হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে বাতিল ফিরক্বা কর্তৃক উত্থাপিত সমালোচনা সমূহের দলীলসম্মত জাওয়াব (২৬)
, ২৩ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৯ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ২৭ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ১১ কার্তিক, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ফযীলত ও মর্যাদা
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এতই বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত ও মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি জিহাদের ময়দানে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাহায্যার্থে হাজার হাজার ফিরিশতা নাযিল করেছেন। যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্মরণ করুন, যখন আপনি মু’মিনগণকে (অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে) বলেছিলেন, ইহা কি আপনাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, আপনাদের মহান প্রতিপালক তিনি প্রেরিত তিন হাজার ফিরিশ্তা দ্বারা আপনাদেরকে সহায়তা করবেন? হ্যাঁ। আর যদি আপনারা ছবর করেন এবং তাক্বওয়া হাছিল করেন আর তারা অর্থাৎ কাফিরেরা দ্রæত গতিতে আপনাদের উপর আক্রমণ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফিরিশ্তা দ্বারা আপনাদেরকে সাহায্য করবেন।” (সূরা আলে ইমরান শরীফ-১২৫)
উক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারীতে” উল্লেখ আছে, “হযরত মুহম্মদ বিন ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন হযরত সা’দ বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে থেকে তীর নিক্ষেপ করছিলেন। এক যুবক তীর সংগ্রহ করে দিচ্ছিলেন। তীর শেষ হয়ে গেলে এক যুবকের আকৃতিতে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তীর এনে দিলেন এবং বললেন, হে আবু ইসহাক নিক্ষেপ করুন। যুদ্ধ শেষ হলে ওই যুবকটিকে আর দেখা গেলো না। সুবহানাল্লাহ!
উক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় “তাফসীরে মাযহারীতে” আরো উল্লেখ আছে, “আহ্যাব যুদ্ধের সময় বনূ কুরাইজা এবং বনু নাজির গোত্রদ্বয়কে অবরোধ করার সময় নেমে এসেছিলো মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ সাহায্য। যেমন এ প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবূ আউফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আমরা যখন বনী কুরাইজা এবং বনী নাজীর গোত্রদ্বয়কে অবরোধ করলাম কিন্তু তখনও আমরা পরিপূর্ণভাবে বিজয়লাভ করিনি। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পানি চাইলেন, এবং উক্ত পানি দিয়ে তিনি উনার নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) ধৌত করবেন, এমতাবস্থায় হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এসে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, আপনারা রণসজ্জা রেখে দিয়েছেন। অথচ ফিরিশতাগণ এখনো অস্ত্রসজ্জিত। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) ধৌত না করেই পাগড়ী মুবারকের কাপড় চেয়ে নিয়ে নূরুল হুদা মুবারকে পরিধান করে রণসাজে সজ্জিত হয়ে সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে কাছে ডাকলেন। আমরা সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমও রণসাজে সজ্জিত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে উপস্থিত হলাম। অতঃপর বনী কুরাইজা এবং বনী নাজীর গোত্রদ্বয়ের বস্তিতে গিয়ে পৌঁছলাম। সেদিন মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তিন হাজার ফিরিশতা দ্বারা সহায়তা করেছেন। অতি সহজেই বিজয় লাভ করলাম আমরা।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতিয়মান হয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যে কত মুহব্বত করেন যা বলার অপেক্ষাই রাখে না। যার বাস্তব প্রমাণ হলো, যুদ্ধের মতো কঠিন মুহ‚র্তেও মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাহায্যার্থে হাজার হাজার ফিরিশ্তা নাযিল করেছেন। সুতরাং এরপরেও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমালোচনা করা কি করে জায়িয হতে পারে? (চলবে)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












