সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ ও নছীহত শরীফ
, ০১ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৬ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ১৪ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ৩০ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত জাবির জু‘ফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাক্ষাত করলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে বললেন, হে জাবির! আমি চিন্তিত এবং আমার অন্তর ব্যস্ত। হযরত জাবির রহমতুল্লাহি আলাইহি জিজ্ঞাসা করলেন, কি জন্য আপনি চিন্তিত এবং কি নিয়ে আপনার অন্তর ব্যস্ত? তিনি বললেন, কেউ যদি পরিষ্কার অন্তর নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীনে প্রবেশ করে, তবে ইহা তার অন্তরকে অন্য সব কিছু ভুলিয়ে দিয়ে ইহাতেই ব্যস্ত রাখে। হে জাবির! দুনিয়া কি বস্তু এবং ইহার সাথে তোমার কি সম্পর্ক? ইহা কি এই নয় যে, ইহা একটি সওয়ারী যার উপর তুমি আরোহণ করেছ, অথবা এক খন্ড বস্ত্র যা তুমি পরিধান করেছ, অথবা একজন স্ত্রীলোক যাকে তুমি বিবাহ করেছ? হে জাবির! মু‘মিনগণ দুনিয়াতে স্থায়ী হওয়াতে শান্তি পায় না এবং আখিরাতের আগমনে নিজকে নিরাপদ বোধ করে না। তাদের কর্ণসমূহ অনেক ফিতনা ফাসাদের বিষয় শ্রবণ করা সত্বেও মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির থেকে বধির হয় না। তাদের চক্ষুসমূহ বিভিন্ন সৌন্দর্যরাশি দর্শন করা সত্বেও মহান আল্লাহ পাক উনার নূর দর্শন করা হতে অন্ধ হয় না। এভাবে তারা নেককার লোকদের ছওয়াব দ্বারা লাভবান হয়। পরহেজগার লোকেরা দুনিয়াদার লোকদের অপেক্ষা অধিকতর সহজ ও দয়ালু হয, তোমার জন্য অধিকতর সাহায্যকারী হয়। যদি তুমি মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির ভুলে যাও, উনারা তোমাকে তা স্মরণ করিয়ে দিবেন, যদি তুমি যিকির কর, উনারা তোমাকে সাহায্য করবেন। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য কথা বলেন। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশের উপর প্রতিষ্ঠিত। উনাদের মুহব্বত একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, উনাদের অন্তরসমূহে শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক ও উনার মুহব্বতই দৃষ্টিগোচর হয়। উনারা উনাদের রব উনার বাধ্যগত থাকার কারণে উনারা দুনিয়া থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছেন এবং উনারা ভালভাবে বুঝে নিয়েছেন যে, উনারা যে অবস্থায় আছেন সেই অবস্থায় ইহাই উনাদের জন্য উত্তম। অতঃপর উনাদের জন্য দুনিয়া এরূপ হয়ে গিয়েছে, যেন এখনই তুমি এক স্থানে অবতরণ করলে আবার সেস্থান ছেড়ে চলে গেলে। অথবা এমন যে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে তুমি কিছু সম্পদ প্রাপ্ত হলে, যখন তুমি জাগ্রত হলে, দেখতে পেলে তোমার নিকট কিছুই নেই। মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উনার দ্বীন ও হিকমতের ব্যাপারে হিফাযত তলব করো। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, প্রত্যেক বস্তুর বিপদ আছে এবং ইলিমের বিপদ হচ্ছে ভুলে যাওয়া। তিনি আরো বলেন, ঐ আলিম যার ইলিম থেকে উপকার পাওয়া যায়, তিনি এক হাজার আবিদ অপেক্ষা উত্তম। তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! একজন আলিমের মৃত্যু ইবলিসের নিকট সত্তর জন আবিদের মৃত্যু অপেক্ষা অধিকতর প্রিয়।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তিন প্রকারের লোক আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে- এক প্রকারের লোক যারা আমাদের সাথে আহার করে। আর এক প্রকারের লোক যারা কাঁচের মত ভেঙ্গে যায়, আর এক প্রকারের লোক যারা লাল বর্ণের স্বর্ণের মত, যখন তারা আগুনে প্রবেশ করে তাদের সৌন্দর্য বেড়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
একবার তিনি উনার পুত্রকে নছীহত করেন, প্রিয় বৎস! অলসতা ও বেকারারী (অধৈর্য) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এ দু’টি সব অনিষ্টের চাবি। তুমি যখন অলসতা করবে, তখন কোন হক্ব আদায় করতে পারবে না। আর যখন তুমি বেকারার অধৈর্য হবে, হক্বের উপর ছবর করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!
