দ্বীনি মজলিসে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক-২
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৩ রবি , ১৩৯২ শামসী সন , ৩১ আগষ্ট, ২০২৪ খ্রি:, ১৬ ভাদ্র , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
(১৩) মজলিসের মধ্যে দরকার বশতঃ নিজের জায়গা হতে উঠতে হলে এবং পুনরায় ফিরে আসার ইচ্ছা থাকলে তবে রুমাল, পাগড়ী বা অন্য কিছু তথায় রেখে যাওয়া উচিত ।
(১৪) বিনা প্রয়োজনে রাস্তার পার্শ্বে রাস্তা বন্ধ করে বসবে না। যদি বসতে হয় তাহলে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে :
(ক) রাস্তায় যাতায়াতকারীদের কোন রকম কষ্ট দিবে না।
(খ) যদি কেউ সালাম দেয় তার উত্তর দিবে।
(গ) মুসলমান ভাইকে দেখলে সালাম দিবে।
(ঘ) ভাল কাজ ও কথা বলবে।
(ঙ) মন্দ কাজ ও মন্দ কথা হতে বিরত থাকবে।
(চ) কেউ যদি কারো উপর জুলুম করতে থাকে, তবে মজলুমের সহায়তা করবে।
(ছ)কেউ রাস্তা ভুলে গেলে তাকে রাস্তা দেখিয়ে দিবে।
(জ) কারো বোঝা উঠাতে বা যানবাহনে সওয়ার হওয়ার জন্য সাহায্যের দরকার হলে তার সাহায্য করবে। (বুখারী শরীফ)
(১৫) ব্যক্তিগত মজলিসের মধ্যে যা শুনবে অনুমতি ব্যতীত তা অন্যত্র বর্ণনা করা আমানতদারীর পরিপন্থী এবং গুণাহের কাজ। (আবূ দাউদ শরীফ)
(১৬) কোন মজলিসে তিনজন থাকলে তম্মধ্যে একজনকে বাদ রেখে বাকী দু'জন আস্তে আস্তে কথা বলবে না। এতে তৃতীয় জনের মনে কষ্ট হবে। (বুখারী শরীফ) এছাড়া এমন কোন ইশারায় বা ভাষায় কথা বলা যাবে না যা তৃতীয় ব্যক্তি না বুঝে।
(১৭) দু'জন লোকের মাঝে অনুমতি ছাড়াই অপর কোন ব্যক্তি এসে বসে যাওয়া ঠিক নয় । (তিরমিযী শরীফ)
(১৮) মজলিসে বসার সময় প্রত্যেকে পৃথক পৃথক বসবে না বরং একে অপরের সাথে মিলে মিশে বসবে। (আবূ দাউদ শরীফ)
(১৯) প্রত্যেক বস্তুরই সরদার থাকে, আর মজলিসের সরদার হলো এমন মজলিস, যেখানে ক্বিবলামুখী হয়ে বসা হয়। (তবারানী শরীফ)
(২০) যারা মজলিসে বসে থাকবে তাদের উচিত কেউ আসলে তাকে জায়গা করে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা করা বা মজলিস প্রশস্ত করা । (বুখারী শরীফ)
সকলের জন্য আবশ্যক হলো উপরোক্ত মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক যথাযথভাবে মেনে চলা। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেÑ
قَالَ حَضْرَتْ اَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَحَبَّ سُنَّتِيْ فَـقَدْ اَحَبَّنِيْ وَمَنْ اَحَبَّنِيْ كَانَ مَعِيَ فِي الْـجَنَّةِ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলেন, তিনি মূলতঃ আমাকেই মুহব্বত করলেন। আর যিনি আমাকে মুহব্বত করবেন, তিনি আমার সাথে সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান করবেন। ” সুবহানাল্লাহ! (মু’জামুল আওসাত ৯ম খ- ১৬৮ পৃষ্ঠা: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৯৪৩৯; শিফা শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক সঠিকভাবে পালন করে সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












