সুগন্ধি,আতর ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক (২য় পর্ব)
, ২০ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৮ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২৩ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ ابْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كُنَّا نَعْرِفُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا اَقْبَلَ بِطِيْبِ رِيْحِهٖ.
অর্থ:- “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন আমাদের দিকে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতেন, তখন সুগন্ধির কারণে পূর্ব থেকেই আমরা অনুধাবন করতে পারতাম যে, তিনি মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতেছেন। ” (আবু দাউদ শরীফ, শামায়েলে তিরমিযী শরীফ, আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “বিদায় হজ্জের সময় ইহরাম মুবারক বাঁধার পূর্বে এবং ইহরাম মুবারক শেষ হওয়ার পরে আমি নিজ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাত মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারকে (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারকে) ‘জরীরাহ’ নামক আতর মেখে দিয়েছি। ” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ حَضْرَتْ أُمَّ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا كَانَتْ تَبْسُطُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِطَعًا فَيَقِيْلُ عِنْدَهَا عَلٰى ذٰلِكَ النِّطَعِ ـ قَالَ ـ فَإِذَا نَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَخَذَتْ مِنْ عَرَقِهٍ وَشَعَرِهٖ، فَجَمَعَتْهٗ فِيْ قَارُوْرَةٍ، ثُمَّ جَمَعَتْهٗ فِيْ سُكٍّ ـ قَالَ ـ فَلَمَّا حَضَرَ حَضْرَتْ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ الْوَفَاةُ أَوْصٰى أَنْ يُجْعَلَ فِيْ حَنُوْطِهٖ مِنْ ذٰلِكَ السُّكِّ ـ قَالَ ـ فَجُعِلَ فِيْ حَنُوْطِهِ.
অর্থ:- হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য চামড়ার বিছানা মুবারক বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি সেখানেই ঐ চামড়ার বিছানা মুবারক উনার উপর কায়লুলা মুবারক করতেন। অতঃপর তিনি যখন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুত্বমাইন্নাহ্ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘুম মুবারক) থেকে উঠতেন, তখন তিনি উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক) উনার কিছুটা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুত ত্বীব মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ঘাম মুবারক) ও নূরুল ফাত্হ মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র চুল মুবারক) সংগ্রহ করতেন এবং তা একটা বোতলের মধ্যে জমা করতেন এবং পরে ‘সুক্ক’ নামক সুগন্ধিতে মিশাতেন। রাবী বর্ণনা করেন যে, হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বক্ষণে তিনি আমাকে অছিয়ত মুবারক করলেন, যেন ঐ সুক্ক থেকে কিছুটা উনার সুগন্ধির সাথে মিলানো হয়। তাই তা উনার সুগন্ধিতে মেশানো হয়েছিল। (বুখারী শরীফ: ৬২৮১)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল সুঘ্রাণের মহাসম্মানিত মালিক। উনার থেকে সর্বদা বেমেছাল সুঘ্রাণ মুবারক প্রকাশিত হতেন। যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তাই বিশিষ্ট ছাহাবী, হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যিনি; একাধারে ১০ বছর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আন্জাম মুবারক দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুরভি মুবারক উনার চেয়ে হৃদয়কাড়া কোনো ঘ্রাণ, সুঘ্রাণ মুবারক (অন্য কোথাও) কখনো গ্রহণ করিনি। ” (মুসলিম শরীফ)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (১)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












