সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৯)
, ২৯ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৩১ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ৩০ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ছদাক্বাতুল ফিতর শব্দের অর্থ:
ছদাক্বাতুল ফিতর (صَدَقَةُ الْفِطْرِ) আরবী শব্দ। এখানে صدقة শব্দের অর্থ দান করা। আর الفطر শব্দের অর্থ ভঙ্গ করা। সুতরাং ছদাক্বাতুল ফিতরের সম্মিলিত অর্থ হল ভঙ্গ করার দান। যাকে যাকাতুল ফিতর বলেও উল্লেখ করা হয়।
পারিভাষিক অর্থে দীর্ঘ একমাস রোযার রাখার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিন মালিকে নিছাবের পক্ষ থেকে প্রত্যেক ২ জনের জন্যে এক ছা’ আটা বা তার মূল্য পরিমাণ যে সম্পদ গরীবকে প্রদান করা হয় তাকে ছদাক্বাতুল ফিতর বলে।
ছদাক্বাতুল ফিতর কে দিবেন:
ছদাক্বাতুল ফিতর প্রদান করা ধনীদের জন্যে ওয়াজিব। দ্বিতীয় হিজরীর শা’বান মাসে ছদাক্বাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিন ছুবহে ছাদিকের পূর্বে ছ¦াহিবে নিছাব তথা নিছাব পরিমাণ মালের মালিক হলে তার উপর ছদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।
ছোট-বড়, স্বাধীন-গোলাম, পুরুষ ও মহিলা প্রত্যেকের জন্যই ছদাক্বাতুল ফিতর ওয়াজিব।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ اَبِـىْ صُعَيْرٍ عَنْ اَبِيهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صِلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَاعٌ مِنْ بُرّ اَوْ قَمْحٍ عَلٰى كُلّ اثْنَيْنِ صَغِيْرٍ اَوْ كَبِيْرٍ حُرّ اَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰى اَمَّا غَنِيُّكُمْ فَيُزَكّيْهِ اللهُ وَاَمَّا فَقِيْرُكُمْ فَيَرُدُّ اللهُ عَلَيْهِ اَكْثَرَ مِـمَّا اَعْطَاهُ.
অর্থ: “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবূ ছু’আইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। উনার পিতা বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ছোট-বড়, স্বাধীন-গোলাম, পুরুষ অথবা মহিলা প্রত্যেক দুইজনের উপর এক ছা’ গম (ফিতরাহ) নির্ধারিত। মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের ধনীদেরকে এ দ্বারা পবিত্র করবেন এবং তোমাদের দরিদ্রদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের দানের চাইতে অধিক দিবেন। ” (আবূ দাঊদ শরীফ: কিতাবুয যাকাত: হাদীছ শরীফ নং ১৬১৯)
এমনকি গোলামের উপরও ছদাক্বাতুল ফিতর ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ فِى الْعَبْدِ صَدَقَةٌ اِلَّا صَدَقَةُ الْفِطْرِ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ছদাক্বাতুল ফিতর ছাড়া গোলামের কোন ছদক্বা নেই। (মুসলিম শরীফ: কিতাবুয যাকাত: বাবু লা যাকাতা ‘আলাল মুসলিমি ফী আব্দিহি ওয়া ফারাসিহি: হাদীছ শরীফ নং ৯৮২)
ছদাক্বাতুল ফিতর কতটুকু দিবেন:
যাদের উপর ছদাক্বাতুল ফিতর ওয়াজিব অর্থাৎ পবিত্র ঈদের দিন ছুবহি ছাদিক্বের সময় যাদের নিকট নিছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রূপা অথবা এর সমপরিমাণ মূল্য) সম্পদ থাকে তাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ এলাকা অনুযায়ী দুই মুদ (আধা ছা’) গম যা বর্তমান মেট্রিক পদ্ধতির হিসেবে অনুযায়ী ১৬৫৭ গ্রাম আটা বা এর সমপরিমাণ মূল্য দান করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবূ ছু’আইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ ছাড়া আরো অনেক হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে-
كنا نؤدى زكوة الفطر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم مدين من قمح، بالـمد الذى تقتاتون به.
