হিকায়াতুল আবরার বা নছীহতমূলক ঘটনাসমূহ
, ০২ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৯ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ১৭ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ০১ অগ্রহায়ণ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি খুব বড় বুযুর্গ মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন, যিনি হযরত মুজাদ্দিদ আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা শায়খ আব্দুল আহাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর সাহেব ছিলেন। সেই আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খুব বড় মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বুযুর্গ ছিলেন। তিনি একদিন সফরে যাচ্ছিলেন, এক পাহাড়িয়া এলাকা দিয়ে সফর করে। ভ্রমণ করছিলেন এক পাহাড়িয়া এলাকায়। গিয়ে দেখলেন, এক পাহাড়ের গুহার কাছে কিছু লোক জমা হয়ে রয়েছে পাহাড়ের কাছে। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন- হে ব্যক্তিরা তোমরা যে পাহাড়ের এখানে জমা হয়ে রয়েছ, কি কারণ? লোক নেই জন-মানবহীন এলাকা। এখানে তোমরা কি কর? লোকেরা জবাব দিল- যে হুযূর! এই পাহাড়ের এই গুহার ভিতরে একজন লোক থাকে। এক সাধক থাকে সে বৎসরে একদিন বের হয়। বের হয়ে মানুষেরা তেল-পানি ইত্যাদি যা নিয়ে আসে এগুলোতে ফুঁ দেয়। সেগুলো ফুঁ দিলে, যে যে নিয়তে নিয়ে আসে সেই নিয়তটা তার কামিয়াব হয়, হাসিল হয়। আমরা এসেছি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সাধক বের হয়ে আসবে। আসলেই আমরা সেগুলি ফুঁ নিবো, সেই ব্যক্তি ফুঁ দিলে আমরা এগুলি নিয়ে চলে যাব। তিনি বললেন যে, কোথায়? এই পাহাড়ের ভিতর একটা গুহা আছে। গুহার মধ্যে কোন দরজা-জানালা নেই। একটা মাত্র ছিদ্র আছে। হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তাহলে এই লোকটা বের হয় কি দিয়ে। তারা বললো যে, হুযূর এই লোকটা একটি ছিদ্র দিয়ে বের হয়। ছিদ্র দিয়ে আবার প্রবেশ করে। আশ্চর্য ব্যাপার। কোন দরজা নেই কোন জানালা নেই বের হওয়ার মত। কিন্তু একটা মাত্র ছিদ্র, ছোট্ট একটা ছিদ্র। যেটা দিয়ে বের হয় এবং প্রবেশ করে। লোকটা ছিল যুগী। হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চিন্তা করলেন, লোকটা তো মানুষকে গোমরাহ করছে। তিনি করলেন কি, তিনি যেহেতু বড় মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বুজুর্গ ছিলেন, তিনি বাতাস হয়ে গেলেন। বাতাস হয়ে তিনি ঠিক ঐ ছিদ্র দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেন। করে দেখেন সে যুগী ভিতরে বসা আছে, সে বের হবে। তিনি যখন ভিতরে প্রবেশ করলেন উনাকে দেখে সেই যুগী বললো- যে তুমি কে এখানে প্রবেশ করলে? কার পারমিশনে তুমি এখানে আসলে? হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন যে, দেখ আমি অমুক আব্দুল কুদ্দুস। আমি একজন মুসলমান, তোমার এখানে আমি এসেছি। তুমি এখানে কি কর? সে ব্যক্তি বললো যে, আমার এখানে তো কারো আসার পারমিশন নেই। কেন আপনি এখানে প্রবেশ করলেন? তিনি বললেন, প্রবেশ করলাম তোমার বুযুর্গী দেখার জন্য। তুমি ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ কর, ছিদ্র দিয়ে বের হও। মানুষ তোমার ভক্ত হচ্ছে। মানুষ গোমরাহ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন, সেটা তোমাকে বলার জন্য। সে বললো যে হ্যাঁ, আমি সাধনা করে এটা হাসিল করেছি। এটা আমার হক্ব, আমার প্রাপ্য। তখন হযরত