সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল,
সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১)
, ২০ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৫ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৮ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। শুধু রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংখ্যাই হচ্ছে তিনশত তেরজন। অপর বর্ণনায় রয়েছে তিনশত পনের জন।
উনারা সবাই জিন-ইনসানকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে আহ্বান করেছেন, মা’রিফাত-মুহব্বত হাছিলের শিক্ষা দিয়েছেন। তাদেরকে করেছেন ইছলাহ বা পরিশুদ্ধ। উনাদের এই কাজে খিদমতের জন্য আল্লাহ পাক কতিপয় ব্যক্তিত্বকে মনোনিত করেছেন, যাদেরকে আমরা আওলিয়ায়ে কিরাম হিসেবে জেনে থাকি। মূলত: এই এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত আগত অসংখ্য-অগণিত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা প্রত্যেকেই জিন-ইনসানের প্রতি আল্লাহ পাক উনার বিশেষ এক নিয়ামত, দয়া, দান, ইহসানেরই বহিঃপ্রকাশ। কালাম পাক-এর এই আয়াত শরীফখানা সেক্ষেত্রে সেদিকে দালালত করেছে-
لَقَدْ مَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক মু’মিনগণের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন। তিনি তাদের মাঝে একজন রসূল পাঠিয়েছেন। যিনি তাদেরকে উনার আয়াত শরীফসমূহ তিলাওয়াত করে শুনান। তাদেরকে ইছলাহ (পরিশুদ্ধ) করেন, কিতাব শিক্ষা দেন, হিকমত শিক্ষা দেন। যদিও তারা পূর্বে সুষ্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ-১৬৪)
উল্লেখ্য যে, হযরত আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনারা হচ্ছেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের নায়িব বা প্রতিনিধি, স্থলাভিষিক্ত। আর আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি হচ্ছেন সর্বশেষ নবী ও রসূল। উনার পরে আর কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম আসবেন না। নুবুওওয়াত ও রিসালতের ধারা বন্ধ হয়েছে।
তবে যাঁরা উনার প্রতিনিধিত্ব করবেন, নায়িব হবেন উনাদের আগমনের ধারা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইমাম, মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদ, ফক্বীহ, ছূফী, গাউছ, কুতুব, ওলী, আবদাল, নাকিব, নুযাবা ইত্যাদি সবাই হচ্ছেন আখিরী রসুল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নায়িব বা প্রতিনিধি, স্থলাভিষিক্ত।
সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, মুজাদ্দিদে যামান, সুলত্বানুল আরিফীন, গাউছুল আ’যম, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হচ্ছেন উনাদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন, মহান ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন সেই যামানার মুজাদ্দিদ, ইমাম, গাউছ, দ্বীন জিন্দাকারী, উম্মাহর জন্য রহমতস্বরূপ। পূর্ববর্তী অনেক আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণই উনার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার আলোচনা করেছেন।
পূর্ববর্তী আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ভবিষ্যদ্বাণী:
আল্লাহ পাক উনার এমন অনেক ওলী রয়েছেন যাঁদের মর্যাদা-মর্তবার বিষয়টি সম্পর্কে আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনারা পূর্বেই অবহিত হয়েছেন। প্রচার ও প্রকাশ করেছেন। সেই সমস্ত মহান ব্যক্তিত্বের অন্যতম হচ্ছেন সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, আওলাদে রসূল, শায়েখ, সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
উনি দুনিয়াতে তাশরীফ আনার অনেক পূর্ব থেকে ইমাম-মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সবাই নিজ নিজ যুগে ও নিজ মুরীদ, মু’তাকিদ মুহিব্বীন, আশিকীনদের মাঝে উনার শান-মান-মর্যাদা মর্তবার আলোচনা করেছেন। উনার পরিচয় বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছেন। আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এই সুসংবাদ কখনো স্বপ্নে, কাশফে, মোরাকাবায় বিভিন্নভাবে অবগত হতেন এবং প্রচার প্রসার করতে আদিষ্ট হয়েছেন। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবের ফতওয়া অনুযায়ী- কাঁকড়া, কচ্ছপ, অক্টপাস, ঝিনুক, শামুক, কেঁচো, কুঁচিয়া, স্কুইড, সামুদ্রিক প্রাণী শাপলা পাতা, সাপ, মেছোবাঘ (উদ) খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পুরুষের জন্য কমপক্ষে একমুষ্ঠি পরিমাণ দাড়ি রাখা ফরয
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৮)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৮)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৭)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












