একখানা বিশেষ ওয়াক্বেয়াহ্ মুবারক (৬)
, ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ মুবারক করেছেন -
اِنِّىْ لَسْتُ كَاَحَدِكُمْ
‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কারো মতো নই।’ সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে হুমাইদী, মুসনাদে আবী ইয়া’লা, সুনানে দারিমী, ছহীহ ইবনে খুযাইমাহ, ছহীহ ইবনে হিব্বান, হিলইয়াতুল আউলিয়া ইত্যাদি)
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
اَيُّكُمْ مِثْلِىْ
‘তোমাদের মধ্যে কে আছো যে আমার মতো? অর্থাৎ আমার মতো তোমাদের মধ্যে কেউ নেই।’ (বুখারী শরীফ, মুস্তাখরাজে আবী ‘আওয়ানাহ্, তাগলীকুত তা’লীক্ব ইত্যাদি)
এরকম অনেকগুলি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ- ‘আমি তোমাদের কারো মত নাই।’
আসলে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলি মানুষ বুঝে-ই নাই।
আসলে সবাই তো সনদের উপর নির্ভরশীল। বর্ণনাটি ছিক্বাহ্ রাবীর দ্বারা; এ জন্য সবাই বিশ্বাস করে নিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ছিক্বাহ্ রাবীর সবটা তো গ্রহণযোগ্য না। ছিক্বাহ্ রাবীরও অনেক ভুল আছে। ছিক্বাহ্ রাবী তো আর নবী-রসূল না। কাজেই, ছিক্বাহ্ রাবীরও অনেক ভুল আছে। এরকম অনেক কিছু ছহীহ্ হাদীছ শরীফ হিসেবে বর্ণিত আছে; কিন্তু আসলে সেগুলো মওযূ, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মনগড়া। যেমন- পবিত্র সতর মুবারক বিষয়ে, ইজতিহাদ সংক্রান্ত বিষয়ে, ক্বিছ্ছাতুল গ¦রানীক্ব, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনী আলাইহিন্নাস সালাম উনারা দুই দলে বিভক্ত ছিলেন, ইমামুল আউওয়াল হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি শরাব পান করেছেন, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ভুলে গেছেন, হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম (হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম) তিনি জীবনে ৩টি মিথ্যা কথা বলেছেন, এরকম যতগুলো বর্ণনা আছে, প্রত্যেকটাই মওযূ। ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ এই যে হাদীছটা বলা হয়, ‘ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একটা জিন ছিলো। সেটা কাফির ছিলো। মহান আল্লাহ পাক তিনি সাহায্য করেছেন, পরে এই কাফির জিনটা মুসলমান হয়ে গেছে।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
এটা তো কোনো দিনই গ্রহণযোগ্য না। এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য না। এটা মওযূ হাদীছ।
এ জন্য বললাম যে, আসলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে শান মুবারক, এটা একটা কল্পনাতীত বিষয়। আসলে মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টাও অনুরূপ। মহান আল্লাহ পাক উনাকে মানুষ বুঝতে পারবে কোনো দিন? পারবে না। ঠিক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টাও মানুষ বুঝতে পারবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি যে মহান, পবিত্র বললেও এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। বলা হয়- ‘সুবহানাল্লাহ- মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র’ এর আরো অনেক ঊর্ধ্বে। ঠিক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনিও এরকম।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
এখন মানুষ তার দৃষ্টি, তার আক্বল, তার বুদ্ধি, তার ইলিম-কালাম অনুযায়ী সে যতটুক বুঝে, সেটাই সে বলে। কিন্তু আসলে আক্বীদাহ্টা তো অনেক উঁচু রাখা উচিৎ, বিশুদ্ধ রাখা উচিৎ। এটা কঠিন একটা বিষয়। মানুষ তো এই বিষয়গুলি ফিকিরই করে না। ফিকির না করলে বুঝবে কিভাবে? আর যিকির নেই, ফিকির নেই আবার রূহানী তরক্কী নেই। রূহানী তরক্কী না থাকলে বুঝবে কিভাবে? এটা তো আলাদা একটা বিষয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَاللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ
‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমত মুবারক দ্বারা খাছ করে নেন।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৫)
মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের খাছ রহমত মুবারক ছাড়া এগুলো কস্মিনকালেও বুঝা সম্ভব নয়।
আরেকটা হলো-
مِنْ لَدُنَّا عِلْمًا
‘ইলমে লাদুন্নী’।
খাছ ইলমে লাদুন্নী ছাড়া এগুলি বুঝবে না কেউ। যাহিরী ইলিমের দ্বারা বা সাধারণ ইলমে লাদুন্নীর দ্বারা এগুলো বুঝা সম্ভব না। এগুলো বুঝার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের খাছ রহমত মুবারক প্রয়োজন, খাছ ইলমে লাদুন্নী প্রয়োজন। এ ছাড়া এগুলো কস্মিনকালেও বুঝা সম্ভব নয়।”
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ দাওয়াত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












