সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (৪)
, ১৭ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৯ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৮ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ৩ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সমগ্র পৃথিবীতে একই দিনে বা একদিনে ঈদ পালন করা অসম্ভব- এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
সউদী আরবে সর্বপ্রথম চাঁদ দেখা গেলেও সমগ্র পৃথিবীতে একদিনে ঈদ পালন সম্ভব নয়: ১৪১৯ হিজরীর শাওওয়াল মাসের চাঁদ সউদী আরবে দেখা গিয়েছিলো ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার, ১৮ই জানুয়ারী। সেদিন অর্থাৎ ১৮ই জানুয়ারী, নিউজিল্যান্ডে সূর্য অস্ত যাওয়ার ১৩ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যায় এবং চাঁদের বয়স ছিল মাত্র ১৭ ঘণ্টা। নিউজিল্যান্ডে সেদিন চাঁদ দেখা যায়নি এবং দেখা যাওয়াও ছিল অসম্ভব।
এখন প্রশ্ন হলো যদি সউদী আরবের চাঁদ দেখা অনুযায়ী নিউজিল্যান্ডবাসী মুসলমানদেরকে ঈদ করতে হয় তবে তারা কখন ঈদ পালন করবে? সউদী আরবে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার মুহূর্তে দেশ দু’টির স্থানীয় সময়ের তুলনামূলক চিত্র-
বিষয় সউদী আরব নিউজিল্যান্ড
সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট ভোর ৪টা ৩০মিনিট
বার ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার ছুলাছা বা মঙ্গলবার
তারিখ ১৮ই জানুয়ারি, ১৯৯৯ ঈসায়ী ১৯শে জানুয়ারি, ১৯৯৯ ঈসায়ী
যদি দাবি করা হয় নিউজিল্যান্ডবাসীরা ভোর ৭টায় ঈদের নামায পড়বে। তাহলে দেখা যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডবাসীর ঈদ সউদী আরবের তারিখে হচ্ছে না। কেননা সউদী আরবে সেদিন ১৮ই জানুয়ারী আর নিউজিল্যান্ডে ১৯শে জানুয়ারী।
একদিনে ঈদ পালনকারীদের যুক্তি অনুযায়ী ১৮ই জানুয়ারীর রাতে নিউজিল্যান্ডবাসী মুসলমানরা তারাবীহ নামায পড়লেও, সাহরী খেলেও এসব আমল নষ্ট করে ৭টায় নামায পড়তে হবে, যেহেতু সউদী আরবে সে সময় চাঁদ দেখা গেছে অথবা ১৯শে জানুয়ারীর ভোরে যেহেতু সউদী আরব ঈদ পালন করবে সেই তারিখের সমতা রক্ষার জন্যেই কি চাঁদ দেখতে না পেলেও রোযার সব আমল নষ্ট করে নিউজিল্যান্ডবাসীকে ঈদ পালন করতে হবে? কিন্তু পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার নির্দেশ রয়েছে, ২৯তম দিন শেষে চাঁদ দেখা না গেলে মাস ৩০ দিনে পূর্ণ করতে হবে।
অথচ নিউজিল্যান্ডবাসী মুসলমানরা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার নির্দেশ অমান্য করে ৩০ দিনে মাস পূর্ণ না করে সকালে নামায পড়লে তা কিসের অনুসরণ হবে?
