সম্মানিত উহুদ জিহাদ: (২৮ পর্ব)
, ০৮ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০২ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ১৭ই মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
স্মরণীয় যে, জিহাদের নিয়ম অনুযায়ী শুরুতেই দু’ দলের একজন করে মুকাবিলা করে, এদেরকে মুবারিয বলা হত। মুবারিযের শাব্দিক অর্থ, প্রতিদ্বন্দ্বী বা দ্বন্দ্ব যোদ্ধা। এই মুবারিয হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পক্ষ থেকে ছিলেন। পাশাপাশি কুরাইশ কাফির মুশরিকদের পক্ষ থেকেও তারা পর্যাক্রমে মুবারিয নির্ধারণ করে। শুরুতেই কুরাইশ কাফির মুশরিকদের থেকে যারা যুদ্ধের ময়দানে এসেছিল এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে যারা মুকাবিলা করেছিলেন উনাদের নাম উল্লেখ করা হলো।
প্রথম মুবারিয: সম্মানিত জিহাদের শুরুতে পবিত্র মক্কা শরীফের কাফির মুশরিকদের পক্ষের প্রথম মুবারিয হিসেবে যুদ্ধের ময়দানে আসে আবূ আমির ফাসিক। সে এসেই জোর আওয়াজে চিৎকার দিয়ে বলে-
يَا مَعْشَرَ الْأَوْسِ، أَنَا أَبُو عَامِرٍ؛
হে আওস গোত্র, আমি আবূ আমির। মহান আল্লাহ পাক তিনি আওস গোত্রের চক্ষু শীতল করুন। আওস গোত্রের হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তৎক্ষনাৎ বলে উঠলেন-
لَا أَنْعَمَ اللهُ بِك عَيْنًا يَا فَاسِقُ
হে ফাসিক! মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার চক্ষু কখনও শীতল করবেন না। আবূ আমির আওস গোত্রের হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের শক্ত জবাব শুনে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে কাফির মুশরিকদের মাঝে ফিরে গিয়ে বলল, আমার আসার পর আমার গোত্র বদলে গেছেন। (জাওয়ামিউস সীরাত, রওদ্বূল উনূফ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, যুরকানী, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাফসীরে ত্ববারী, উয়ূনুল আছার)
দ্বিতীয় মুবারিয: এরপর পবিত্র মক্কা শরীফের কাফির মুশরিকদের পতাকাবাহী তালহা ইবনে আবূ তালহা সে ময়দানে এসে চিৎকার দিয়ে বলল, আয় আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আপনাদের ধারণা হলো আপনাদের তরবারির আঘাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তাড়াতাড়িই জাহান্নামে পাঠিয়ে দিবেন। আর আমাদের তরবারির আক্রমণে আপনাদের যথাশীঘ্রই জান্নাতে পাঠিয়ে দিবেন। তাহলে আপনাদের মধ্যে কেউ কি আছেন যাকে আমার তরবারি জান্নাতে পাঠিয়ে দিবেন অথবা উনার তরবারি আমাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিবেন? তার এ ঘোষণা শুনে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি এই কাফিরের মুকাবিলায় এগিয়ে গেলেন। তিনি এই কাফিরের উপর এমনভাবে তরবারি মুবারক চালালেন যে, তার পা কেটে গেলো। সে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল এবং তার কাপড় সরে গেল। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি পিছনে সরে এলেন।
হযরত ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি পুনরায় এগিয়ে গিয়ে তার মাথায় তরবারি মুবারক চালিয়ে মাথা দ্বিখ-িত করে দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই কাফিরের নিহতে খুবই খুশি মুবারক প্রকাশ করলেন এবং ‘আল্লাহু আকবার’ তাকবীর মুবারক দিলেন। সাথে সাথে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবীর ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুললেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি এই কাট্টা কাফির ত্বলহা ইবনে ত্বলহাকে হত্যা করলে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুবই খুশি মুবারক প্রকাশ করলেন। (যুরকানী, সীরাতে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তৃতীয় মুবারিয: এরপর কাফির মুশরিকদের পতাকা দুই হাতে সামলিয়ে সামনে আগ্রসর হয়ে আসলো উসমান ইবনে আবূ ত্বলহা। সে মুখে আবৃত্তি করছিল,
إنّ عَلَى أَهْلِ اللّوَاءِ حَقّا ... أَنْ تُخْضَبَ الصّعْدَةُ أَوْ تَنْدَقّا.
অর্থ: “পতাকা বহনকারীর নৈতিক দায়িত্ব, শত্রুর খুনে তার হাতের অস্ত্র হবে রঞ্জিত। অথবা তা মারতে মারতে ভেঙ্গে পড়বে।” সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম তিনি এগিয়ে আসেন এই কাফিরের মুকাবিলায়। সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদুশ শুহাদা আলাইহিস সালাম তিনি এই কাফির উসমানের দুই হাত ও কাঁধ কেটে দিলেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই এই কাফির নিহত হলো। সুবহানাল্লাহ! সুবহানা রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












