নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোতে ভয়াবহ নারী নির্যাতন:
আমেরিকায় প্রতি ৬ জনে ১ জন, ব্রিটেনে ৫ জনে ১ জন মহিলা সম্ভ্রমহরণের শিকার
, ১৬ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১০ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ২৫ই মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম মহিলাদের সম্মানিত করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহিলাদের ইজ্জত-আব্রু হেফাযতের জন্য পর্দা করতে বলেছেন। নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছেন। এতে মহিলারা নিজেরা হেফাযতে থাকবে পাশাপাশি তাদের মর্যাদা সমুন্নত হবে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে মুমিন মহিলাগণ! তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং আইয়্যামে জাহেলী যুগের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বের হবেনা। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ:পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৩৩)
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার আদেশ মুবারক যখন মুসলমানরা পালন করেন অথবা যারা পালন করতে চান তাদের নিয়ে নারীবাদীরা বিভিন্ন ধরনের কটুক্তি, হয়রানী এমনকি বোরকা নিষিদ্ধেরও দৃষ্টতা প্রদর্শন করে। বিভিন্নভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধাচরণ করে, মানহানী করে। যেন নারীবাদীদের বল্গাহারা, উন্মুক্ত দর্শনই শ্রেষ্ট! কিন্তু পরিসংখ্যানই তাদের দাবির মিথ্যাচারিতা প্রমাণ করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কথিত নারী স্বাধীনতার পৃষ্ঠপোষক ইউরোপ-আমেরিকার সেসব দেশে সবচেয়ে বেশী নারী স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে। ভয়াবহভাবে নারী অধিকার লংঘন হচ্ছে। সম্ভ্রমহরণ অপরাধে গোটা বিশ্বে এক নম্বর দেশ হলো আমেরিকা। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে নারী অধিকার হরণের বিশ্বের শীর্ষ দেশের পরিসংখ্যান এসেছে।
আমেরিকা:
ন্যাশনাল ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইম্যানের সার্ভে অনুযায়ী, আমেরিকার প্রতি ৬ জন মহিলার মধ্যে ১ জন সম্ভ্রমহরণের শিকার। আমেরিকার ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিক অনুযায়ী, আমেরিকায় সম্ভ্রমহরণের শিকার নারীর পরিসংখ্যান ৯১% এবং ৮% পুরুষ। পুরুষদের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটা ৩৩ জনে ১ জন সম্ভ্রমহরণের শিকার। এই দেশে ১৪ বছর বয়স থেকেই শিশু মননে সম্ভ্রমহরণের মত অপরাধের প্রবণতা তৈরি হয়।
ব্রিটেন:
প্রতিবছর ৪ লাখ মানুষ সম্ভ্রমহরণের মত ঘটনার শিকার হয় ব্রিটেনে। প্রতি ৫ জন মহিলার (১৬-৫৯ বছর বয়সী) মধ্যে একজন করে সম্ভ্রমহরণের শিকার হয়।
সুইডেন:
ইউরোপের মধ্যে সুইডেনেই সব থেকে বেশি সম্ভ্রমহরণ হয়। প্রতি বছরই প্রায় ৫৮% হারে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়ে সুইডেনে।
জার্মানি:
২০১৬ সাল পর্যন্ত সম্ভ্রমহরণের শিকার হয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার নারীর মৃত্যু হয়েছে জার্মানিতে। প্রতি বছর জার্মানিতে সম্ভ্রমহরণের অভিযোগ দায়ের হয় ৬৫ লাখ ৭ হাজার, ৩৯৪।
ফ্রান্স:
১৯৮০ সাল পর্যন্ত সম্ভ্রমহরণের মত ঘটনা ফ্রান্সে অপরাধ বলেই মানা হত না। ফ্রান্সের সরকারী গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছরে এই দেশে সম্ভ্রমহরণের শিকার হয় অন্তত ৭৫ হাজার নারী।
কানাডা:
এই দেশে ২০১৬ সাল পর্যন্ত লিখিত সম্ভ্রমহরণের অভিযোগের সংখ্যা ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৯১৮টি। প্রতি ১৭ জন মহিলার মধ্যে ১ জন করে মহিলা এই দেশে সম্ভ্রমহরণের শিকার হয়। যাদের মধ্যে ৬২% শারীরিকভাবে আহত হন।
ভারত:
সম্ভ্রমহরণে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ভারত অন্যতম। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো অনুযায়ী, ২০১২ সালে ভারতে সম্ভ্রমহরণের অভিযোগ জমা হয়েছে ২৪ হাজার ৯২৩টি। ভারতে সম্ভ্রমহরণের শিকার হওয়া ১০০ জন নারীর মধ্যে ৯৮ জনই আত্মহত্যা করে। প্রতি ২২ মিনিটে ভারতে একটি করে সম্ভ্রমহরণের অভিযোগ দায়ের হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা:
সন্তান এবং শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গোটা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয়। এই দেশে একজন ধর্ষকের শাস্তি মাত্র ২ বছরের কারাবাস। দক্ষিণ আফ্রিকাকে বলা হয় ‘রেপ ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড’।
শ্রীলঙ্কা:
এই দেশে শতাংশের বিচারে ১৪.৫ শতাংশ অপরাধ সংগঠিত হয় সম্ভ্রমহরণের। সম্ভ্রমহরণে অভিযুক্তদের ৬৫.৮% সম্ভ্রমহরণের মত অপরাধে লিপ্ত থেকেও কোনও প্রকার অনুশোচনা তাদের মধ্যে হয় না।
উপরোক্ত পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আদেশ মুবারক না মানা, পর্দা ও বোরকা না মানায় উপরোক্ত দেশগুলো সম্ভ্রমহরণের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ১০ এর মধ্যে অবস্থান করছে। তাই সকল দেশের উচিত বোরকার বিরোধিতা নয় বরং বোরকা পরিধান বাধ্যতামূলক করা। অন্যথায় এই ভয়াবহ নারী নির্যাতনের দায় থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।
-আহমদ মুবাশশ্বিরা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (২)
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (২)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












