ক্বাদিরিয়া সিলসিলার আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের জীবনী মুবারক
হযরত শায়েখ আবূ সাঈদ মুবারক মাখযুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি
বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) বিছাল শরীফ: ৫১৩ হিজরী (১১২৩ খ্রিস্টাব্দ)
, ১৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৫ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৪ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পরিচিতি:
উনার প্রকৃত নাম মুবারক হচ্ছেন, হযরত মুবারক বিন আলী বিন হুসাইন মাখযুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি, আবূ সাঈদ উনার কুনিয়াত বা উপনাম। তিনি হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনার বন্ধু ছিলেন। হাম্বলী মাযহাবের শায়েখ ছিলেন। হযরত শায়েখ আবুল হাসান হাক্কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাতে বাইয়াত হয়েছিলেন তিনি। মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার নিকট থেকে বেলায়েতের খিরক্বা প্রাপ্ত হয়েছিলেন। (সফিনাতুল আওলিয়া)
অন্যান্য ঘটনাবলী:
হযরত গাউছুল আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আমার প্রাথমিক অবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার সঙ্গে এই অঙ্গীকার করেছিলাম, যে পর্যন্ত তিনি নিজে আমাকে কিছু না খাওয়াবেন, আমি কিছুই খাবো না, এবং যে পর্যন্ত তিনি নিজে আমাকে কিছু পান না করাবেন, আমি কিছুই পান করবো না। চল্লিশ দিন এই অবস্থায় কেটে গেলো। অতঃপর হঠাৎ এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে আমাকে কিছু খাদ্য দিয়ে চলে গেলো। ক্ষুধা আমার উপর এত বেশী প্রবল হয়ে উঠেছিলো যে, আমার নফ্স খাদ্য গ্রহণ করার জন্য আগ্রহান্বিত হয়ে পড়লো। কিন্তু আমি মনে মনে বললাম, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার সঙ্গে যে অঙ্গীকার করেছিলাম, তার উপর কায়েম থাকবো, তা থেকে এক বিন্দুও নড়বো না। হঠাৎ গায়েব থেকে আমি একটি আওয়াজ শুনতে লাগলাম, কেউ বলছে: ক্ষুধা, ক্ষুধা। এমন সময় আমার শায়েখ হযরত আবূ সাঈদ মুবারক মাখযুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রকাশ পেলেন। তিনি এই আওয়াজ শুনে বললেন, হে আব্দুল ক্বাদির! ইহা কি? আমি আরজ করলাম, ইহা আমার নফসের ব্যাকুলতা ও অস্থিরতা। কিন্তু আমার রুহ স্বস্থানে ঠিক আছে এবং ইসতিগরাক ও ইন্দ্রিয়-বহিঃর্ভূত জগতে ডুবে আছে। তিনি তখন বললেন, আচ্ছা, আমার সঙ্গে আমার ঘরে চলুন। আমি অত্যন্ত কাতর হয়ে উনার নিকট আরজ করলাম, আমি এখান থেকে নড়বো না। এমন সময় হযরত খিযির আলাইহিস সালাম তাশরীফ আনলেন এবং বললেন, উঠুন! আবূ সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে চলুন। অতঃপর আমি উনার সঙ্গে চললাম। অতঃপর উনার গৃহের নিকটবর্তী হলে দেখতে পেলাম, হযরত আবূ সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ঘরের দরজা খুলে আমার অপেক্ষায় দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে দেখেই তিনি বলতে লাগলেন, হে আব্দুল ক্বাদির! আমি যে কথা বলেছিলাম তা কি আপনার জন্য যথেষ্ট ছিলো না? হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনাকেও বলার প্রয়োজন হলো? অতঃপর তিনি আমাকে সঙ্গে করে উনার ঘরের ভিতরে নিয়ে গেলেন এবং যে খাদ্য প্রস্তুত করা ছিলো তা লোক্মা লোক্মা করে আমার মুখে নিজ হাতে দিতে লাগলেন। এমনকি আমি পেট ভরে খেলাম। অতঃপর তিনি আমাকে তরীক্বতের খিরক্বা পরিয়ে দিলেন। আমি উনার ছোহবতে থাকতে লাগলাম। (নাফাহাতুল উনস)
