ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
দুনিয়াদার ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে-‘সূ’দের হাক্বীকত সম্পর্কে (৩৫)
, ০৯ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৫ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ১৩ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ২৮ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আরেক বর্ণনায় রয়েছে, সে যখন বদদোয়া করবে না বারবার বলতেছিলো। সে এলাকার শাসকের চাপের কারণে এবং তার আহলিয়ার ওয়াসওয়াসায় দুনিয়ার লোভে বিভ্রান্ত হয়ে, সে যেই গুহাতে সাধনা করতো সেখানে সে গেলো।
যখন সে সেখানে গেলো তখন সে দেখতে পেলো, গুহার ভিতর থেকে দুটা বড় আকারের বাঘ বের হয়ে তাকে আক্রমণ করার জন্য আসতেছে। এটা দেখে সে পালিয়ে গেলো সেখান থেকে।
এসে জানালো বাদশার লোকদেরকে এবং তার আহলিয়াকে তার পক্ষে বদদোয়া করা সম্ভব নয়।
কিন্তু এরপরও তারা তাকে তাকীদ করলো। তোমাকে অবশ্যই বদদোয়া করতেই হবে। নাউযুবিল্লাহ!
আবারো সে আসলো। গুহায় দুটা বড় সাপ তাকে তাড়া করলো, সেখান থেকে এবারও সে পালিয়ে আসলো। এসে সে একই কথা বললো তার পক্ষে বদদোয়া করা সম্ভব নয়।
কিন্তু শাসক ও তার লোকজন এবং তার আহলিয়া যারা ছিলো তারা তাকে ওয়াসওয়াসা দিতে থাকলো এবং আমীর-উমরারা তাকে ঘুষ দিলো। যাতে সে হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমাস সালাম উনাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে।
একটা গাধায় চড়ে সে যাচ্ছিলো। গাধাটা থেমে গেলো। গাধাকে সে অনেক বেত্রাঘাত করলো। গাধার যবান খুলে গেলো।
গাধা বললো, হে বালয়াম বিন বাউরা! তুমি সেখানে যেওনা। বদদোয়া করো না। তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
এখন সে যখন ফিরে আসতে যাবে তখনই ইবলীস মানুষের ছূরতে এসে বললো, হে বালয়াম বিন বাউরা! গাধা কি কখনও কথা বলতে পারে? গাধার ভিতরে শয়তান প্রবেশ করেছে, তোমাকে ওয়াসওয়াসা দিয়েছে, তুমি ভালো কাজে যাচ্ছো। নাউযুবিল্লাহ! তাকে বুঝালো ইবলীস। অসুবিধার কি রয়েছে, তুমি দেশটা দখল করে এখানে তোমার যে তর্জ-তরীক্বা রয়েছে ও তুমি যে শরয়ী হুকুম-আহকাম মুতাবিক চলো সেটা তুমি জারি করবে। কাজেই তুমি শাসকের পক্ষ হয়ে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমাস সালাম উনাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো। নাউযুবিল্লাহ!
এ সমস্ত ওয়াসওয়াসা শাসকরাও দিয়েছে, আমীর-উমরারাও দিয়েছে। তারা বলেছে, বিদেশী হযরত নবী-রসূল আলাইহিমাস সালাম উনারা আসবেন, দেশে কর্তৃত্ব করবেন, কি প্রয়োজন রয়েছে। হে দরবেশ! তুমি এদেশে খোদায়ী আইন-কানুন জারি করবে। নাউযুবিল্লাহ! শেষ পর্যন্ত ওয়াসওয়াসায় পড়ে সে বদদোয়া করলো। নাউযুবিল্লাহ!
দেখা গেলো, মুসলমান যারা সৈন্য রয়েছেন অর্থাৎ হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইউশা বিন নূন আলাইহিস সালাম উনাদের যারা সৈন্য সামন্ত ছিলেন উনারা দেখলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি মনে হচ্ছে ঘুরে যাচ্ছে। তখন মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল আলাইহিস সালাম তিনি সিজদায় গিয়ে বললেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! এটা আপনার কি কুদরত?
মহান আল্লাহ পাক তিনি জানালেন, এখানে এক দরবেশ রয়েছে তার দোয়া আমি কবুল করে থাকি। মহান আল্লাহ পাক উনার নবী এবং রসূল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি তার সমস্ত নিয়ামত যা তার রয়েছে, তা ছলব করে নিন এবং তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করুন। তাই হলো।
মহান আল্লাহ পাক উনার নবী এবং রসূল আলাইহিমাস সালাম উনারা কামিয়াবী হাছিল করলেন। শাসককে ও দরবেশকে গ্রেফতার করা হলো। উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে সবকিছুরই ফায়সালা মুবারক রয়ে গেছে
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র যিকিরকারী উনাদের ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১০)
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আইয বিন আমর বিন হিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৫)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