আব্দুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাকে বললেন যে ঠিক আছে, তুমি যে সাধনা করেছ, আচ্ছা তুমি একটা কাজ করতে পার? আমি যদি বলি, আমি যা বলবো তুমি সেটা হতে পারবে? তুমি কি পানি হতে পার? সে ব্যক্তি বললো, হ্যাঁ আমি পানি হতে পারি। তিনি বললেন- যে তুমি পানি হও তো দেখি। সে পানি হলো। তিনি করলেন কি উনার যে রুমাল ছিল, রুমাল দিয়ে অল্প একটু পানি ভিজায়ে রাখলেন। সে আবার যখন মানুষ হয়ে গেল। স্বাভাবিক তখন তিনি বললেন- যে এক কাজ কর, আমি এখন পানি হব, হলে তুমি তোমার একটা কাপড়ের টুকরা দিয়ে সেখান থেকে কিছু পানি রেখে দিও, সে বললো ঠিক আছে। তিনি পানি হলেন, সে কিছু পানি রেখে দিল। তিনি আবার স্বাভাবিক মানুষ হয়ে গেলেন, যখন স্বাভাবিক মানুষ হলেন, তখন বললেন, কোথায় পানিটা রেখেছ সেটা দেখাও তো? সে একটা কাপড় ভিজা দেখাল, সেখানে আতর-গোলাপের ঘ্রাণ। আর তার যে পানি রাখা হয়েছিল সেটা দেখানো হলো। দেখতো এটা কিসের ঘ্রাণ, এখানে দেখা যায় দুর্গন্ধ, মল-মূত্রের গন্ধ। সে বললো, হুযূর এটার কি হাক্বীক্বত? আপনারটা আতর গোলাপের ঘ্রাণ, আর আমারটার মধ্যে দুর্গন্ধ তার কি হাক্বীক্বত? তিনি বললেন- যে তার হাক্বীক্বত কি জান? তুমি কি করে এটা হাসিল করেছ বলো তো দেখি? সে বললো- আমি সব সময় নফসের বিরোধীতা করি। সবসময় আমি আমার নফসের বিরোধীতা করি। যার বদৌলতে আমি এটা হাসিল করতে পেরেছি। তিনি বললেন- তাই নাকি। আচ্ছা আমি যদি তোমাকে বলি তুমি এখন ঈমান আন। কলেমা পড়তো দেখি। কালেমা পড়ে তুমি ঈমান আন। সে তখন সমস্যায় পড়ে গেল। কারণ সবসময় সে তার নফসের বিরোধীতা করে। এখন তার নফস চায় না সে কলেমা পড়ুক। তিনি বললেন- যে তুমি কলেমা পড়, তাহলে তুমি তার হাক্বীক্বত বুঝবে। সে বললো- যে আমার নফসতো সেটা চায় না। তিনি বললেন- দেখ তোমার এত বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ, পঞ্চাশ, ষাট বৎসরের সাধনা তুমি নফসের বিরোধীতা করে এটা হাসিল করেছ, এখন যদি তুমি নফসের বিরোধীতা না কর, তার পক্ষে থাক, তোমার এটা নষ্ট হয়ে যাবে। এখনই তোমার বিরোধীতা করা উচিত। তখন সে উনার কথায় তার এই জিনিসগুলি ঠিক রাখার জন্য সে পবিত্র কালেমা শরীফ পাঠ করলো।
لا اله الا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم.
সে পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেল। হয়ে যাওয়ার পর তিনি বললেন- যে ঠিক আছে এক কাজ কর, এবার তুমি আবার পানি হও, সে আবার পানি হলো তিনি একটু পানি আবার রেখে দিলেন, সে যখন আবার স্বাভাবিক মানুষ হলো, তাকে ঘ্রাণ নিতে দিলেন। দেখতো আতর-গোলাপের গন্ধ। (সুবহানাল্লাহ) আতর-গোলাপের ঘ্রাণ হয়ে গেছে তোমার মধ্যে, কি ব্যাপার।
انما المشركون نحبس নিশ্চয়ই মুশরিক কাফির যারা, তারা নাপাক তাদের থেকে দুর্গন্ধ বের হবে। এখন এটা ফিকিরের বিষয়। যেটা আমার বলার উদ্দেশ্য হলো- এই যুগী ব্যক্তিটা জীবনভর নফসের বিরোধীতা করে সে কিছু হাসিল করেছে এবং ঠিক কলেমা শরীফটাও নফসের বিরোধীতা করতে গিয়ে সে পাঠ করলো। যার বদৌলতে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ঈমান দিয়ে দিলেন, সে আল্লাহওয়ালা হয়ে গেল। (সুবহানাল্লাহ)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অকাট্য দলীল দ্বারা সুস্পষ্টভাবে “গান-বাজনা” হারাম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফিররা যতই মাল-সম্পদ খরচ করুক, তারা মুসলমানদের নিকট পরাস্ত হবেই হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