মাদরাসায়ে বাবুল আযখ-এর ইমারত যা হযরত গাউছুল আ’যম বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফে ছিলো, উহা হযরত আবূ সাঈদ মাখযুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিই তৈরী করিয়েছিলেন। সুতরাং হযরত গাউছুল আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফ সেই ইমারতের মধ্যেই অবস্থিত। হযরত আবূ সাঈদ মাখযুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হিজরী ৫১৩ সনে বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। (সফিনাতুল আওলিয়া)
হযরত শায়েখ আবূ সাঈদ মাখযুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জাহেরী ইলিমেও একজন বড় আলিম ছিলেন। তিনি কাযী আবূ ইয়ালা এবং আরো অনেকের থেকে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন। শায়েখ আবূ জা’ফর বিন আবূ মূসা উনার নিকট ফিকাহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। উনার তাওয়াজ্জুহ ও কোলাকোলির একটা বিশেষ প্রভাব ছিলো। যে কোন লোকের প্রতি তিনি খাছ তাওয়াজ্জুহ করতেন অথবা কোলাকোলি করতেন, তিনি দুনিয়া ও দুনিয়ার যাবতীয় বস্তু থেকে বে-খবর হয়ে যেতেন। হযরত শায়েখ আবূ সাঈদ মাখযুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার যামানার শ্রেষ্ঠতম ফক্বীহ ও শ্রেষ্ঠতম বুযূর্গ ইমাম ছিলেন এবং জাহেরী-বাতেনী ইলমের ঝরণা ছিলেন। তিনি বাহাছ মোনাযারায় যথেষ্ট দক্ষতা রাখতেন। তিনি হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। বাবুল আযজ নামে ঐতিহাসিক মাদরাসা তিনিই কায়েম করেছিলেন এবং নিজের জীবন কালেই তা হযরত গাউছুল আ’যম বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট সোপর্দ করেন। উনার জীবনকালে তিনি উক্ত মাদরাসায় দরস্ তাদরীস দিতেন। উনার বিছাল শরীফের পরে উনার ছাহেবযাদাগণও উক্ত মাদরাসায় পড়াতেন।
তিনি নিজেই বলেন, হযরত শায়েখ আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমার নিকট থেকে খিরক্বা পরেছেন, আর আমি উনার নিকট থেকে এবং আমাদের প্রত্যেকে একে অপর থেকে তার্বারুক নিয়েছি। তিনি হযরত খিযির আলাইহিস সালাম উনার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। ছবর, রেযা, তাওয়াক্কুল ইত্যাদিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়-পদ এবং একজন উচ্চ মাক্বাম ও কারামত বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ। হিজরী ৫১৩ সনে তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। উনার মাযার শরীফ উক্ত মাদরাসার মধ্যেই অবস্থিত। (আদুররুরল মুনাজ্জেম ফি মানাকবে গাউছুল আ’যম, তাজকিরায়ে মাশায়েখে কাদেরিয়া বারকাতিয়া রিজভিয়া)
সূত্র: সফিনাতুল আউলিয়া, নাফাহাতুল উন্স, মাসালিকুস সালেকীন, আদদুররুল মুনাজ্জেম ফী মানাকিবে গাউছুল আ’যম, তাজকিরায়ে মাশায়েখে কাদেরিয়া বারকাতিয়া রিজভিয়া। (সমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তিনটি বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘গরুর গোশতে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পক্ষ থেকে উম্মতের ১২ হাজার কুরবানী করার ঐতিহাসিক অকাট্য দলীল (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা ফরয
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












