হাজার বছরের গন্তব্য ওয়াদি আস সালাম (২)
, ০৪ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১০ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ০৮ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ২৩ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পাঁচ মিশালী
গোরস্তানের প্রতিটি সড়ক কিংবা গলি নানা রকমের চিহ্ন দিয়ে ভরা। কখনো মানুষের ছবি রয়েছে, কখনো মানুষের ছবি ছাড়া। সে চিহ্ন ও নাম দিয়ে বিশেষ ব্যক্তির নামে থাকা প্লটকে নির্দেশ করে। একটা বড় পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত প্লটের বিস্তৃতি ওয়াদি আস সালামে আট বর্গমিটার। সেখানে প্রায় আট-নয়টি কবর দেয়া যায়। কবর দেয়ার একটা পদ্ধতি হলো সেরদাব। সাধারণত এ ধরনের কবর দুই-চার মিটার গভীর। মরদেহ রাখা হয় নিচের দিকে, তারপর কয়েক পর্যায়ে দেয়া হয় মাটি। কবর দেয়ার এ পদ্ধতি প্রাচীন। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার আমলেও এ ধরনের কবর প্রচলিত ছিল। ওয়াদি আস সালামের মাটিতে কবর দেয়ার ক্ষেত্রেও পদ্ধতিটি বেশ ফলপ্রসূ হিসেবে স্বীকৃত। কারণ মাটির প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে মুসলিমদের মধ্যে কবরের ভিন্নতা লক্ষ করা যায় সচরাচর। সেদিক থেকে দেখলে ওয়াদি আস সালামের কবরগুলো মুসলিম সমাজে দেয়া কবরের প্রচলনসংক্রান্ত দীর্ঘ ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল। এই যেমন কবরের কতটুকু গভীরতা হওয়া দরকার, কতটা প্রশস্ত এবং মরদেহ কীভাবে রাখতে হয়, সবকিছু নিয়েই। মৃতের মাথা সাধারণত মক্কা শরীফের দিকে মুখ করে রাখা হয়। মুসলিম কবরের বিশেষ রীতির মধ্যে এটাও একটা। শিয়া ও সুন্নিদের অধিকাংশই এটা অনুসরণ করে।
শিয়া-সুন্নি উভয়েই মনে করে, মৃত্যু ও কবর দেয়ার মধ্যবর্তী সময় হতে হবে খুব সংক্ষিপ্ত। কোনোভাবেই যেন একদিনের চেয়ে বেশি না হয়। এজন্য কবর দেয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত দ্রুততা থাকে। কোনো মরদেহ অন্য কোথাও কবর দেয়া হলে পরে নাজাফে সরিয়ে আনার ব্যাপারে অনুমোদন দেয়া হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যে গোসল, কাফন ও জানাযার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। মরদেহ গোরস্তানে নেয়ার আগে থেকেই তৈরি থাকবে কবর। তবে ওয়াদি আস সালামের ক্ষেত্রে আচার কিন্তু এখানেই শেষ নয়। মৃত্যুর পর মর্সিয়া, কবর যিয়ারত ও সমাধিস্থানে সৌধ নির্মাণ করাও জরুরি বলে গণ্য করা হয় এখানে।
ওয়াদি আস সালামে দিনের সবসময়ই যাওয়া যায়। যাওয়া যায় সপ্তাহের সাতদিনই। তবে নাজাফের মানুষ সাধারণত জুমুয়াবার গোরস্তানে যায়। বছরে বেশি যায় রমাদ্বান শরীফ মাসে। ইসলামী বিশেষ দিনগুলোতেও ওয়াদি আস সালামে থাকে ভিড়। লাইলাতুল কদরের রাত তালাশে বিজোড় রাত্রিগুলোতে যিয়ারতের ঢল নামে।
বিশ্বের বৃহত্তম গোরস্তান হওয়ায় ওয়াদি আস সালামের একটা দীর্ঘ ঐতিহাসিক বয়ানও রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, সেখানে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনেকে এবং ইমাম শ্রেণীর ব্যক্তি কবরস্থ হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস ইমাম জাফর ছাদিক আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার রওজা মুবারক যিয়ারতে আসতেন, তিনি একটা জায়গায় বিশ্রাম নিতেন। পরে সেখানে উনার নামে গড়ে ওঠে সৌধ। সৌধ রয়েছে ইমাম মাহদি আলাইহিস সালাম উনার নামেও। সম্প্রতি দুটি সৌধই পুনরায় নির্মাণ করা হয়েছে।
ওয়াদি আস সালামের ইতিহাস প্রায় দেড় হাজার বছরের। দেড় হাজার বছরে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও সংঘাতের সাক্ষী এ গোরস্তান। আরব, তুর্কি, আফগান কিংবা মোঙ্গল যুগ থেকে শুরু করে আইএসের উত্থান পর্যন্ত চিহ্ন ধারণ করে টিকে আছে এখনো। প্রতিদিন প্রবেশ করছে মরদেহ। সঙ্গে বাড়ছে ওয়াদি আস সালামের ইতিহাস।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঘুমের আগে মোবাইল চালানোর অভ্যাসে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৬০০ বছরের সাক্ষী মানিকগঞ্জের মাচাইন শাহী মসজিদ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কার্বোহাইড্রেট মানেই কি ক্ষতিকর?
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সৌন্দর্যে মোড়ানো আল-আমান বাহেলা মসজিদ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ডায়াবেটিস থাকলে ইফতার ও সাহরির মাঝে কি খাবেন?
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আধুনিক স্থাপত্যের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ আল মুস্তফা
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
রোযায় জরায়ু ও স্তন ক্যানসার রোগীদের করণীয়
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভিটামিন সি কেন প্রয়োজন?
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিড়াল কেন এক পাশে ঘুমায়?
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দুই শতাব্দীর সাক্ষী রূপসা জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাকিস্তানে ঐতিহাসিক ১২০ বছরের ‘বাবা জি’ মসজিদ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতারে যেসব পানীয় পানে দূর হবে ক্লান্তি
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












