ট্রাম্পের ইরানকে একঘরে করার পরিকল্পনা যেভাবে ভেস্তে দিতে পারে চীন-রাশিয়া
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে কোনো দেশ সহায়তা করলে তাদের আর্থিকভাবে শাস্তি দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন যেটাকে তিনি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বলে অভিহিত করেছেন।
, ০৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) তাজা খবর
তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও রাশিয়ার কারণে তা কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিধর দেশ দুটির ওপর ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা সীমিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রাশিয়া এরই মধ্যে ব্যাপক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে এবং মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রয়োজন হলে চীন যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করতে প্রস্তুত, তা দেশটি বারবার দেখিয়েছে।
কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সরকারের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের এই চাপের কৌশল কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা ‘খুবই কঠিন’ হবে।
তার ভাষায়, ট্রাম্প একতরফাভাবে এমন সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে চাইছেন, যা ঐতিহ্যগতভাবে বহুপক্ষীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যসহ চীন ও রাশিয়াকে সঙ্গে পাওয়া প্রয়োজন।
‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলে, ইরানের বিরুদ্ধে তার লড়াই হবে ‘কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক লড়াই’।
সে হুঁশিয়ারি দেয়, যারা ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করবে, তাদের ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তেল চোরাচালান, মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবস্থা, নগদ অর্থ স্থানান্তর, এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া বা আড়াল করা কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসার মতো কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে সে।
ট্রাম্প লিখেছে, ‘এসব এখনই বন্ধ করতে হবে।’
এর আগে একই দিন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ইরান তাদের ভূখণ্ডে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে অভিযোগ করে এই সিদ্ধান্ত নেয় আবুধাবি।
ব্র্যান্ডাইস ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য অর্থনীতির অধ্যাপক নাদের হাবিবির ধারণা, এই নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘জোরালোভাবে উৎসাহিত বা প্রভাবিত’ করেছে। একইভাবে ইরানের অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদার, বিশেষ করে সবচেয়ে বড় অংশীদার চীনের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করতে পারে বলে মনে করে সে।
চীনকে চাপে ফেলা কঠিন
চীন-ইরান বাণিজ্য ব্যাহত করার যেকোনো মার্কিন উদ্যোগ বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান থেকে সমুদ্রপথে রফতানি হওয়া তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই চীন কিনেছিল।
তবে চীনের তেল শোধনাগারগুলোর ওপর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতে পারে। কারণ দেশটির অধিকাংশ শোধনাগার স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর তাদের নির্ভরতা কম।
ইরানের অর্থ লেনদেনে জড়িত বড় চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে তারা চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে এর ফলে সংবেদনশীল কূটনৈতিক সময়ে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে।
চ্যাথাম হাউসের চীন ও এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ গবেষক ইউ জিয়ে বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক মিত্রদের লক্ষ্য করে ট্রাম্পের হুমকি চীনের ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ও বিদ্যমান বাণিজ্যিক যোগাযোগে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
তার মতে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প আগ্রহী। একই সময়ে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি’ বজায় রাখতে চায়।
মাসগ্রেভ বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘আগ্রাসী’ গৌণ নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক ধরনের অর্থনৈতিক ঠান্ডা যুদ্ধের মধ্যে থাকায় ট্রাম্প সম্ভবত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাইবেন না।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা ‘সমস্যার সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবে না।’ তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া এবং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আগামী মাসে ওয়াশিংটন সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রও দুই দেশের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। বছরের শেষ দিকে দুই নেতার সম্ভাব্য আরও দুটি বৈঠকের পাশাপাশি ওই সফরে উপসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতও আলোচনার বিষয় হতে পারে। তবে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে না বলে মনে করেন ইউ জিয়ে।
রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের বিকল্প সম্পর্ক
রাশিয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। চীনের তুলনায় ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য কম হলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে দুই দেশ বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়া ও ইরান ২০ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। রুশ জ্বালানি মন্ত্রী সের্গেই সিভিলেভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে ৪৮০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলের পাশাপাশি ক্যাস্পিয়ান সাগর দিয়ে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আদান-প্রদানের খবরও পাওয়া গেছে।
সোমবার এনবিসি নিউজ একটি ইউরোপীয় সরকারি নথির বরাত দিয়ে জানায়, রাশিয়া সমুদ্রপথে ইরানে ড্রোনের যন্ত্রাংশ, গোলাবারুদ ও টিএনটি পাঠিয়েছে। তবে রাশিয়া এরই মধ্যে ব্যাপক মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় মস্কোর ওপর নতুন করে চাপ প্রয়োগের সুযোগ ওয়াশিংটনের জন্য সীমিত।
ইরানের পাল্টা অভিযোগ ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক অভিযানকে ওয়াশিংটনের ‘ব্যর্থ নীতির’ ধারাবাহিকতা বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও ‘পরাজয়’ ডেকে আনবে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘মার্কিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বিশ্ব অর্থনীতি ও বিশ্বের দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।’
রাশিয়া, চীন, ভারত, ব্রাজিলসহ বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর দেশকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোটের সদস্য ইরান। পশ্চিমা বাজারের বাইরে নতুন অর্থায়নের পথ তৈরিতে জোটটির গুরুত্ব কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে তেহরান।
গত সপ্তাহে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি জানান, ইরান ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (এনডিবি) যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে পশ্চিমা আর্থিক বাজারের বাইরে ইরানের জন্য আরও অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মুদ্রায় লেনদেন করতে পারে এবং ইরান অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে ইরানের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে এনডিবিএখনও কোনো মন্তব্য করেনি। সদস্য হতে হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তেহরানকে।
তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘শ্বাসরোধকারী’ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নেবে। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে আটকে আছে, যা সে জিততে পারবে না, আবার সেখান থেকে বেরও হতে পারছে না।’
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ২ আসামির যাবজ্জীবন
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৯৯৯ মামলা
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা, রাত ১২টা থেকেই কার্যকর
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন রুয়েটের ৭ শিক্ষার্থী
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ফের গ্রেপ্তার
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শাহপরীর চরে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন বুটেক্সের ১৩ শিক্ষার্থী
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত ইবির ২৪ শিক্ষার্থী
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাথমিক শিক্ষায় শূন্য পদ পূরণ ও বিদ্যালয় বাড়ানোর সুপারিশ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপ খনন, মিলেছে গ্যাস
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জাহাজশিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করা ও দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












