৯৮ ভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানের সংজ্ঞা কতজন মুসলমান জানে? প্রকৃত মুসলমান না হয়ে শুধু বাহ্যিক মুসলমান দাবি কী অন্যায় নয়? মুসলমান মাত্রই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করতে হবে।
, ১৯ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০২ আশির, ১৩৯১ শামসী সন , ০১ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
তারা পবিত্র ঈদ পালন করেন। মুসলমান নাম ধারণ করেন। মুসলমান হিসেবে বাঁচেন। কিন্তু মুসলমানের অনুভূতি তাদের মধ্যে নেই। মুসলমানের দায়বোধ বা কর্তব্যবোধ নেই। মুসলমানের মর্যাদাবোধ নেই। মুসলমানের সংজ্ঞা জানা নেই।
মুসলমান হিসেবে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার সীমারেখা জানা নেই। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার পালনের আবশ্যকতাবোধ নেই। হালাল হারামের ইলম নেই। প্রতিটি কাজে নেকী-বদীর অনুভব নেই। জাহান্নামের ভয় নেই। জান্নাত উনার আকাঙ্খা নেই। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার পূত-পবিত্র হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কিত বিন্দুমাত্র ইলম নেই। উনাদের নিসবত-তায়াল্লুক মুবারক নেই। তায়াল্লুক মুবারক অর্জনের ইলম ও অনুভূতি কোনোটাই নেই। বর্তমান যামানায় আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই। যামানার ইমাম ও মুজাদ্দিদ তথা সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ও উনার সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কেও সম্যক উপলব্ধি নেই।
অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে যামানার ইমাম উনাকে চিনলো না সে যেন জাহিলিয়াতের মধ্যে মারা গেল।” নাঊযুবিল্লাহ!
মূলত, মুসলমানদের মৃত্যু পরবর্তী জীবনই যে আসল জীবন, সে চেতনা আজ কিছুই নেই। মুসলমান মিথ্যা বলতে পারে না। মুসলমান হারাম খেতে পারে না। মুসলমান দুর্নীতি করতে পারে না। মুসলমান মুনাফাখোরী হতে পারে না। সিন্ডিকেট করতে পারে না। মুসলমান শ্রমিককে ঠকাতে পারে না। গার্মেন্টসের শ্রমিকদের ফাঁকি দিতে পারে না। মুসলমান আমানত খিয়ানতকারী হতে পারে না। মুসলমান হিসেবে এসব দায়বোধ আজ শূন্যের কোঠায়।
বিপরীত দিকে মুসলমান মাত্রই সত্যবাদী। মুসলমান ইহসানকারী। মুসলমান ভ্রাতৃত্ববন্ধনে বিশ্বাসী। মুসলমান পরোপকারে নিবেদিত। মুসলমান ইয়াতীম, শিশু, মহিলার কল্যাণে উজ্জীবিত। এসব ইসলামী মূল্যবোধ আজ মুসলমানের অন্তর থেকে তিরোহিত। নাঊযুবিল্লাহ!
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নাম দিয়ে যারা রাজনৈতিক ফায়দা হাছিল করতে চায়; তাদের প্রতি আমাদের ধিক্কার আছে। কিন্তু মুসলমান নাম ধারণ করে যদি সম্মানিত ইসলামী অনুভব ও আমল না থাকে তাহলেও কী তা ধিক্কারের বিষয় নয়? মুসলমান পরিচয় এত সস্তা নয়! হাক্বীক্বী মুসলমান অর্থ মু’মিন হওয়া। এজন্য পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা বলো যে- তোমরা আত্মসমর্পণ করেছো কিন্তু তোমরা মু’মিন হওনি।”
এজন্য পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ তোমরা পরিপূর্ণভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করো।”
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করার অর্থ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত পরিপূর্ণভাবে পালন করা। হারাম গান-বাজনা, ছবি, খেলাধুলা, বেপর্দা-বেহায়া ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা। পক্ষান্তরে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র হাত মুবারকে বাইয়াত হওয়া, সুন্নতী পোশাক পরা, যিকির-আযকার করা, তায়াল্লুক নিসবত হাছিল করা। এটাই হচ্ছে মুসলমানের পরিচয়।
কিন্তু মুসলমান আজ মুসলমানের পরিচয় ভুলে যাচ্ছে। বাস্তবে হাইব্রিড শস্যাদিকে যেমন মানুষ আসল শস্য বলছে না। কিন্তু হাইব্রিড শস্য ফলেও প্রচুর আর আকারেও বড়; কিন্তু স্বাদে মাকাল। ঠিক আজ মুসলমান ঘরে ঘরে। মুসলমান চারদিকে। কিন্তু আসল মুসলমান কয়জন?
প্রসঙ্গত, ভুয়া ডাক্তার, ভুয়া শিক্ষক, ভুয়া সাংবাদিক, ভুয়া র্যাব, ভুয়া পুলিশ আমাদের সমাজে চিহ্নিত হয়। পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় এবং আইনে তাদের শাস্তিও হয়। কারণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা যোগ্যতাধারী না হয়েও তারা সে পরিচয় জ্ঞাপনকারী। যদি তাই হয়, তাহলে হক্কানী মুসলমান না হয়েও নিজেকে মুসলমান ভাবা বা সমাজে মুসলমান পরিচয় দেয়া কী অপরাধের বিষয় নয়?
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক ও উনার প্রিয় রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ফায়ছালা অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে পরিপূর্ণরূপে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে না নিবে।”
যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে আধুনিকতার নামে, প্রগতির নামে ৯৮ ভাগ মুসলমানদের দেশে হারাম গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্রিটিশ ফৌজধারী ও দেওয়ানী দ-বিধি, সুদী অর্থব্যবস্থা, দ্বীনবিহীন শিক্ষাব্যবস্থা ইত্যাদি কিছুই চলতে পারে না। কারণ মুসলমান তা গ্রহণ করতে পারে না। বরদাশত করতে পারে না। মুসলমান হিসেবে এখানে আমাদের প্রতিবাদকারী ও প্রতিহতকারী হতে হয়। কিন্তু আজ সারাদেশ হারামে সয়লাব হলেও মুসলমানের মধ্যে কোনো বিকার নেই। কোনো প্রতিবাদী চেতনা নেই। প্রতিহতের জজবা নেই। অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান আনবে।”
প্রতিভাত হচ্ছে, সৎকাজের নির্দেশ দেয়া ও অন্যায় কাজে বাধা দেয়া ঈমানদার তথা মুসলমান হওয়ার শর্ত। কাজেই আজ মুসলমান কতটুকু মুসলমান আছে সেটা জ্বলন্ত প্রশ্ন? মনে রাখতে হবে ‘মুসলমান’ অতি উচ্চাঙ্গের শব্দ। অতি মর্যাদাপূর্ণ শব্দ। মুসলমান সব সদগুণাবলীর শব্দ। সব অন্যায় পরিত্যাগের শব্দ। পরিপূর্ণভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশের শব্দ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করার মতো ভয় করো। এবং তোমরা পরিপূর্ণ মুসলমান না হয়ে ইন্তিকাল করো না।”
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মার্কিন দূত যে বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে গেলো, সরকারকে হুমকী-ধামকি দিলো তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হলো কৈ? সরকারী দল, বিরোধী দল, তথাকথিত সব ইসলামিক দল থেকে সব সুশীল, চিন্তাশীল, বিশ্লেষক তথা সব মহল কেউই কিন্তু প্রতিবাদ করলো না
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












