জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) বিছাল শরীফ: ৩য় হিজরী (৬২৪ খৃ:)
, ১৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৪ রবি , ১৩৯২ শামসী সন , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৬ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
প্রকৃত নাম মুবারক আবদুল্লাহ, উপনাম আবু জাবির, পিতা ‘আমর ইবনে হারাম এবং মাতা আর-রাবাব বিনতে কায়েস, বিখ্যাত ছাহাবী হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পিতা। মদীনা শরীফের খাযরাজ গোত্রের বনু সালিমা শাখার লোক, বনু সালিমার একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। তিনি বাইয়াতে আকাবায় অংশগ্রহণ করেন, আকাবার নক্বীবগণ (দল-নেতা) উনাদের একজন, তিনি এবং হযরত আল-বারা বিন মা’রূর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উভয়ে বনু সালিমার নক্বীব ছিলেন। (ইছাবা, উসুদুল গাবা)
দ্বীন ইসলাম গ্রহণ ও আকাবায় অংশগ্রহণ:
ইসলাম-পূর্ব আরবের লোকেরা পবিত্র মক্কা শরীফে গিয়ে হজ্জ ও উমরাহ আদায় করত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের ১৩তম বছরে হজ্জের মওসুমে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে হজ্জের উদ্দেশ্যে একটি বড় কাফিলা মক্কা শরীফে আসেন। তখন পর্যন্ত পবিত্র মদীনা শরীফে হযরত মুছয়াব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাতে গোপনে ও প্রকাশ্যে দ্বীন ইসলাম গ্রহণকারীরা ছাড়াও অনেক পৌত্তলিক এ কাফিলায় ছিল। হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও ছিলেন এ কাফিলার সদস্য। তিনি তখনও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেননি। (সীরাতে ইবনে হিশাম)
এই সফরে উনার ছেলে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুসলমান হিসাবে অংশগ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে আনছারী ছাহাবী হযরত কা’ব ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমরা হজ্জের উদ্দেশ্যে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে রওয়ানা হলাম। পবিত্র মক্কা শরীফে পৌঁছে আইয়্যামে তাশরীকের মাঝামাঝি কোন এক রাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আকাবা উপত্যকায় মিলিত হওয়ার কথা চূড়ান্ত করলাম। হজ্জ শেষ করলাম এবং সাক্ষাতের নির্ধারিত রাতটিও এসে গেল। আমাদের সাথে ছিলেন হযরত আবু জাবির আবদুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি একজন নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তি। তিনি ও আমরা সফরসঙ্গী ছিলাম। পৌত্তলিক সফরসঙ্গীদের নিকট আমরা আমাদের পরিকল্পনা গোপন রাখলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাতের কিছু পূর্বে আমরা উনাকে বললাম, আবু জাবির! আপনি আমাদের নেতা। আপনি একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। যে বিশ্বাস নিয়ে আপনি আছেন, তার উপর মারা গেলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। এভাবে এক পর্যায়ে আমরা উনাকে দ্বীন ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলাম এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আকাবায় নির্ধারিত সাক্ষাতের সময়ের কথাও জানালাম। তিনি তখনই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আমাদের সাথে আকাবায় বাইয়াতে শরীক হন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে বনু সালামার নক্বীব (দায়িত্বশীল নেতা) মনোনীত করেন। ইহা ছিল আকাবার শেষ বাইয়াত।
হযরত আবু জাবির আবদুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পর নিজের পরনের অপবিত্র পোশাক পরিচ্ছদ খুলে ফেলে হযরত বারা ইবনে মা’রূর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দেওয়া দু’খানি কাপড় পরিধান করেন। আকাবার শেষ বাইয়াতে এভাবে পিতা-পুত্র দুইজনই অংশগ্রহণ করেন।
জিহাদে অংশগ্রহণ:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বদর ও উহুদের জিহাদে অংশগ্রহণ করেন।
উহুদের জিহাদের পূর্বে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পুত্র হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ডেকে বলেছিলেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি নিজেকে প্রথম শাহাদাতের তালিকায় দেখতে পাচ্ছি। আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যতীত আপনার চেয়ে প্রিয়তর আর কাউকে এই পৃথিবীতে রেখে যাচ্ছি না। আমার কিছু ঋণ রয়ে গিয়েছে। আপনি আমার এই ঋণ পরিশোধ করে দিবেন। আমি আপনাকে আপনার বোনদের সাথে ভাল আচরণ করার জন্যও ওছীয়ত করছি। (উসুদুল গাবা) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












