সজীব ও সবুজ ঢাকা পাওয়া কী খুব কঠিন। সদিচ্ছা থাকলেই সবুজ রাস্তাঘাট আর সজীব বাড়ীর ঢাকা পাওয়া সম্ভব।
, ১৫ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ৩০ সাবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১৪ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার আয়তন ৩০৪ বর্গকিলোমিটার। এই আয়তনের ঠিক কতভাগ গাছ আছে তার কোনো হিসাব নেই বন বিভাগ বা খোদ সিটি করপোরেশনে।
২০১০ সালে আমগাছকে দেশের জাতীয় বৃক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ ঢাকায় আমগাছও চোখে পড়ে না। পার্ক ও রাস্তার দুই পাশের গাছ মরে যাচ্ছে। বিগত বছরে রাজধানীর প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি গাছ মারা গেছে।
ঢাকা শহরে এখনো যত গাছ আছে সেগুলোর একটি বড় অংশ উজাড় হওয়ার হুমকির মুখে। এসব বৃক্ষের স্থান দখল করে নিচ্ছে অপরিকল্পিত বাড়িঘরের বিস্তার। ফলে বৃক্ষশোভিত ঢাকার অপরূপ নিসর্গ ক্রমশ হয়ে উঠছে ছায়াহীন উষর। নির্মল বায়ুর বদলে ঢাকার আকাশ ঘিরে আছে দূষিত বায়ুর বিষবাষ্পে।
ঢাকার বাতাস, পানি ও মাটি দূষিত হয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাট সব কংক্রিটে ঢেকে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঢুকতে পারছে না মাটিতে। অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে মাটিতে।
বর্তমানে যে ঢাকায় আমরা বাস করছি এখানে বাতাস বিশুদ্ধ নয়, পানি বিশুদ্ধ নয়, জীবন যাত্রা বিশুদ্ধ নয়। বাতাসে সীসা আর কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা অনেক বেশি। এইসব কারণেই শহরবাসীর ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিক, হার্টের অসুখসহ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। এভাবেই একদিন অযোগ্য হবে ঢাকা। তাই সবুজায়নের বিকল্প নেই। শহরে পর্যাপ্ত পরিমাণে গাছ থাকলে কিছুটা নোংরা আবর্জনা থাকলেও ক্ষতিটা পুষিয়ে যায়। কিন্তু উত্তপ্ত-মরুভূমিতে নোংরা থাকলে সেটি জীবন যাপনের জন্য হুমকির মতো। তাই গ্রিন ঢাকাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন।
ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র ঘোষণা করেছেন যে, গ্রিন ঢাকা কার্যক্রমের অংশ হিসাবে রাজধানীর প্রতিটি ফুট ওভারব্রিজে ফুলের গাছ লাগানো হবে এবং তা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। কার্যক্রমটি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ফুট ওভারব্রিজ শুধু নয়, পর্যায়ক্রমে গোটা রাজধানীকেই এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুলশান ফজলে রাব্বী পার্কে বাটারফ্লাই গার্ডেন, লেডিসপার্কে কাঠবিড়ালি পার্ক, হাতিরঝিলে বাহারি ফুলের বাগান এবং বিজয়সরণির বিপরীতে তৈরি করা হবে রেইন গার্ডেন।
আমাদের অতি পরিচিত সিঙ্গাপুরই এই ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। ‘গার্ডেন সিটি প্রোগ্রাম’ শিরোনামে ষাটের দশকে গৃহীত একটি পরিকল্পনার আওতায় ক্ষুদ্র দ্বীপ-রাষ্ট্রটি তার বর্ণাঢ্য জীববৈচিত্র্য, নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও অনবদ্য নিয়ম-শৃঙ্খলার জন্য ইতোমধ্যে সারা পৃথিবীর নজর কেড়েছে। ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন সিঙ্গাপুর’ গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে টানা তিন দশক ধরে তারা বহুমুখী প্রচেষ্টা চালিয়েছে নিরলসভাবে। রাস্তার পাশে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে পার্ক ও মুক্তাঞ্চলের সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক। পাশাপাশি, এইসব বৃক্ষ ও পার্ক সুরক্ষার জন্য প্রণীত ও গৃহীত হয়েছে যথাযথ আইনি বর্মও। আমরা অবশ্যই এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারি।
