সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে নিরাপত্তা বাহিনী (২)
, ০৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৩ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ১২, মে, ২০২৪ খ্রি:, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) আপনাদের মতামত
সীমান্ত প্রহরী: মুসলমান দেশের ভূখন্ডের হিফাযতে সীমান্ত প্রহরীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় এক সকাল ও এক বিকাল সময় ব্যয় করা দুনিয়া ও এর মাঝে যা কিছু আছে সবকিছু থেকে উত্তম। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, জাহান্নাম স্পর্শ করবেনা দুইটি চোখ, যে চোখ মহান আল্লাহ পাক উনার পথে কাঁদে আর যে চোখ মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে বিনিদ্র রজনী যাপন করে। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
যে কোন মুসলমান দেশের সীমান্ত প্রহরায় যারা নিয়োজিত তারা যদি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক প্রাপ্তির আশায় সীমান্ত প্রহরা দেয় তাহলে তারা উপরোক্ত হাদীছ শরীফে বর্ণিত ফযীলত ও মর্যাদা হাছিল করবে। তা তাদের জন্য নেক আমল হবে। কারণ তারা যে কাজ করে তা মূলতঃ মুসলমান দেশের ভূখন্ডের নিরাপত্তার জন্য করে। বহিঃশত্রুর হাত থেকে মুসলমানদের দেশ রক্ষা করা, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা, অর্থপাচার, মানব পাচার, মাদক পাচার, চোরাচালান ইত্যাদি রোধ করা হলো সীমান্ত প্রহরীর কাজ। জিহাদের সময় বহিঃশত্রুর আক্রমন থেকে দেশকে হিফাযতের দায়িত্ব পালন করে বিধায় তারা জিহাদের ফযীলত লাভ করবে। মুজাহিদরা জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি পাবে এবং জান্নাত লাভ করবে। তারা নিহত হলে শহীদের মর্যাদা পাবে, জীবিত থাকলে তারা গাজী। সুবহানাল্লাহ! আর মুসলমানদের জান-মাল, ঈমান-আমলের নিরাপত্তা ফরয। এই বাহিনী সীমান্ত এলাকায় সেই দায়িত্বও পালন করে। তাই এই বাহিনীকে শক্তিশালী করা মুসলমান শাসকদের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাদের কাজকে সুদূর প্রসারী করা, কাজকে সম্প্রসারণ করা, সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, জনবল ও অস্ত্রবল বৃদ্ধি করা সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। যে দেশের এই বাহিনী যত বেশি শক্তিশালী সে দেশের সীমান্ত তত বেশি সুরক্ষিত। বহিঃশত্রু তত বেশি ভয়ে তটস্থ থাকবে। আর সীমান্ত দুর্বল হলে বহিঃশত্রুর দেশের জন্য আক্রমণ করা সহজ হয়ে যায়। যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের রাজ্য জয়ের পিছনে যে সমস্ত কারণ তা হলো- ঈমান ও আমলে বলীয়ান, এই বাহিনীসমূহের দক্ষতা ও সুনিপুণ কলা কৌশল। সুবহানাল্লাহ! পক্ষান্তরে মুসলমানদের পরাজয় ও খিলাফত ব্যবস্থা ধ্বংসের পিছনে যে সমস্ত কারণ রয়েছে তা হলো- এই বাহিনীসমূহের দুর্বলতা, ঈমান, আমলের দুর্বলতা, মুসলমান আমীর-উমরাহ, শাসকদের বিধর্মী তোষণ, ভোগ-বিলাস, বিজাতীয় কৃষ্টি-কালচারের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া। হালাকু খানের বাগদাদ আক্রমণ ও আব্বাসীয় খিলাফত ধ্বংস এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্পেন ৭০০ ও ভারতবর্ষে মুসলমানদের ১০০০ বছরের শাসন আরো দুইটি দৃষ্টান্ত। এ থেকে মুসলমানদের ইবরত ও নছীহত হাছিল করতে হবে। তাই মুসলমান দেশের শাসকদের সীমান্ত বাহিনীসহ সকল বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ মুসলমান শাসক ও আমীর-উমরাহদের জন্য অতীব জরুরী।
-জামাল চৌধুরী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ২টি শ্রেণীকে আগে শুদ্ধ হতে হবে
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে সিসি ক্যামেরা!! উলামায়ে ছু’দের বদ আমলই কি এর জন্য দায়ী নয়?
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র শবে মিরাজের ছুটি বাধ্যতামূলক করা হোক
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার ছহীহ তাফসীর (৩)
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু কাফির-মুশরিকরা (৩)
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের উচিত- হাদীছ শরীফ অনুযায়ী সপ্তাহের বারসমূহ উচ্চারণ করা
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান মাসের পূর্বে বাজার উর্ধ্বমুখী কেনো? এর দায় কার?
১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলামায়ে ছু’ থেকে সাবধান!
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ: সময়ের দাবি
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খ্রিস্টানদের অনুষ্ঠানকে ‘বড়দিন’ বলা যাবে না
০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্বাধীন আরাকান চাই!
২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশের সার্বভৌমত্বের সংকটে- দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসতেই হবে
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












