ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
দুনিয়াদার ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে-‘সূ’দের হাক্বীকত সম্পর্কে (৭৭)
, ২১ ই জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৭ সাদিস, ১৩৯২ শামসী সন , ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৯ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তাকে অনেক নছীহত করা হলো। কিন্তু তার ভিতরে মূল যে বিষয়টা গইরুল্লাহ’র মুহব্বত সেটা প্রবেশ করে গেছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ سُفْيَانَ رَحَمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أَنَّ عُمَرَ عليه السلام قَالَ لِكَعْبٍ رَحَمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مَنْ أَرْبَابُ الْعِلْمِ قَالَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِمَا يَعْلَمُونَ قَالَ فَمَا أَخْرَجَ الْعِلْمَ مِنْ قُلُوبِ الْعُلَمَاءِ قَالَ الطَّمَعُ.
হযরত সুফিয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত কা’ব আহবার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা মজলিসের লোকদের জানানোর জন্য, উম্মতদের জানানোর জন্য তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে হযরত কা’ব রহমতুল্লাহি আলাইহি?
مَنْ أَرْبَابُ الْعِلْمِ ؟
আলিম কে? তিনি জবাব দিলেন-
الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِمَا يَعْلَمُونَ
যিনি ইলিম অনুযায়ী আমল করে থাকেন তিনিই হলেন আলিম।
فَمَا أَخْرَجَ الْعِلْمَ مِنْ قُلُوبِ الْعُلَمَاءِ
কোন জিনিসটা আলিমের অন্তর থেকে ইলিমকে বের করে দেয়?
اَلطَّمَعُ
দুনিয়ার লোভ, দুনিয়ার মোহ। গইরুল্লাহ’র মোহ, গইরুল্লাহ’র লোভ মানুষের অন্তর থেকে ইলিম বের করে দেয়। নাউযুবিল্লাহ!
ক্বারূন তারও একই অবস্থা হয়েছিলো। সে দুনিয়ার সম্পদের মোহে মোহগ্রস্ত হয়েছিলো।
তাফসীরে বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কোনো প্রয়োজনে স্বর্ণ এবং রৌপ্য কি করে তৈরি করতে হয় সেটা জানিয়েছিলেন। সেই দ্রব্য-সামগ্রী আনার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নবী এবং রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি তিনজনকে দিয়ে তিনটি বিষয় আনিয়েছিলেন। সেটা সংমিশ্রণ করে তিনি স্বর্ণ চান্দি তৈরি করেছিলেন।
একটা দিয়েছিলেন হযরত ইউশা বিন নূন আলাইহিস সালাম উনাকে- কাগজে লিখে যেন কেউ দেখতে না পারে। আরেকটা মালুত নামের একজন লোক ছিলেন, বনী ইসরাঈলের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, উনাকে দেয়া হয়েছিলো। আর আরেকটা দেয়া হয়েছিলো ক্বারূনকে। তিনজন তিনটা বিষয় নিয়ে আসবে সংগ্রহ করে, সেটা একত্রিত করে তিনি স্বর্ণ এবং চান্দি তৈরি করবেন এবং সকলকে তিনি বলে দিয়েছিলেন, তোমরা একজন আরেকজনকে বিষয়টা জানাবে না।
কিন্তু ক্বারূন তার ভিতরে আগেই ছিলো গইরুল্লাহ, যার কারণে সে অন্য দু’জন থেকে চুপে চুপে বিষয়টা জেনে নিলো। জেনে নিয়ে সে তার বাড়িতে গিয়ে ঐ সমস্ত দ্রব্য সামগ্রী সংগ্রহ করে নিজ থেকেই স্বর্ণ-চান্দি তৈরি করতে থাকলো। যার ফলশ্রুতিতে সে অনেক সম্পদের মালিক হয়ে গেলো। তার এই মালিক হওয়াটাও ছিলো অবৈধ।
যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সেটা নিষেধ করেছিলেন, তারপরও সে সেটা করেছিলো। নাউযুবিল্লাহ!
যার কারণে তার প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত বর্ষিত হচ্ছিল এবং সেটাই পরবর্তী সময় হাক্বীক্বতে গিয়ে পৌঁছেছিলো।
ক্বারূনকে যখন এসব বিষয় বলা হলো, তখন সে তার জাওয়াবে বলেছিলো-
قَالَ اِنَّمَا اُوْتِيتُه عَلٰى عِلْمٍ عِندِى
(যখন তাকে বলা হলো, তুমি তোমার সম্পদ অর্থাৎ গইরুল্লাহ’র জন্য ফখর করো না। মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে গাফিল হয়ো না। মহান আল্লাহ পাক উনার নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনার থেকে গাফিল হয়ো না। ) সে জবাব দিলো, সে যে স্বর্ণ-চান্দি তৈরি করে থাকে, এটা তার অর্জিত ইলিম থেকে সে তা করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! সেতো ইলিমটা জানতো না; মহান আল্লাহ পাক উনার নবী এবং রসূল হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সেটা তাকে জানিয়েছিলেন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












