সুগন্ধি, আতর ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক (৭ম পর্ব)
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৩ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২৮ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
সুগন্ধির প্রকারভেদ :
সুগন্ধি দুই প্রকার- ১. রং গাঢ়, কিন্তু সুঘ্রাণ কম। ২. সুঘ্রাণ বেশি, কিন্তু রং খুবই হালকা।
মহাসম্মানি মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পুরুষদেরকে রংবিহীন সুঘ্রাণযুক্ত সুগন্ধি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কেননা, রং পুরুষের জন্যে সমীচীন নয়। আর মহিলাদের সুগন্ধি রঙিন ও অপেক্ষাকৃত কম সুঘ্রাণযুক্ত হওয়া চাই, যাতে এ সুঘ্রাণ কোনো পর পুরুষ পর্যন্ত না পৌঁছে। হ্যাঁ, যদি গৃহের অভ্যন্তরে থাকে- বাহিরে বের না হয়, তাহলে যে কোনো ধরনের সুগন্ধিই ব্যবহার করতে পারবে।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طِيْبُ الرِّجَالِ مَا ظَهَرَ رِيحُهٗ وَخَفِيَ لَوْنُهٗ وَطِيْبُ النِّسَاءِ مَا ظَهَرَ لَوْنُهٗ وَخَفِيَ رِيحُهٗ.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘পুরুষ এমন সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যার মধ্যে সুবাস থাকবে। কিন্তু কোনো রং থাকবে না। আর মহিলারা এমন সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যার মধ্যে রং থাকবে, কিন্তু সুবাস থাকবে না। ’ (তিরমিযী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং-: ২৭১১)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ خَيْرَ طِيْبِ الرَّجُلِ مَا ظَهَرَ رِيحُهٗ وَخَفِيَ لَوْنُهٗ وَخَيْرَ طِيْبِ النِّسَاءِ مَا ظَهَرَ لَوْنُهٗ وَخَفِيَ رِيحُهٗ .
অর্থ: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে ইরশাদ মুবরক করেন, যে সুগন্ধির গন্ধ আছে কিন্তু রং নেই সেটিই পুরুষের জন্য উত্তম সুগন্ধি এবং যে সুগন্ধির রং আছে কিন্তু গন্ধ নেই সেটিই মহিলাদের জন্য উত্তম সুগন্ধি। (তিরমিযী শরীফ- ২৭৮৮)
যে সময় সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে:
১. পবিত্র হজ্জ ও উমরাহ করার সময় ইহরাম অবস্থায়।
২. মহিলাদের জন্য শোক পালনরত অবস্থায়।
ইহরাম বাঁধার মধ্য দিয়ে পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরাহর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইহরাম শব্দের আভিধানিক অর্থ নিষিদ্ধ করা। পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যখন পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র উমরাহ কিংবা উভয়টি পালনের উদ্দেশ্যে নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করে, তখন সে ব্যক্তির উপর কিছু হালাল কাজ হারাম হয়ে যায়। এ কারণেই এ প্রক্রিয়াকে ‘ইহরাম’ বলা হয়। ইহরাম বাঁধার পর যেসকল কাজ মুহরিম ব্যক্তির জন্য হারাম হয়ে যায় তন্মধ্যে একটি হলো, সুগন্ধি ব্যবহার করা। অর্থাৎ ইহরাম বাঁধার সাথে সাথে সুগন্ধি ব্যবহার হারাম হয়ে যায়।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা (ইহরাম অবস্থায়) জাফরান কিংবা ওয়ারস (এক জাতীয় সুগন্ধি) লাগানো কাপড় পরিধান করবে না। ’ (বুখারী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১৮৩৮)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا قَالَتْ كُنَّا نُنْهٰى أَنْ نُحِدَّ عَلٰى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ، إِلَّا عَلٰى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا، وَلَا نَكْتَحِلَ وَلَا نَتَطَيَّبَ.
অর্থ:- হযরত উম্মু আতিয়্যাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন মৃত ব্যক্তির জন্যে আমাদের তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হতে নিষেধ করা হতো। কিন্তু আহালের (আহাল ইন্তেকালের) ক্ষেত্রে চার মাস দশদিন (শোক পালনের অনুমতি ছিল)। আমরা তখন সুরমা লাগাতাম না, সুগন্ধি ব্যবহার করতাম না। (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৩১৩)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
حَضْرَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا قَالَتْ نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا تَمَسَّ طِيْبًا إِلَّا أَدْنٰى طُهْرِهَا.
অর্থ:- হযরত উম্মু আতিয়্যাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিষেধ করেছেন শোক পালনকারিণী যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে। (বুখারী শরীফ: ৫৩৪৩)
শোক পালনের সময় মহিলাদের সুগন্ধি ব্যবহার করা জায়িয নয়। মহিলারা যখন বাড়ির বাহিরে বের হবে তখন সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। কেননা, এতে পর্দার হুকুম লঙ্ঘন হয়।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খাওয়ার পর দাঁত খিলাল করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