আর যদি বলা হয়, সউদী আরবের ঈদের দিন নামাযের পর নিউজিল্যান্ডবাসীকে ঈদের নামায পড়তে হবে তবে সউদী আরবের ঈদের দিনে যখন নামায অনুষ্ঠিত হয়েছে তখন নিউজিল্যান্ডে সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট। সে সময় ঈদের নামায পড়া সম্ভব নয়। তাহলে দেখা যাচ্ছে সউদী আরবের সাথে সমগ্র পৃথিবীতে একই দিনে ঈদ পালন করার যুক্তিটি হাস্যকর।
সউদী আরব ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও সর্বপ্রথম চাঁদ দেখা গেলেও সমগ্র পৃথিবীতে একদিনে ঈদ পালন সম্ভব নয়: ১৪১৮ হিজরীর শাওওয়াল মাসের চাঁদ সউদী আরবেরও আগে দৃশ্যমান হয় উত্তর আমেরিকাতে। আরবিয়া বা বুধবার, ২৮শে জানুয়ারি, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। যখন টেক্সাসে চাঁদ দৃশ্যমান হয় সেদিন নিউজিল্যান্ডে সূর্য অস্ত যাওয়ার ১৫ মিনিট পূর্বেই চাঁদ অস্ত যায় এবং সেদিন চাঁদের বয়স ছিল মাত্র ৪৬ মিনিট। সুতরাং নিউজিল্যান্ডে চাঁদ দেখা ছিল অসম্ভব। উত্তর আমেরিকার টেক্সাসে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার খবর শুনে নিউজিল্যান্ডে ঈদ করা সম্ভব কিনা তা যাচাই করার জন্য চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার মুহূর্তে দেশ দু’টির স্থানীয় সময়ের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো-
বিষয় উত্তর আমেরিকার টেক্সাস নিউজিল্যান্ড
সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট দুপুর ১টা ৩০ মিনিট
বার আরবিয়া বা বুধবার খ¦মীস বা বৃহস্পতিবার
তারিখ ২৮শে জানুয়ারী, ১৯৯৮ ঈসায়ী ২৯শে জানুয়ারী, ১৯৯৮ ঈসায়ী
এখন দেখা যাচ্ছে, নিউজিল্যান্ডবাসী মুসলমানদের ঈদ উত্তর আমেরিকায় চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার দিনে হচ্ছে না। অর্থাৎ ২৮ই জানুয়ারী হচ্ছে না।
টেক্সাসে যখন চাঁদ দেখা গেল তখন নিউজিল্যান্ডে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট। আর সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার হুকুম অনুযায়ী দুপুর বেলা ঈদের জামায়াতের ওয়াক্ত থাকে না। আর যদি বলা হয় টেক্সাসে তার পরের দিন খ¦মীস বা বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৯শে জানুয়ারী ভোর ৮টার দিকে যখন ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে সেই দিনের সঙ্গে সমতা রাখার জন্যে হলেও ২৯শে জানুয়ারী নিউজিল্যান্ডবাসী মুসলমানরা ঈদের নামায পড়া উচিত। তাও সম্ভব নয়, কেননা টেক্সাসে চাঁদ দেখতে পাওয়ার খবরের সময় নিউজিল্যান্ডে সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়েছে। আর টেক্সাসে যখন ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে সেমুহূর্তে দেশ দু’টির স্থানীয় সময়ের তুলনামূলক চিত্র নিম্নরূপ:
বিষয় উত্তর আমেরিকার টেক্সাস নিউজিল্যান্ড
সময় সন্ধ্যা ৮টা ৩০ মিনিট রাত ৩টা
বার খ¦মীস বা বৃহস্পতিবার জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার
তারিখ ২৯শে জানুয়ারী ৩০শে জানুয়ারী
সুতরাং কোনভাবেই উত্তর আমেরিকায় চাঁদ দেখা গেলে নিউজিল্যান্ডবাসী মুসলমানদের একই দিনে ঈদ পালন করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ পৃথিবীর কোথাও সর্বপ্রথম চাঁদ দেখা গেলেই সারা পৃথিবীতে একই দিনে বা একদিনে ঈদ উদযাপন নিতান্তই অজ্ঞতাপ্রসূত, নিরেট মূর্খতা ও হাস্যকর। তাই সারা পৃথিবীতে একই দিনে বা একদিনে ঈদ পালন করা অসম্ভব। (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৯)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িয
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২৫)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (৬)
৩০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৮)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২৪)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সারাবিশ্বে এক দিনে ঈদ পালন সম্ভব কি? একটি দলীলভিত্তিক বিশ্লেষণ.... (৫)
২৯ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৭)
২৬ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৬ মার্চ, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)