অর্থ: “হযরত আসমা বিনতে আবূ বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, যে মুদ (পাত্র) দ্বারা তোমরা খাদ্যবস্তু গ্রহণ করে থাক এমন দুই মুদ (অর্ধ ছা’) আটা আমরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় ছদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। ” (মুসনাদে আহমদ ৬/৩৪৬)
বস্তুত সম্মানিত হানাফী মাযহাব মতে, আটা বা তার মূল্য ব্যতীত অন্য কিছু যেমন- চাল, খেজুর ইত্যাদি দিয়ে ফিতরা দেয়া জায়িয নেই।
টাকা দিয়ে পবিত্র ছদাক্বাতুল ফিতর আদায় করা বৈধ:
অনেকে বলে থাকে, টাকা দিয়ে ছদাক্বাতুল ফিতর আদায় হবে না। খাদ্য সামগ্রীই দিতে হবে। অথচ তাদের এমন বক্তব্য নেহায়েত হাস্যকর। বিখ্যাত ইমাম ও মুহাদ্দিছ হযরত ইবনে আবী শায়বা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “মুছান্নাফে আবী শায়বা” কিতাবে একটা বাব রচনা করেছেন যার নাম-
فِىْ اِعْطَاءِ الدّرْهَمِ فِىْ زَكَاةِ الْفِطْرِ
অর্থাৎ “ছদাক্বাতুল ফিতর দিরহাম বা টাকা দ্বারা আদায় করা সম্পর্কে”। এই অধ্যায় থেকে কয়েকটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হলো-
حَدَّثَنَا اَبُو اُسَامَةَ عَنْ زُهَيْرٍ قَالَ سَـمِعْتُ اَبَا اِسْحَاقَ يَقُولُ اَدْرَكْتُهُمْ وَهُمْ يُعْطُونَ فِىْ صَدَقَةِ رَمَضَانَ الدَّرَاهِمَ بِقِيمَةِ الطَّعَامِ
অর্থ: “হযরত আবূ উসামা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত যুহাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদেরকে এই অবস্থায় পেয়েছি যে, উনারা পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে ছদাক্বাতুল ফিতর খাবারের বিনিময়ে দিরহাম বা টাকা দ্বারা আদায় করতেন। উক্ত বর্ণনার সনদ সম্পূর্ণ ছহীহ। ” (ইবনে আবি শায়বা-৩/১৭৪, পবিত্র হাদীছ নং ১০৪৭২)
ছদাক্বাতুল ফিতর কখন দিবেন:
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস শেষে সম্মানিত শাওওয়াল মাসের চাঁদ উদয়ের পর থেকে ঈদের মাঠে গমনের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে ছদাক্বাতুল ফিতর আদায় করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ فَرَضَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكٰوةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ مَنْ اَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلٰوةِ فَهِىَ زَكٰوةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ اَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلٰوةِ فَهِىَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ.
অর্থ: “হযরত ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছদাক্বাতুল ফিতর ফরয করেছেন- অশ্লীল কথা ও বেহুদা কাজ হতে (পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার) রোযাকে পবিত্র করতে এবং মিসকীনদের খাদ্যের ব্যবস্থার জন্য। যে ব্যক্তি (ঈদের) নামাযের পূর্বে তা আদায় করে সেটা কবুল ছদাক্বাহ হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি নামাযের পরে আদায় করে, তা সাধারণ দান হিসেবে গৃহীত হবে। ” (আবূ দাঊদ শরীফ: কিতাবুয যাকাত: বাবু যাকাতিল ফিত্বর: হাদীছ শরীফ নং ১৬০৯)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে যে, ছদাক্বাতুল ফিত্বর আদায়ের শেষ সীমা হচ্ছে ঈদুল ফিত্বরের নামাযের আগ পর্যন্ত। কিন্তু পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে যেহেতু প্রতিটি আমলের কমপক্ষে ৭০ গুণ বৃদ্ধি হয়। তাই ছদাক্বাতুল ফিত্বর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে প্রদান করাই সর্বোত্তম।
পবিত্র ছদাক্বাতুল ফিতর উনার গুরুত্ব ও ফযীলত:
পবিত্র রোযা উনার মধ্যে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে ছদাক্বাতুল ফিতর আদায়ের দ্বারা তা দূর হয়ে যায়। ছদাক্বাতুল ফিতর আদায় না করলে রোযাসমূহ আসমান ও যমীনের মাঝখানে ঝুলে থাকে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرِتْ جَرِيرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَوْمُ شَهْرُ رَمَضَانَ مُعَلَّقٌ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْاَرْضِ وَلَا يُرْفَعُ اِلَّا بِزَكَاةِ الْفِطْرِ. رواه ابو حفص بن شاهين فى فضائل رمضان وقال حديث غريب جيد الاسناد.
অর্থ: “হযরত জারীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র রমাদ্বান মান উনার রোযাগুলো আসমান-যমীনের মাঝখানে ঝুলন্ত থাকে, ছদাক্বাতুল ফিত্র আদায় না করা পর্যন্ত উপরে উঠানো হয় না (অর্থাৎ ছদাক্বাতুল ফিত্র না দেয়া পর্যন্ত কবুল হয় না)। ” মুহাদ্দিছ হযরত আবূ হাফ্ছ বিন শাহীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হাদীছ শরীফখানা উনার কিতাব ‘ফাদ্বায়িলু রমাদ্বান’ উনার মধ্যে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন অত্র হাদীছ শরীফখানা গরীব ও উৎকৃষ্ট সনদে বর্ণিত আছে। (আত তারগীব ওয়াত তারহীব মিনাল হাদীছিশ শরীফ: ২য় খ-, ৯৭ পৃষ্ঠা, হাদীছ শরীফ নং ১৬৫৩)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদেরকে ঈমান থেকে সরিয়ে দিতে কাফিরগুলো সবসময় চেষ্টা করে থাকে
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
‘গরুর গোস্তে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুওয়াল ও তার জাওয়াব (১০)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদের জন্য প্রাণীর ছবি মূর্তির অপবিত্রতা থেকে এবং বোবা শয়তান হওয়া থেকে বেঁচে থাকা একান্ত জরুরী
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (১ম পর্ব)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুওয়াল ও তার জাওয়াব (৯)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












