শিক্ষামুলক ঘটনা
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
, ১৪ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৯ সাবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১৩ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
অতএব, যারা ইলিম অনুযায়ী আমল করবে না অর্থাৎ যারা জানে ছবি তোলা হারাম, তারপরও ছবি তোলে। যারা জানে গণতন্ত্র-হরতাল ইত্যাদি হারাম বা বিজাতীয় পন্থা, তারপরও তারা দ্বীন ইসলামের নামে গণতন্ত্র চর্চা করে। মূলতঃ উপরোক্ত হাদীছ শরীফের মিছদাক তারাই অর্থাৎ তারাই উলামায়ে “সূ” বা দুনিয়াদার আলিম, আর তারাই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
একটি ওয়াকেয়ার দ্বারা আরো সুস্পষ্টভাবে দ্বীনদার আলিম ও দুনিয়াদার আলিমের পরিচয় ফুটে উঠবে। কিতাবে উল্লেখ আছে যে, বাদশাহ শাহজাহান একবার তার দরবারী আলিমদের নিকট ফতওয়া তলব করে বললেন- আমি অসুস্থ, অসুস্থতার কারণে আমার জন্যে রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়েয হবে কি? দরবারী আলিমরা বাদশার মনতুষ্টির জন্যেই হোক বা দুনিয়াবী ফায়দা লাভের জন্যেই হোক তারা ফতওয়া দিল, বাদশাহ নামদার! যেহেতু আপনি অসুস্থ আর আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজ্য অচল হয়ে পড়বে, কাজেই রাজ্য ও প্রজাদের বৃহত্তর স্বার্থে আপনার জন্যে এ অবস্থায় রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়েয হবে। বাদশাহ তার দরবারী আলিমদের মৌখিক ফতওয়ায় আশ্বস্ত না হতে পেরে লিখিত ফতওয়ার নির্দেশ দিলেন। দরবারী আলিমরা বাদশাহকে এ ব্যাপারে লিখিত ফতওয়া দিল। বাদশাহ তাতেও নিশ্চিন্ত হতে পারলেন না, তাই তিনি বললেন, এ ফতওয়াতে অন্যান্য আরো আলিমের দস্তখত লাগবে। দরবারী আলিমরা তখন তাদের সমজাতীয় তিনশত আলিমের দস্তখত সংগ্রহ করে ফতওয়াটি বাদশাহর নিকট পেশ করলো। বাদশাহ ফতওয়াটি আদ্যপান্ত ভালরূপে পাঠ করে দেখলেন এবং বললেন যে, সেখানে তার শাহী মসজিদের যিনি খতীব, নূরুল আনোয়ার ও তাফসীরে আহমদীর ন্যায় বিশ্বখ্যাত কিতাবের মুছান্নিফ, তৎকালীন যামানার শ্রেষ্ঠতম আলিম, হযরতুল আল্লামা মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দস্তখত ব্যতীত এ ফতওয়া গ্রহণযোগ্য হবে না। তখন দরবারী আলিমরা উক্ত ফতওয়াটি হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে নিয়ে যায় দস্তখত নেয়ার জন্য। হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি আজ এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করবোনা, বরং বাদশাহ আমার মসজিদে জুমুআর নামায পড়তে আসেন, তাই আমি বাদশাহ ও মুছল্লীগণের সম্মুখে এ ব্যাপারে ফতওয়া দিবো। অতঃপর জুমুআর দিন বাদশাহ উনার উযীর-নাযীরসহ পবিত্র জুমুআর নামায পড়ার জন্যে মসজিদে গেলেন। অনেক মুছল্লীও উপস্থিত হলেন এবং দরবারী আলিমরাও উপস্থিত।
সকলেই অপেক্ষা করছে হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া শোনার জন্যে। ইতিমধ্যে হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মিম্বরে উঠে বসলেন এবং বললেন, মুছল্লী ভাইয়েরা! আমার নিকট তিনশত আলিমের দস্তখত সম্বলিত একটি ফতওয়া এসেছে। যাতে বলা হয়েছে যে, বৃহত্তর স্বার্থে, বাদশাহর অসুস্থতার কারণে, বাদশাহর জন্যে রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়িয। এ ব্যাপারে আমার ফতওয়া হলো-
مفتى اور مستافتى هردو كافراند.
অর্থ: “যারা এ ফতওয়া দিয়েছে এবং যে চেয়েছে উভয়েই কাফির হয়ে গেছে।”
কারণ, সম্মনিত শরীয়ত উনার মধ্যে হারামকে হালাল আর হালালকে হারাম বলা কুফরী।
উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা যেরূপ ওলামায়ে “সূ” তথা দুনিয়াদার আলিমদের মুখোশ সুস্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে, তদ্রƒপ উলামায়ে হক্ব তথা দ্বীনদার আলিমগণের পরিচয় বা লক্ষণও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
সুতরাং যারা দ্বীন ইসলাম উনার জন্য যে কারো রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করার হিম্মত রাখেন উনারাই হক্কানী আলেম, আর উনারাই হলেন উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম। আর যারা দুনিয়াবী ফায়দা লাভের জন্যে মনগড়া ফতওয়া দেয়, নফসের অনুকরণ করে, সম্মানিত শরীয়ত উনার খেলাফ কাজ করে, এক কথায় নাহক্ব বা হারামের উপর দৃঢ়, তারাই ওলামায়ে “সূ” বা দুনিয়াদার আলিম, আর তারাই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক। এদের প্রসঙ্গেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ فِى آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ يَأْتُونَكُمْ مِنَ الأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلاَ آبَاؤُكُمْ فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ لاَ يُضِلُّونَكُمْ وَلاَ يَفْتِنُونَكُمْ
অর্থ:“হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আখেরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি, সাবধান! তোমরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রাখবে, তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবে না।” (মুসলিম শরীফ)
মোটকথা হলো- পৃথিবীতে হক্ব-নাহক্ব উভয় দলই ক্বিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। তবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে, হক্ব-নাহক্ব যাচাই-বাছাই করা, হক্কানী আলিমগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা। আর নাহক্ব বা ওলামায়ে সূদেরকে চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হক্ব-নাহক্ব বোঝার, যাচাই-বাছাই করার এবং হক্কানী আলিমগণের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার তাওফিক দান করুন। আর নাহক্ব, গোমরাহ আলিমদের ধোকা থেকে আমাদের মূল্যবান ঈমানকে হিফাযত করুন। আমীন।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












