সম্মানিত বানূ সুলাইমের জিহাদ
, ০৯ শা’বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০২ ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ০২ মার্চ, ২০২৩ খ্রি:, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আইন ও জিহাদ
সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার পর অনেক জিহাদ সংঘটিত হয়। সেগুলোকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে, গাযওয়া ও সারিয়াহ। যেসমস্ত সম্মানিত জিহাদসমূহে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ বা তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছিলেন তার নাম গাযওয়া। আর যে সমস্ত জিহাদে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেননি বরং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সরাসরি অংশগ্রহণ করে সম্মানিত জিহাদ করেছেন তাকে সারিয়াহ বলা হয়।
উল্লেখ্য যে, আমরা এখানে সম্মানিত বানূ সুলাইম জিহাদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ!
প্রসিদ্ধ সীরতগ্রন্থ ও তারিখসমূহে উল্লেখ রয়েছে-
فَلَمّا قَدِمَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ الْمَدِينَةَ لَمْ يَقُمْ بِهَا إلّا سَبْعَ لَيَالٍ حَتّى غَزَا بِنَفْسِهِ يُرِيدُ بَنِي سُلَيْمٍ-
অর্থ: (হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত বদর জিহাদ হতে ফিরে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক গ্রহণের সাত রাত্রি অবস্থান মুবারক না করতেই স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বানী সুলাইমের সাথে জিহাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।” (দালায়িলুন নবুওওয়াহ, সীরাতে ইবনে ইসহাক্ব, সীরাতুন নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখ করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত সিবায়া ইবনে উরফুতা আল গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বা হযরত ইবনে উম্মু মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার প্রতিনিধি হিসাবে সুযোগ দান করেন।
হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বানূ সুলাইমের) কুদর নামক একটি প্রস্রবণে পৌঁছলেন এবং সেখানে তিনি তিনদিন অবস্থান মুবারক করে পবিত্র মদীনা শরীফে ফিরে আসেন। এই জিহাদে কোন প্রকার শত্রুর মোকাবিলা বা কোন সংঘর্ষ হয়নি। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র শাওওয়াল শরীফের অবশিষ্ট দিনগুলো ও পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাস পবিত্র মদীনা শরীফে অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! এ সময় তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার কুরাইশদের বন্দীদের পক্ষ থেকে ফিদইয়া বা মুক্তিপণ নিয়ে তাদের অনেককে মুক্ত করে দেন। সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুন নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম, সীরাতুল হালাবিয়্যাহ)
-সাইয়্যিদ আহমদ শাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৯)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












