সারাবিশ্বে একই দিনে ঈদ পালন ও রোযা শুরু করার কথা বলার উদ্দেশ্য পবিত্র ঈদ ও পবিত্র রোযাকে নষ্ট করা, যা মূলত মুনাফিকদের একটি ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত (৪১)
, ২৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৮ আউওয়াল, ১৩৯২ শামসী সন , ০৬ জুন, ২০২৪ খ্রি:, ২৩ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
“কম দূরত্বের কারণে সময়ের পার্থক্য যেহেতু মান্য করা ফরয, সেহেতু বেশি দূরত্বের কারণে দিনের পার্থক্য মেনে ভিন্ন ভিন্ন দিনে পবিত্র ঈদ পালন করা ও পবিত্র রোযা শুরু করা ফরযে আইন”
সারাবিশ্বে একই দিনে পবিত্র ঈদ পালন ও রোযা শুরু করার দাবিকারীরা দাজ্জাল ও কায্যাব, তাদের থেকে দূরে থাকা ফরয-ওয়াজিব:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاللهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। (পবিত্র সূরা মুনাফিকূন শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-১)
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوْا أَنْتُمْ وَلاَ آبَاؤُكُمْ فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ لاَ يُضِلُّونَكُمْ وَلاَ يَفْتِنُونَكُمْ
অর্থ: “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি। সাবধান! তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তোমাদেরকে তাদের থেকে দূরে রাখবে। তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ্ করতে পারবে না এবং ফেৎনায় ফেলতে পারবে না। ” (মুসলিম শরীফ, শরহুন নববী, ফতহুল মুলহিম)
দাজ্জালে কাযযাবের অর্থ-
خَلَّاطُوْنَ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ مُمَوِّهُوْنَ
অর্থ: যারা সত্যের সাথে সাথে মিথ্যাকে মিশ্রিত করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে ও ধোঁকা দেয়।
আর পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত দাজ্জালে কাযযাবের প্রকৃত অর্থ হলো- যারা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিভ্রান্তিকর অর্থ ও অপব্যাখ্যা করে সর্বদা মুসলমানদের মাঝে ফেৎনা করে ও বিভ্রান্তি ছড়ায় তাদেরকে বলা হয় দাজ্জালে কাযযাব। মূলতঃ তারা মুনাফিক। তাই সারাবিশ্বে একই দিনে ঈদ পালন ও রোযা শুরু করার দাবিকারীরাও পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত দাজ্জাল ও কাযযাবের অন্তর্ভুক্ত।
ধারাবাহিক আলোচনা.........
সারাবিশে^ একই দিনে পবিত্র রোযা ও পবিত্র ঈদ পালন করার দাবিকারীদের আরেক দাজ্জাল গুরু তথা মিথ্যাবাদী, প্রতারক যার নাম হলো এ কে এম মাহবুবুর রহমান। সে তার বইয়ের ৭ পৃষ্ঠায় লিখেছে-
(১) চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার এ ভিন্নতার বিষয়ে ইসলাম ও বিজ্ঞান সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু প্রশ্ন হলো চন্দ্র মাসের তারিখ গণনার ক্ষেত্রে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার এ ভৌগলিক ভিন্নতা ইসলামী শরীয়তে গৃহীত হবে কিনা? (২) যদি গৃহীত হয় তবে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার ভিন্নতায় একই চন্দ্রমাসের প্রতিটি তারিখ হবে দু’টি। অর্থাৎ দু’টি ১ তারিখ, দু’টি ২ তারিখ, দু’টি ৩ তারিখ ......এমনি করে দু’টি ৩০ তারিখ।
