সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫৫)
(বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)
, ৬ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৬ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ০৫ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রি:, ২০ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কারামত মুবারক:
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অসংখ্য-অগণিত কারামত মুবারক রয়েছে। যা উনার সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ। আমরা আলোচ্য অংশে উনার কিছু কারামত মুবারক উল্লেখ করবো। যাতে খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক প্রত্যাশী ছূফীগণের ঈমানী কুওওয়াত (শক্তি) বৃদ্ধির কারণ হয়। উনারা জজবা বা অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারেন। উনাদের রিয়াজত-মাশাক্কাতের পথ প্রসারিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
সুলত্বানুল হিন্দ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রধান খলীফা হারূনী আরিফীন, তাজুল আশিকীন সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বর্ণনা করেন, আমি আমার সম্মানিত শায়েখ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুদীর্ঘ ২০ বছর ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেছি। এই সুদীর্ঘ সময়ে উনাকে কখনো কারো প্রতি নারাজ হতে দেখিনি। সুবহানাল্লাহ!
একদিনের ঘটনা। আমি এবং খাদিম শায়েখ আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র খানকা শরীফ হতে বাহিরে বের হলাম। এমন সময় হঠাৎ রাস্তার ওপার হতে একজন লোক আমাদের দিকে দৌঁড়ে আসলো। শায়েখ আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কোর্তা মুবারক অনেক শক্ত করে ধরলো। টানাটানি করলো। অনেক উচ্চ-বাচ্চ্য করলো। অনেক অসদাচরণ করলো।
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এ খবর পৌঁছলো। তিনি লোকটির নিকট এমন অসদাচরণের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটি বললো, উনি আমার নিকট ঋণ নিয়েছেন। তা পরিশোধ করছেন না। সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। সে তোমার ঋণ পরিশোধ করে দিবে। লোকটি কোন কথাই শুনছে না। কারো কথাই মানছে না।
সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তার ব্যবহারে অত্যন্ত কষ্ট পেলেন। তিনি অনেক জালালী হয়ে স্বীয় শরীর মুবারক থেকে চাদর মুবারক খুললেন। তা যমীনের উপর বিছিয়ে দিলেন। আর সাথে সাথে অদৃশ্য হতে অজস্র টাকা-পয়সা ঐ চাদর মুবারকের উপর পড়তে লাগলো। কিছুক্ষণের মধ্যে টাকা-পয়সার স্তুপ হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লোকটিকে বললেন, তোমার যা পাওনা আছে তা এখান থেকে নিয়ে নাও। তবে সাবধান! তোমার পাওনার অতিরিক্ত একটি পয়সাও নিবে না।
লোকটি ছিল লোভী। সে তার পাওনার চেয়ে অধিক টাকা তুলে নিলো। আর সাথে সাথে তার হাতটি অবশ হয়ে গেলো। সে ব্যক্তি এ দৃশ্য দেখে কাঁদতে লাগলো। সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বদম মুবারকে বুছা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলো। তার কাকুতি মিনতি দেখে সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কোমল হৃদয় মুবারক বিগলিত হলো। তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সাথে সাথে লোকটি খালিছ তওবা করতঃ সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারকে বাইয়াত হলো। সুবহানাল্লাহ! (হযরত গরীবে নেওয়াজ পূর্ণাঙ্গ জীবনী-২৬৬)
একবার সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সফরে ছিলেন। বনের মধ্য দিয়ে পথ চলছিলেন। পথের পাশে দেখতে পেলেন যে, একদল লোক অগ্নিকুন্ড প্রজ্বলিত করে তার পূজায় বিভোর রয়েছে। তারা ঐ অগ্নিপূজায় এমনই মশগুল ছিলো যে, খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত ভুলে গিয়েছিলো। বেশিরভাগ অগ্নিপূজারীর দুনিয়ার কোন খোঁজখবরই ছিলো না। সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন এদের কর্মকান্ড প্রত্যক্ষ করলেন, তখন বারে বারেই উনার মনে একটি কথাই ভেসে আসছিলো যে, মহান আল্লাহ পাক উনার এসব বান্দা তাদের সঠিক পথ ত্যাগ করে কিভাবে বিভ্রান্ত পথ ধরে নিজেদের জীবনকে নষ্ট করছে। তিনি উনার সফর বিরতি দিয়ে তাদের নিকট প্রশ্ন করলেন, “হে বিভ্রান্তের দল! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ছেড়ে আগুনের পূজা কেন করছো? তারা বললো, “আগুনকে আমরা এজন্য পূজা করছি যে, দোযখের আগুন আমাদেরকে গ্রাস করবে না। ” নাউযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “এ পদ্ধতির মাধ্যমে দোযখ থেকে নাজাত পাওয়া যাবে না। তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করো। তাহলে দোযখ থেকে নাজাত পাবে। ” তিনি আরো বললেন, “তোমরা তো বহুদিন যাবৎ এ আগুনের পূজা করেছো এখন এ আগুনের একটা টুকরা হাতে নিয়ে দেখতো এ আগুন তোমাদেরকে জ্বালায় কিনা? যদি জ্বালায় তাহলে বুঝবে তোমাদের এতোদিনের পূজা ও তপস্যা সব বিফল হয়েছে। আর না জ্বালালে বুঝবে তোমরা সঠিক আছো। সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একথা শুনে তাদের পুরোহিত বা দলপতি বললো যে, “এটা তো একটা হাস্যকর কথা যে, আগুন হাতে নিলে হাত জ্বলবে না। কেননা, আগুনের ধর্মই হচ্ছে জ্বালানো। (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৮)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইবলিসের পরে দ্বিতীয় উলামায়ে সূ হলো বালয়াম বিন বাউরা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ভোট, নির্বাচন, পদপ্রার্থী হওয়া ইত্যাদি কোনটিই জায়িয নেই
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে খেলা হারাম হওয়া সম্পর্কিত দলীল (২)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ঈমানদারদের প্রথম ও বড় শত্রু হলো ইবলিস
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১০ম পর্ব)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৩)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












