স্থাপত্য-নিদর্শন:
পবিত্র মসজিদে কুবা শরীফ
, ১৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৫ আউওয়াল, ১৩৯২ শামসী সন , ২৩ জুন, ২০২৪ খ্রি:, ০৯ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) স্থাপত্য নিদর্শন
পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে ৩২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং পবিত্র মদিনা শরীফ উনার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত পবিত্র মসজিদ কুবা নামক স্থানে অবস্থিত। পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ হতে দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। কুবা একটি বিখ্যাত কূপের নাম। সময়ের পরিক্রমায় এ কূপকে কেন্দ্র করে যে জনবসতি গড়ে উঠেছে, তাকেও কুবা বলা হতো। এরই সূত্রে সে স্থানের নাম হয় কুবা। আর কুবা নামক স্থানে এই পবিত্র মসজিদটি নির্মাণ হওয়ার কারণে নামকরণ করা হয়েছে মসজিদে কুবা।
ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন:
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লøাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র হিজরত মুবারক করে মদীনা শরীফে গিয়েছিলেন, তখন পবিত্র মদীনা শরীফ উনার নগরীতে প্রবেশের পূর্বে তিনদিন যাবৎ কুবা এলাকায় আমর ইবনে আওফ গোত্রের নিকট অবস্থান মুবারক করেন এবং সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লøাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে কুবার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। (আস-সামহুদী শরীফ, ওয়াফাউল ওয়াফা বি-আখবারি দারিল মুস্তাফা শরীফ)
স্থান নির্ধারণ:
কুবাবাসীগণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এই পবিত্র মসজিদ উনার ভিত্তি স্থাপনের জন্য উনার মুবারক খিদমতে আরজি জানিয়েছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘আপনাদের মধ্যে কোন একজন আমার উটের ওপর সওয়ার হয়ে তাকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসুন। ’ প্রথমে হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উষ্ট্র পৃষ্ঠে আরোহন করলেন, কিন্তু উট স্বীয় স্থান থেকে নড়ল না। এরপর হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালম সওয়ার হলেন। এবারও একই অবস্থা উটের নড়া-চড়া নেই। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজুহ্ আলাইহিস সালাম যখন উষ্ট্র পৃষ্ঠে আরোহন মুবারক করলেন, উট লাফ দিয়ে ওঠে গেলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ্ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘লাগাম ছেড়ে দিন। যিনি খ¦লিক, যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেখানে নির্দেশ মুবারক দেবেন, উট সেখানে গিয়েই থামবে’ অবশেষে উটনী যে স্থানে গিয়ে থমকে দাঁড়াল, ওখানেই পবিত্র মসজিদ উনার ভিত্তি স্থাপন করেন এবং কুবাবাসীদের নির্দেশ মুবারক দেন যে, ‘তোমরা পাথর এনে একত্রিত কর। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ্ হুযুর পাক ছল্লøাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ক্বিবলা নির্দেশক একটি দাঁগ একে দিলেন এবং স্বয়ং উনার মহাসম্মানীত মহাপবিত্র নুরুল মাগফিরাত মুবারকে (হাত মুবারকে) একখানা পাথর স্থাপন করেন। এরপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদের নির্দেশ মুবারক করলেন, যাতে উনারা পর্যায়ক্রমে পাথর স্থাপন করেন। ’ (আত-তাবারানী শরীফ, আল-মু’জামুল কবীর শরীফ)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র মসজিদে জুমুয়াহ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতার অনবদ্য নিদর্শন নাফত বা পেট্রোলিয়াম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতের সাদা রত্ন ঐতিহাসিক মতি মসজিদ
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল
১৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামকরণে তৈরী করা হয়েছিলো ভারতের যে মসজিদ: ফিরোজাবাদে যুগের সাক্ষী ঐতিহাসিক নিদর্শন কুতুব শাহি মসজিদ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ভারতের জান্নাতবাদে ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুবা বাংলার ঐতিহাসিক শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঢাকায় ৩০০ বছর আগের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুলের মতোই সুন্দর মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় অবস্থিত পুত্রা মসজিদ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৫ম পর্ব)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