উনার আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমার শ্রদ্ধেয় পিতা আমাকে নছীহত করেন, পাঁচ ব্যক্তির সাথে থাকবে না, তাদের সাথে কথাবার্তা বলবে না। আমি বললাম, আপনার জন্য আমার প্রাণ কুরবান হোক! আমাকে বলুন, সেই পাঁচ ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, ফাসিকের সাথে উঠাবসা করবে না কারণ সে তোমাকে এক লোকমা খাদ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করে দিবে। আমি বললাম, দ্বিতীয় ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, দ্বিতীয় ব্যক্তি হচ্ছে বখিল, তার সঙ্গে উঠা-বসা করবে না, কারণ সে এমন এক সময় তোমার জন্য আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিবে, যখন তোমার ইহা অতিশয় প্রয়োজন হবে। অতঃপর আমি বললাম, তৃতীয় ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তৃতীয় ব্যক্তি হচ্ছে মিথ্যাবাদী, তার সাথে মেলামেশা করবে না, কারণ সে শরাবের ন্যায়, সে নিকটকে দূর এবং দূরকে নিকট করে দিবে। আমি বললাম, চতুর্থ ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, চতুর্থ ব্যক্তি হচ্ছে আহমক, তার সাথে চলাফেরা করবে না, কারণ সে তোমার উপকার করতে চাইবে, কিন্তু তোমার ক্ষতি হয়ে যাবে। আমি বললাম, পঞ্চম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, পঞ্চম ব্যক্তি হচ্ছে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, তার সাথে উঠাবসা করবে না, কারণ আমি আল্লাহ পাক উনার কিতাবে তিন জায়গায় পেয়েছি, এমন ব্যক্তি লা‘নতপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যাকে সৎ চরিত্র ও কোমল ব্যবহার দেয়া হয়েছে তাকে সমস্ত কল্যাণ ও সুখ-শান্তি দেয়া হয়েছে, দুনিয়া আখিরাতে তার অবস্থা সুন্দর হতে থাকবে। আর যাকে কোমল ব্যবহার ও সৎ চরিত্র থেকে মাহরূম করা হয়েছে, তার জন্য সমস্ত অনিষ্টের রাস্তা খোলা রয়েছে এবং বিপদ-আপদও তার সঙ্গী হবে, তবে মহান আল্লাহ পাক তিনিই তাকে রক্ষা করতে পারেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত উবায়দুল্লাহ বিন ওয়ালীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার ভাইয়ের পকেটে হাত দিয়ে যা তার প্রয়োজন সেই পরিমাণ অর্থ নিয়ে যেতে পারবে? আমরা বললাম, না। অতঃপর তিনি বললেন, তাহলে তোমরা ভাই নও, যেরূপ তোমরা মনে করে থাকো। তিনি বলেন, তোমার ভাইয়ের মুহব্বত তোমার জন্য কতটুকু তা তুমি বুঝতে পারবে, তোমার অন্তরে তার জন্য মুহব্বত যতটুকু রয়েছে তা থেকে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তিনটি আমল বড় কষ্টকর- সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করা, তোমার নফছের প্রতি তোমার ন্যায় বিচার করা এবং অর্থ-সম্পদে ভাইয়ের সান্ত¡না দান করা। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তুমি যখন দেখবে, একজন ক্বারী ধনীদের মুহব্বত করে, তবে তাকে দুনিয়াদার মনে করবে, আর যখন তুমি তাকে দেখবে বিনা প্রয়োজনে বাদশাহ’র সংস্রব পছন্দ করছে, তখন মনে করবে সে একজন চোর। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের মর্যাদা বুঝে না, সে সুন্নত সম্পর্কে জাহিল, সম্পূর্ণ অজ্ঞ। সুবহানাল্লাহ!
-সাঈদ আহমদ গজনভী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












