সুওয়াল জাওয়াব: প্রসঙ্গ দেনমোহর
, ১৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ৩০ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
দেনমোহর কি পরিমাণ হওয়া বাঞ্চনীয় এবং কখন আদায় করা নিয়ম? মোহর সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে কথাটি কতটুকু সঠিক?
জাওয়াব:
দেনমোহর আহলে বাইত শরীফ উনাদের অনুযায়ী হওয়া বাঞ্চনীয় অর্থাৎ সুন্নত। সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে এ কথা সম্পূর্ণরূপে গুমরাহীমূলক। অবশ্যই দেনমোহর সম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী হওয়াই উচিত। কেননা প্রতিটি আমল বা কাজের ক্ষেত্রেই সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ অনুকরণ করার জন্য পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে আদেশ মুবারক করা হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُوْلِ اللّٰـهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
অর্থ: অবশ্যই তোমাদের জন্য যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে উত্তম আদর্শ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)
উল্লেখ্য, সাধারণত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইন্নিাস সালাম উনাদের এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মোহরের পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচশত দিরহাম যা একশ সোয়া একত্রিশ তোলা রুপার মূল্যের সমান। এ পরিমাণ দেনমোহর সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিদআতুম মিন রসূলিল্লাহ, শাবীহাতু রসূলিল্লাহ, আন নূরুর রাবিআহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারও ছিল। যার কারণে এ মোহরকে মোহরে যাহরায়ী শরীফও বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, বিবাহ-শাদীতে উক্ত মোহরে যাহরায়ী বা মোহরে আহলে বাইত শরীফ ধার্য করাই উচিত এবং তা ফযীলতের কারণ।
সামর্থ থাকলে বিবাহ সম্পাদনের সাথে সাথেই মোহর আদায় করা উচিত এবং উত্তম। অন্যথায় পরেও আদায় করতে পারবে। মোহর আহলের প্রতি আহলিয়ার হক বা অধিকার স্বরূপ।
বিবাহের মধ্যে মোহর আদায় করা ওয়াজিব। অর্থাৎ অপরিহার্য শর্ত। মোহর ধার্য করতেই হবে এবং তা প্রদানও করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاٰتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً
অর্থ: তোমরা আহলিয়াদেরকে তাদের মোহর সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
অতএব, আহাল বা স্বামীর তরফ থেকে আহলিয়া বা স্ত্রীকে অবশ্যই মোহর প্রদান করতে হবে।
সামাজিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে মোহর ধার্য করতে হবে; এ বক্তব্য ও বিশ্বাস সম্পূর্ণরূপে গুমরাহীমূলক। যা সম্মানিত শরীয়ত ও সম্মানিত সুন্নত মুবারকের খিলাফ। বরং সম্মানিত শরীয়ত ও সম্মানিত সুন্নত মুবারক হচ্ছে, সকলের জন্য মোহরে যাহরায়ী বা মোহরে আহলে বাইত শরীফ ধার্য করা। অর্থাৎ বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী একশ সোয়া একত্রিশ তোলা রুপার মূল্য ধার্য করা।
মোহর আদায়ের পূর্বে আহাল যদি ইনতেকাল করে তবে আহালের সম্পত্তি থেকে মোহর আদায় করা ওয়াজিব। অন্যথায় ব্যভিচারের গুনাহ হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (২)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত জরুরী সুওয়াল-জাওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












