স্থাপত্য-নিদর্শন
সীতাকুন্ডের পৌঁনে পাঁচশো বছরের ঐতিহাসিক হাম্মাদিয়া মসজিদ
, ১০ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৫ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ০৮ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) স্থাপত্য নিদর্শন
উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলার ছোট কুমিরা ইউনিয়নের মসজিদা গ্রামে অবস্থিত হাম্মাদিয়া বা হামিদিয়া মসজিদ। সুলতানী আমলে নির্মিত মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজও। হাম্মাদিয়া মসজিদকে এখনো বর্তমান মসজিদগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার দ্বিতীয় প্রাচীন মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঐতিহাসিক প্রাচীন এই মসজিদটি এলাকার লোকজনের কাছে হাম্মাদিয়া মসজিদ নামে পরিচিত। পঞ্চাশ একশো কিংবা দুশো তিনশো নয়, অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় এই হাম্মাদিয়া মসজিদটি পৌঁনে পাঁচশো বছরের প্রাচীন সুলতানী আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন।
ছোট কুমিরা মসজিদা গ্রামে গোলাপী রঙের এক গম্বুজের হাম্মাদিয়া জামে মসজিদ। ২০১২ খৃ: প্রকাশিত ইন্টারনাল চিটাগাং বইয়ে হাম্মাদিয়া মসজিদকে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় প্রাচীন মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাম্মাদিয়া দিঘীর পশ্চিম পারে এবং ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত এই মসজিদ সরকারিভাবে সংরক্ষণ না করায় প্রাচীন এই মসজিদটির জৌলুস হারাতে বসেছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে হাটহাজারীর ছয় গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ প্রাচীনতম। এই ঐতিহাসিক মসজিদের নির্মাণকাল (১৪৭৪-১৪৮১) খৃ:। সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের সময় এটি নির্মিত হয়।
ঐতিহাসিকদের মতে, হাটহাজারীর ফকিরের মসজিদ এবং কুমিরার হাম্মাদিয়া মসজিদের স্থাপত্যরীতি একই। পার্থক্য এই হাটহাজারীর মসজিদ বড় এবং কুমিরার মসজিদ ছোট। সুলতানী আমলে কুমিরা থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত একটি রাজপথ ছিল। এই দু’টি মসজিদ এই রাস্তার দুই প্রান্তে অবস্থিত ছিলো।
বাংলার শেষ হোসেন শাহী বংশের সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৫৩৩-১৫৩৮) সময় তৎকালীন চাঁটগাঁও বন্দর শহরের ১২-১৩ মাইল উত্তর পশ্চিমে ৭ নম্বর কুমিরা ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামে এক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মসজিদ নির্মাণের পর গ্রামের নাম রাখা হয় মসজিদিয়া।
মসজিদটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি বর্গাকার ইমারত। এর প্রতি বাহু ৬.৩৪ মিটার এবং এর বাইরে চারকোণায় আছে চারটি সংযুক্ত চোঙ্গাকৃতির গোলাকার বুরুজ। মসজিদের পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলান দরজা এবং উভয় দক্ষিণ দেওয়ালের মাঝে একটি করে জানালা আছে। প্রতিটি দরজার বাইরে এবং ভেতরে আছে দুটি সুঁচ্যগ্র পাথরে খিলান ফ্রেম এবং দুয়ের মধ্যে আছে টোলের মত খিলান ছাদ।
মসজিদটির ভেতরে উত্তর এবং দক্ষিণ উভয় দেওয়ালে একটি করে বড় ছোট বদ্ধ জানালা আছে। এগুলো দেয়া হয় জিনিসপত্র রাখা ও বাতি জ্বালানোর কাজে ব্যবহারের জন্য। পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালের জানালাগুলোতে পোড়ামাটির ফলক ছিলো। কিন্তু বর্তমানে এগুলোর পরিবর্তে লোহার গ্রিল বসানো হয়েছে।
এই মসজিদটির নির্মাণবৈশিষ্ট্য এমনই যে কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেনি। বর্ষাপ্রবণ বাংলাদেশে ভারী বর্ষণ থেকেও অনিন্দ্য সুন্দর এই ইমারতকে রক্ষা করেছে। ছোট পান্ডুয়া মসজিদ, আদিনা মসজিদ, দরসবাড়ি মসজিদ, ষাট গম্বুজ মসজিদ ও বাবা মসজিদে এসব অলংকরণ দৃশ্যমান হয়।
পৌঁনে পাঁচশো বছরের প্রাচীন এই মসজিদ বারে বারে অপরিকল্পিতভাবে সংস্কার করায় এর মূল স্থাপত্যশৈলী হারাতে বসেছে।
সূত্র: ইন্টারনাল চিটাগাং, মসজিদ দেশ দেশান্তরে।
-মুহম্মদ নাঈম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অলৌকিক ঘটনা ও ঐতিহ্যের স্মারক বিবিচিনি মসজিদ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিরামিডের রহস্যভেদ নিয়ে নতুন তথ্য!
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
উসমানীয় স্থাপত্যের কালজয়ী প্রতীক নীল মসজিদ
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইউরোপের সর্বশেষ ইসলামী দুর্গ স্পেনে কী দেখেছিলেন ইবনে বতুতা?
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কালকিনির মসজিদ বাইতুর রাইয়ান, যার সৌন্দর্য মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতের মালদহর ঐতিহাসিক তাঁতীপাড়া মসজিদ
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিম অবদানের এক জীবন্ত দলিল
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তাজ-উল-মসজিদ ভারতের সর্ববৃহৎ মসজিদ
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুনামগঞ্জে কালের সাক্ষী শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পাগলা বড় মসজিদ
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মোঘল শাসক আওরঙ্গজেবের শাসনামল নিয়ে প্রচলিত ভাষ্য বদলে দিতে পারে ৩০০ বছর আগের নথি
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উমাইয়া আমলের মুসলিম স্থাপত্য ‘কুসাইর আমরা দুর্গ’
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












