সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (২৯)
(বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)
, ০৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩ রবি , ১৩৯২ শামসী সন , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৬ ভাদ্র , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
দামেস্কে অবস্থান:
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সিস্তান ত্যাগ করলেন। পরবর্তী মঞ্জিলের দিকে পথ চলতে লাগলেন। উনাদের পরবর্তী গন্তব্যস্থল ছিলো দামেস্ক। এ ছফর সম্বন্ধে সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, একবার আমার মুর্শিদ ক্বিবলা হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি, শায়েখ আহমদ উদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং আমি, পবিত্র মদীনা শরীফ উনার দিকে যাচ্ছিলাম। পথ চলতে চলতে আমরা দামেস্ক শহরে পৌঁছলাম। দামেস্কে মসজিদের সামনে ১২০০০ হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের রওজা শরীফ বিদ্যমান রয়েছে। এখানকার লোকজন তাদের প্রয়োজনের কথা ঐসব রওজা শরীফসমূহে গিয়ে ব্যক্ত করে। আমরা রওজা শরীফ যিয়ারত করলাম এবং ঐ স্থানে বুযূর্গদের সাথে সাক্ষাৎ মুবারক করলাম।
একদিন আমি আমার পীর ছাহিব ও মুর্শিদ ক্বিবলা হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি, শায়েখ আহাদুদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং খাজা মুহম্মদ আরিফ রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ এক সাথে দামেস্কের মসজিদে বসেছিলাম। আমাদের সামনে আরও কয়েকজন দরবেশও বসেছিলেন, খাজা মুহম্মদ আরিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “ক্বিয়ামতের দিন কুল কায়িনাতের সবাই হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের থেকে ফায়দা লাভ করবে। ”
উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে এক ব্যক্তি তা বিশ্বাস করতে পারলো না। সে প্রতিবাদ করে বললো, এমন কথা কোন্ কিতাবে লিখা আছে?
খাজা মুহম্মদ আরিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবটির নাম মনে ছিলো না। হেতু তিনি বললেন, আমি কিতাবে পড়েছি। কিন্তু কিতাবের নাম এ মুহূর্তে স্মরণে আসছে না। তখন লোকটি শক্তভাবে বললো, “আপনাকে কিতাব দেখাতে হবে। ” তিনি মুরাকাবা করলেন। মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে হুকুম দিলেন, যে কিতাবে ঐ কথাটি লিখা আছে সে কিতাবটি নিয়ে ঐ বুযূর্গ ব্যক্তিকে দেখিয়ে নিয়ে আসুন।
খাজা মুহম্মদ আরীফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কিতাবের নাম, পৃষ্ঠাসহ ঐ ব্যক্তিকে বলে দিলেন। সে ব্যক্তি উনার ক্বদম মুবারকে পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলো। তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
এরপর সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, “এখানে যেসব দরবেশ সাহেব উপস্থিত আছেন উনারা সকলেই সম্মানিত কারামত প্রকাশ করবেন। ”
প্রথমে আমার মুর্শিদ ক্বিবলা হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জায়নামাযের নীচে হাত দিয়ে একমুঠ স্বর্ণ বের করে আনলেন। একজন দরবেশকে সেগুলো দিয়ে বললেন, দরবেশদের জন্য হালুয়া কিনে আনুন। হালুয়া আনা হলো। এরপর হযরত আহাদুদ্দীন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সামনে রক্ষিত এক খ- কাঠের উপর হাত রাখলেন, সাথে সাথে কাঠটি স্বর্ণে রূপান্তরিত হলো।
কিন্তু আমি হযরত পীর ছাহিব ক্বিবলা উনার আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে কিছুই প্রদর্শন করলাম না। তিনি আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন, হে হযরত মুঈনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি কিছু করলেন না?
মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নির্দেশ পেয়ে আমি আমার কম্বলের ভিতর থেকে কয়েকটি গরম রুটি বের করে এক ক্ষুধার্ত দরবেশকে দিয়ে দিলাম। ঐ দরবেশ এবং খাজা মুহম্মদ আরিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা দুইজনই বললেন, “যে দরবেশের মধ্যে এতটুকু শক্তি নেই, তাকে দরবেশ বলা চলে না। ” (দলীলুল আরেফীন: ৪১-৪২ পৃষ্ঠা)
বিধর্মী দুর্ধর্ষ ডাকাতদের সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ:
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি একবার সফরে (ভ্রমনে) বের হলেন। সফর করতে করতে জঙ্গলের নিকটবর্তী একটি আবাসস্থলে উপস্থিত হলেন। ঐ স্থানে ডাকাতদের দৌরাত্ম ছিল। তাদের প্রকৃতি ছিল যে, ভিন দেশী কাউকে পেলে তাদের মালামাল অর্থ-কড়ি সব লুণ্ঠন করতো। আর মুসলমান কাউকে পেলে তাদেরকে হত্যা করতো। ডাকাতরা যখন জানতে পারলো যে, একদল মুসলমান তাদের এলাকায় হাজির হয়েছে তখন তারা মারমুখী হয়ে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কুতুবুল মাশায়িখ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সামনে উপস্থিত হলো। কিন্তু তারা উনার নূরানী চেহারা মুবারক দেখে নির্বাক ও অসাড় হয়ে পড়লো। কুতুবুল মাশায়িখ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার জালালিয়তের দৃষ্টি মুবারক দ্বারা তাদের দিকে তাকালেন। তারা উনার জালালিয়ত দেখে অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জীবন ভিক্ষা চাইতে লাগলো। ভীষন চিৎকার করে বলতে লাগলো, হে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী! আপনি মেহেরবানী করে আমাদের স্বাভাবিক অবস্থা ভিক্ষা দান করুন। আমরা আজীবন আপনার গোলাম হয়ে থাকবো।
আর এদিকে তাদের অবস্থা পাথরের মত নিথর নিস্তব্দ ও অবশ হয়ে যাচ্ছিল। ভিতর বাহির সবকিছু পুড়ে ছারখার হচ্ছিল। তারা কাকুতি মিনতি করে বার বার ক্ষমা প্রার্থনা করছিল।
সুলত্বানুল হিন্দ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সুশীতল ছায়াতলে তাদেরকে আশ্রয় দান করলেন। কালিমা শরীফ পড়িয়ে মুসলমান বানিয়ে নিজ মুরীদগণের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন। বর্ণিত আছে যে, পরে ঐ দেশের সকল পুরুষ মহিলা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করতঃ সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদগণের অন্তর্ভুক্ত হলেন। (বাবা গরীবে নেওয়াজের জীবনী-৫২) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