জাওয়াব: (১) চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার ভিন্নতার বিষয়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম সম্পূর্ণ একমত হওয়ার অর্থই হলো, পবিত্র দ্বীন ইসলামে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার ভিন্নতা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য বরং গ্রহণ করা ফরয। আর এ ভিন্নতা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তিনি অনর্থক এই ভিন্নতা সৃষ্টি করেননি, গ্রহণযোগ্য বিধায় তিনি এ ভিন্নতা সৃষ্টি করেছেন। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এই ভিন্নতা মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতময় হিকমত মুবারক যার কারণে গোটা যমীনে এক মুহূর্তের জন্যও উনার ইবাদত বন্দেগী থেকে খালি থাকেনা।
(২) চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর কারো জন্যই একই তারিখ একই মাসে দুইবার আসে না বরং একবারই এসে থাকে। এটাও দিনের ভিন্নতা গ্রহণযোগ্য হওয়ার অকাট্য প্রমাণ। যা মহান আল্লাহ পাক উনারই হুকুম মুবারক। যার দ্বারা তিনি সারাবিশ্বের মানুষের জন্য সহজে পবিত্র ইবাদত বন্দেগী করার পন্থা তৈরী করেছেন। এটা সকলের জন্য সুবিধা ও সহজ। এর বিপরীত পন্থাটিই বাতিল ও জটিল।
এ কে এম মাহবুব সে তার বইয়ের ৭ পৃষ্ঠায় আরো লিখেছে- এখানে লক্ষণীয় যে, আয়াতে আহিল্লাহ শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে। যার অর্থ কয়েক মিনিটের নতুন চাঁদ। প্রতি চন্দ্র মাসে চাঁদ একদিনই নতুন থাকে এবং সে নতুন চাঁদকে হিলাল (هِلَالٌ) (সড়ড়হ) বলে। পরবর্তী দিনগুলোর চাঁদ কখনো নতুন নয়। পরবর্তী চাঁদকে ক্বমার (قَمَرٌ) বা (পৎবংবহঃ, হবি সড়ড়হ) বলে।
জাওয়াব: এটা তার আশাদ্দুদ দরজার জিহালতী বা মূর্খতা। সে যে বিষয়ে জানে না সে বিষয়ে আন্দাজে মন্তব্য করে বসেছে। আর তা হলো: এ বিষয়ে কারো কোন দ্বিমত নাই যে, সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদগণ উনাদের মতে চন্দ্র মাসের প্রথম দুই রাতের চাঁদকে হিলাল (هِلَالٌ) বলে। কারো মতে তৃতীয় রাতের চাঁদকেও হিলাল (هِلَالٌ) বা নতুন চাঁদ বলে। সুতরাং প্রতি চন্দ্র মাসে চাঁদ একদিনই নতুন থাকে এ কথা যেমন মিথ্যা, তদ্রুপ প্রথম দিনের পরবর্তী দিনগুলোর চাঁদ কখনো নতুন নয়। এটাও তার মিথ্যা ও মনগড়া কথা।
যেমন এ বিষয়ে তাফসীর ও অন্যান্য গ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে-
والهلال ليلتان وقيل: ثلاث ليال
অর্থ: প্রথম দুই রাতের নতুন চাঁদকে হিলাল (هِلَالٌ) বলা হয়। কেউ কেউ তৃতীয় রাত্রের চাঁদকেও হিলাল বলেছেন। (গারায়িবুত তাফসীর আযায়িবুত তাবীল, আইসিরুত তাফসীর ১/১৭০, দারজুদ্দুরার আল আয়ি ওয়াস সুয়ার ১/৩৫৬)
আরো উল্লেখ রয়েছে-
والهلال اسم له: أوّل الليلة الأولى والثانية والثالثة، وبعدها يسمى قمراً
প্রত্যেক চন্দ্র মাসের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাতের নতুন চাঁদের নাম হিলাল। তারপর ক্বমার বলা হয়। (সিরাজুম মুনীর ১/১২৫)
আরো উল্লেখ রয়েছে-
والهلال ليلتان بلا خلاف ثم يقمر وقيل ثلاث
অর্থ: এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নাই অর্থাৎ সকলের ঐক্যমতে প্রত্যেক চন্দ্র মাসের প্রথম দুই রাতের নতুন চাঁদকে হিলাল (هِلَالٌ) বলা হয়। তারপর ক্বমার বলা হয়। কেউ কেউ তৃতীয় রাত্রের চাঁদকেও হিলাল বলেছেন। (তাফসীরে ইবনে আতিয়্যাহ ১/২৬১)
চলবে....
-মুহম্মদ মুফীদ্বুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












