সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৩)
, ২১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৩ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ২২ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ৭ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সম্মানিত যাকাত কখন আদায় করবেন
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
সম্মানিত যাকাত উনার হিসাব কখন থেকে করতে হবে?
সম্মানিত যাকাত বছরান্তে ফরয হয় এবং বছরান্তে সম্মানিত যাকাত উনার হিসাব করা ওয়াজিব। চন্দ্র বছরের তথা আরবী বছরের যে কোন একটি মাস ও তারিখকে সম্মানিত যাকাত হিসাবের জন্যে নির্ধারণ করতে হবে। বাংলা বা ইংরেজী বছর হিসাব করলে তা শুদ্ধ হবে না।
সম্মানিত যাকাত পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যে দেয়াই উত্তম :
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যে ১টি ফরয আদায়ে ৭০টি ফরয আদায়ের ছাওয়াব দান করেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যেই সম্মানিত যাকাত আদায় করতেন।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ حَضْرَتْ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامَ كَانَ يَقُوْلُ هٰذَا (شَهْرُ رَمَضَان) شَهْرُ زَكَاتِكُمْ فَمَنْ كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَلْيُؤَدِّ دَيْنَهٗ حَتّٰى تَـحْصُلَ اَمْوَالُكُمْ فَتُؤَدُّونَ مِنْهُ الزَّكَاةَ.
অর্থ : “হযরত সাইব ইবনে ইয়াযীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে বলতেন, এ মাস আপনাদের সম্মানিত যাকাত আদায়ের মাস। অতএব, কারো ঋণ থাকলে তিনি যেন উনার ঋণ পরিশোধ করেন, যেন আপনাদের সম্পদ সঠিকভাবে নির্ণীত হয় এবং আপনারা (সঠিকভাবে) তা থেকে সম্মানিত যাকাত আদায় করতে পারেন। ” (মুয়াত্তা ইমাম মালিক শরীফ : খ- ১৭ : কিতাবুয্ যাকাত : হাদীছ শরীফ নং ৫৯৬)
যাকাত আদায় না করলে কি হয়
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عمر الفاروق عليه السلام قال ما تلف مال فى بر و لا بـحر الا بـحبس الزكوة. وفى رواية الا بـمنع الزكوة.
অর্থ : “সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যমীনে এবং পানিতে যেখানেই কোন সম্পদ বিনষ্ট বা ধ্বংস হয়, তা কেবল মালের যাকাত বন্ধী করার কারণেই। ” (ত্ববারানী শরীফ)
যাকাত আদায় করলে কি হয়
ক) ঈমান দৃঢ় হয় : সম্মানিত যাকাত আদায়ের মাধ্যমে ঈমানদারদের ঈমানের দলীল নিশ্চিত হয় এবং ঈমান আরো মজবুত হয়।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
اَلَّذِيْنَ يُقِيمُونَ الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَهُم بِالاٰخِرَةِ هُمْ يُوقِنُوْنَ.
অর্থ : “যাঁরা সম্মানিত নামায কায়িম করেন ও সম্মানিত যাকাত আদায় করেন; আর উনারাই পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস করেন। ” (পবিত্র সূরা নামল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)
আবার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত যাকাত উনাকে সম্মানিত ঈমান উনার দলীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
الزَّكٰوةُ بُرْهَانٌ.
অর্থ : “যিনি যাকাত উনার কাজ করবেন তিনি দলীলসহ পূর্ণ ঈমানদার। সুবাহানাল্লাহ!
খ) দোয়া মুবারক লাভ যা দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবী :
এ সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
خُذْ مِنْ اَمْوَالِـهِمْ صَدَقَةً تُطَهّرُهُمْ وَتُزَكّيْهِمْ بِـهَا وَصَلّ عَلَيْهِمْ اِنَّ صَلاتَكَ سَكَنٌ لَّـهُمْ وَاللهُ سَـمِيْعٌ عَلِيْمٌ.
অর্থ : (ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি উনাদের ধন-সম্পদ থেকে ছদক্বা (যাকাত, ফিতরা, উশর, দান, ছদক্বা, হাদিয়া) গ্রহণ করুন, আপনি (যে দয়া করে গ্রহণ করেছেন) এর মাধ্যমে প্রদানকারীদেরকে (যাহিরী) পবিত্রতাপ্রাপ্ত এবং (বাতিনী) ইসলাহীপ্রাপ্ত করুন এবং আপনি উনাদের জন্যে দোয়া মুবারক করুন। নিশ্চয়ই আপনার দোয়া মুবারকই উনাদের জন্যে শান্তি, নিরাপত্তা এবং কামিয়াবী। মহান আল্লাহ পাক তিনি সব কিছু শোনেন এবং সব কিছু জানেন। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)
সুতরাং যাকাতদাতা ধন-সম্পদের প্রাচুর্যতার পাশাপাশি জিসমানী ও রূহানী উভয়ভাবে পবিত্রতা হাছিল করবে। সর্বোপরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিশ্চিতভাবে কবুলকৃত দুয়া মুবারক লাভ করবে। ফলে যাকাতদাতার দুনিয়া-আখিরাতের সর্বপ্রকার চাহিদা পূর্ণ হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধুমাত্র যাকাতদাতার জন্যে দুয়া মুবারক করেন না বরং তার পরিবার-পরিজন সকলের জন্যই দুয়া মুবারক করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












