বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান:
কায়রোর ‘দারুল হিকমাহ’
, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
মিশরে ৩য় ও ৪র্থ হিজরী শতাব্দীতে ফাতিমীয় খলীফারা বাগদাদের বাইতুল হিকমাহর মতো কায়রোতে দারুল হিকমাহ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। এই লাইব্রেরিটি হিজরী ৩৯৫ (শামসী ৩৭১, খ্রিস্টাব্দ ১০০৪) সালে ফাতিমীয় খলীফা আল-হাকিম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে, ফাতিমীয় খলীফা আল-আজিজ হিজরী ৩৬৯ (শামসী ৩৪৭, খ্রিস্টাব্দ ৯৮০) সালে কায়রোতে একটি বড় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এই গ্রন্থাগারে প্রায় চার লক্ষ কিতাব ছিল, যার মধ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ২৪০০টি কপি ছিল। যার অনেক গুলো সোনা ও রৌপ্য দ্বারা লিখিত ছিল। বাকি কিতাবগুলি আইনশাস্ত্র, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র ইতিহাস, জীবনী, মহাকাশবিজ্ঞান, গণিত ও রসায়নের উপর ছিল।
দেয়ালের চারপাশে কিতাবগুলো রাখা ছিল, যা তাকগুলিতে বিভক্ত ছিল। সূত্র জানায় যে, এই লাইব্রেরির একটি বড় অংশ দারুল হিকমাহতে গিয়েছিল। খলীফা আল-হাকিম দারুল হিকমাহের জন্য কিতাব কেনা ও সংগ্রহের জন্য বিশ্বের অনেক স্থানে এজেন্ট পাঠান। আরব ইতিহাসবিদ আল-মাকরিজি ৮৪৫ হিজরীতে গ্রন্থাগারের একটি সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন, ৩৯৫ হিজরী (শামসী ৩৭১, ১০০৪ খ্রিস্টাব্দ) ৮ জুমাদাল উখরা দারুল হিকমাহ শুরু করা হয়েছিল।
খিলাফতের বিভিন্ন স্থান হতে কিতাব আনা হয়েছিল এবং জনসাধারণের জন্য একে উন্মুক্ত করা হয়েছিল। যে কেউ চাইলে যে কোনো বই, যা সে কপি করতে চায় সে ব্যাপারে স্বাধীন ছিল। আবার জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে শাখার কিতাব সে অধ্যয়ন করতে চায় সে তা করতে পারত। গ্রন্থাগারটির মেঝে কার্পেট দ্বারা সজ্জিত ছিল, সমস্ত দরজা এবং করিডোরে পর্দা ছিল এবং স্থাপনাটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবস্থাপক নিয়োগ করা হয়েছিল। অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মীও নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
হিজরী ৪৬০ সালে, এই গ্রন্থাগারটি খোলার প্রায় ষাট বছর পরে, উজির আবুল ফারাজ তার সৈন্যদের বেতন দেওয়ার জন্য এই লাইব্রেরী হতে ২৫টি উট বোঝাই বই নিয়ে যান এবং ১ লক্ষ দিনারে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। কয়েক মাস পরে তুর্কি সৈন্যরা খলীফার বাহিনীকে পরাজিত করে, গ্রন্থাগারটি আক্রমণ করে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লুণ্ঠন করে।
সামরিক জনতা বইগুলো থেকে সূক্ষ¥ চামড়ার বাঁধন ছিঁড়ে সেগুলো থেকে জুতা তৈরি করে এবং পা-ুলিপির পাতাগুলো কায়রোর কাছে একটি জায়গায় পুড়িয়ে দেয় যা অনেক পরে বইয়ের পাহাড় নামে পরিচিত হয়।
-০-
চিত্র:
নুরুদ্দীন মাদরাসা (৫৬২ হিজরী; ১১৬৭ ঈসায়ী), দামেস্ক।
ছবি:
বাইতুল হিকমাহ (২০৫ হিজরী; ৮২১ ঈসায়ী), বাগদাদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বরফের ছোট চাঁদের চারপাশে বিশাল তরঙ্গের জাল আবিষ্কার
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা (ধারাবাহিক) ৪. যমীন থেকে মেঘের দিকেঃ এটা বিরল প্রকৃতির।
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরাই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৭)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৫)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিখ্যাত মুসলিম প্রকৌশলী রিদওয়ান আল-সাতীর আবিষ্কার করা উমাইয়া মসজিদের ঘড়ি
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সভ্যতার বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উইন্ডমিল বা বায়ুকল
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৩)
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












