি- এ বিষয়ে সহীহ কোন বর্ণনা নেই, যা আছে দুর্বল। ২য় আপত্তি- এ ধরনের আমল পরবর্তী যুগে কেউ করেছেন তার কোন প্রমাণ কোন কিতাবে নেই। আমরা দুইটি আপত্তির স্পষ্ট খ-ন করবো, ইনশাআল্লাহ!
....
বিখ্যাত ইতিহাসবিদ হযরত খতীবে বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৪৬৩ হিজরী) তিনি উনার জগত বিখ্যাত কিতাব ‘তারীখে বাগদাদে’ ১৩/৫৯৮ পৃষ্ঠায় একজন অনেক বড় বূজূর্গ ওলী আল্লাহর জীবনী আলোচনা করেছেন। সেই ওলী আল্লাহ উনার নাম হচ্ছে হযরত আলী ইবনে মুওয়াফফাক রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ২৬৫ হিজরী)। তিনি হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সমসাময়িক ছিলেন। উনার সম্পর্কে বলা হয়েছে,
، وكان من الزاهدين المذكورين
তিনি দুনিয়াবিরাগী আল্লাহওয়ালাদের অর্ন্তভূক্ত ছিলেন।
قَالَ: سمعت علي بْن الموفق، يَقُولُ: خرجت يوما لأؤذن، فأصبت قرطاسا، فأخذته، ووضعته فِي كمي، فأذنت، وأقمت، وصليت، فلما صليت، قرأته، فإذا فيه مكتوب: بسم اللَّه الرَّحْمَن الرحيم يا علي بْن الموفق تخاف الفقر وأنا ربك
হযরত আলী ইবনে মুওয়াফফাক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,একদিন আমি আজান দিতে বের হলাম, আর একটা কাগজ পেলাম, তাই সেটা তুলে আমার হাতার ভেতরে রাখলাম। আমি নামাজের জন্য আযান দিলাম, ইকামত দিলাম, আর নামাজ পড়লাম। যখন আমি নামাজ শেষ করলাম, তখন আমি সে কাগজখানা পড়লাম এবং দেখলাম তাতে লেখা আছে: বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। হে আলী ইবনে মুওয়াফফাক রহমতুল্লাহি আলাইহি, আপনি দারিদ্র্যকে ভয় করুন, আর আমি আপনার সম্মানিত রব।
উনার সুমহান জীবনীতে আরো অসংখ্য ঘটনা আছে যা উল্লেখ করতে গেলে মূল প্রসঙ্গ পরিবর্তন হয়ে যাবে। অর্থাৎ উনি ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ, যাহেদ, ওলীআল্লাহ।
এই বিখ্যাত ওলীআল্লাহ তিনিও হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পক্ষ থেকে অনেক কুরবানী করেছেন। উনার আমল সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে,
بعلي بْن الموفق حججت عَن رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سبع حجج، وضحيت عَن رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مائة وسبعين أضحية، وقرأت القرآن عَن رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ من سنة ستين اثني عشر ألف مرة، أو دونه بقريب، وجعلت أعمالي كلها للنبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হযরত আলী ইবনে মুওয়াফফাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে ৭০ বার হজ্জ মুবারক করেছেন এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে ১৭০ টি কুরবানী করেছেন। এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে ষাট বছরে বার হাজার বার বা তার কাছাকাছি সংখ্যক কুরআন শরীফ খতম করেছেন। আর এসবই তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্যই করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এ বেমেছাল আমলকারী এ সুমহান বুজূর্গ সম্পর্কে বলা হয়েছে-
قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن عَبْد اللَّه الحفار، قَالَ: رأيت أَحْمَد بْن حنبل فِي النوم، فقلت: يا أبا عَبْد اللَّه ما صنع اللَّه بك؟ قَالَ: حباني وأعطاني وقربني وأدناني، قَالَ: قلت: الشيخ الزمن علي بْن الموفق ما صنع اللَّه به؟ قَالَ: الساعة تركته في زلال يريد العرش
হযরত আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে স্বপ্নে দেখলাম। উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু আব্দুল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক আপনার কি প্রতিদান দিয়েছেন? হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আমাকে মুহব্বত করে কাছে নিয়েছেন, চরম নৈকট্য দান করেছেন। হযরত আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি জিজ্ঞাসা করলেন, শায়খুয যামান আলী ইবনে মুওয়াফফাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মহান আল্লাহ পাক কি প্রতিদান দিয়েছেন? হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আল্লাহ পাক উনাকে সম্মানিত আরশের নিচে স্থান দিয়েছেন। (তারীখে বাগদাদে ১৩/৫৯৮; প্রকাশনা: দারু গারবিল ইসলামি, বাইরূত)
অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে তিনি অনেক আমল হাদীয়া করেছেন বিশেষ করে একাধিক কুরবানী করেছেন, যার ফলাফল তিনি আরশের আযীম উনার নিচে অবস্থান করছেন।
সূতরাং উপরোক্ত দলীল আদিল্লা দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে কুরবানী করার বিষয়ে হাদীছ শরীফসমূহ সহীহ।
এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে পূর্ববর্তী অনেক ইমাম উনারা কুরবানী করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত বুছা মুবারক দেয়া
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে ঊলা বা প্রথমা, কুবরা বা মূল, বড়, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনারও মূল
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দায়েমীভাবে এমন মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক রয়েছেন যেখানে সৃষ্টির কারো কোনো স্থান সঙ্কুলান হয় না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












