তালাকদাতা ও তালাকপ্রার্থিনী উভয়ের জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি (১)
, ১১ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ
অর্থ: সম্মানিত নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতদেরকে বলুন, যখন তোমরা আহলিয়াদেরকে (স্ত্রীদেরকে) তালাক দিবে তখন তাদেরকে ইদ্দতের মধ্যে তালাক দিবে। আর ইদ্দত গণনা করবে। এ ব্যাপারে তোমাদের রব তায়ালা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবে।” (পবিত্র সূরা তলাক : আয়াত শরীফ ১)
কাজেই, আহলিয়াকে যখন তখন তালাক দেয়া, সামান্য মনোমালিন্য হলেই তালাক দেয়া, আগে পরে কোন চিন্তা না করে রাগের বশবর্তী হয়ে তালাক দেয়া কিংবা একেবারে তিন তালাক দিয়ে দেয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। তালাক দেয়া প্রয়োজনবোধ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তালাক দেয়ার যে পন্থা বা পদ্ধতি বা সীমা রেখা নির্ধারণ করেছেন সেই পন্থা-পদ্ধতি, নিয়ম-কানুন মত তালাক দেয়া উচিত।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَتِلْكَ حُدُودُ اللهِ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهٗ
অর্থ: উহা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত সীমা রেখা। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সীমারেখা লঙ্ঘণ করবে সে মূলত: নিজের উপরই জুলুম বা অত্যাচার করবে। অর্থাৎ নিজের ক্ষতিসাধন নিজেই করবে। (পবিত্র সূরা তলাক : আয়াত শরীফ ১)
কাজেই, তালাকের নিয়ম-কানুন, তর্জ-তরীক্বা মুয়াফিক তহূরের মধ্যে তালাক দিবে। মনগড়াভাবে কোন কিছু করবে না।
উল্লেখ্য যে, তহূর শব্দের অর্থ পবিত্রতা, স্বাভাবিক মাজুরতার পর গোসল করা। আর সম্মানিত শরীয়ত উনার পরিভাষায় প্রাপ্ত বয়ষ্কা মহিলা এক স্বাভাবিক মাজুরতার পর থেকে পরবর্তী স্বাভাবিক মাজুরতা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়কালকে তহূর বলা হয়। হানাফী মাযহাব মতে তহূরের সর্বনি¤œ সময়কাল ১৫ দিন। আর উর্ধ্বতম কোন সময়সীমা নেই।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّهٗ طَلَّقَ اِمْرَأَةً لَهٗ وَهِيَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذٰلِكَ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَغَيَّظَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُرَاجِعَهَا ثُمَّ لِيُمْسِكَهَا حَتّٰى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ فَتَطْهُرَ فَإِنْ بَدَا لَهٗ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَلْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِى كَمَا أَمَرَ اللهُ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি একবার উনার একজন আহলিয়াকে স্বাভাবিক মাজুরতা অবস্থায় তালাক দিলেন। হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইহা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে জানালেন। ইহা শুনে তিনি অপছন্দ করলেন এবং বললেন, উনি যেন উনার আহলিয়াকে ‘রাজায়াত’ করে নেন। অতঃপর রেখে দেন যতদিন না তিনি পবিত্রা হন। অতঃপর স্বাভাবিক মাজুরতার সম্মুখীন হন অতঃপর তা হতে পবিত্রা হন। তারপর যদি তিনি উনাকে তালাক দিতে চান তাহলে তালাক দিবেন পবিত্রাবস্থায় নিরিবিলি অবস্থান করার পূর্বে। ইহাই হলো তালাকের ইদ্দত। যে ইদ্দত অনুযায়ী মহান আল্লাহ পাক তিনি তালাক দেয়ার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
সংকলন-সম্পাদনায় : মুফতি সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (২)
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (২)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র মুহররমুল হারাম মাসকে একমাত্র বিদয়াতী ধর্মব্যবসায়ীরাই নববর্ষ হিসেবে উদযাপন করতে বলে
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আসন্ন পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং পবিত্র আশূরা শরীফ উভয়ের প্রতি সম্মান করা ফরয
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