প্রসঙ্গত আমাদেরও প্রথমেই নজর দিতে হবে ঢাকার রাস্তার দিকে। রাস্তার দুই পাশে ও মাঝের লেনে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করতে হবে। খালি স্থানগুলোকে পরিস্কার করে বাগান করার পরিকল্পনা করতে হবে। পাশাপাশি বৃক্ষ রোপনে ঢাকাবাসীকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা, গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়ার কবল থেকে রক্ষা ও পরিবেশ দুষণ মুক্ত রাখা, পরিবারের জন্য তাজা শাক-সবজি, ফল ও ফুলের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো তৈরিতে যে পরিমাণ জমি নষ্ট হয় ছাদে বাগানের মাধ্যমে তার কিছু অংশ পুষিয়ে নেওয়া, অবসর সময় কাটানোর জন্য ছাদে সবুজ সৌন্দর্য বর্ধন ও বিনোদনের সুবিধা সৃষ্টি, অতিবৃষ্টির পানি ছাদের ড্রামে/টবে শোষন করে পানিবদ্ধতা হ্রাসে ভূমিকা রাখা, ছাদ ও বাড়ীর তাপমাত্রা হ্রাসে সহায়তা করা, ছাদে বাগান কার্যক্রমে মহিলা ও ছেলে মেয়েদের সম্পৃক্তর জন্য বিশেষ সক্রিয় ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বলাবাহুল্য যদিও বাংলাদেশের চাষাবাদের জন্য জমি এখনও সম্পূর্ণ আবাদ হচ্ছে না; সেখানে দালান বাড়ির ছাদের চাষাবাদের কথা একটু অন্যরকমই লাগতে পারে।
কিন্তু এ দেশের কিছু সচেতন ব্যক্তিবর্গ আছেন যারা ব্যক্তিগত আগ্রহ আর উদ্যোগে ছাদে বাগান শখের বসে হলেও করেছেন। তবে তাদের বিনিয়োগের যেমন পরিকল্পিত প্রক্রিয়া থাকে না, তেমনি প্রাপ্তির হিসেবেও বাণিজ্যিকভাবে করা হয় না। সামান্য আন্তরিকতা আর সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এ প্রতিশ্রুতিশীল দিকটাকে অনেক সমৃদ্ধ করা যেতে পারে।
সরকার রুফ গার্ডেনিং করার ওপর ব্যাপক জোর দিতে পারে। এমনকি সরকার চাইলে এটা বাধ্যতামূলক করতে পারে। সরকারের জন্য তা অনেক সহজেই করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন শুধু সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আর তা হলো রাজউকের প্লান পাসের সময় বাড়ির ছাদে বাগান করার বাধ্যতামূলক শর্ত জুড়ে দিতে হবে। তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকা ‘গ্রিন রুফ গার্ডেন সিটিতে’ পরিণত হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘দ্যা গ্রেট রিসেট’ ও নমরুদী মশার প্রতিশোধের এক চরম ইহুদী-নাসারায়ী নীলনকশা!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিদ্যুতের বিল বার বার বাড়ানো শোষক জমিদারি কায়দায় চক্র বৃদ্ধি হারে খাজনার চাবুক মারা অথচ বিদ্যুতে শুধু চুরি নয়, সব দিক থেকে সাগর চুরি হচ্ছে। সে চুরির ক্ষত পোষাতে জনগণের উপর খাজনা বৃদ্ধি করে চোরদের উৎসাহ ও প্রনোদনা এবং নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সে যুগেও হুসাইন আহমদকে ইহুদীদের দালাল, হিন্দুদের কংগ্রেসের পা চাটা- গোলাম প্রচারণা করা হলেও থানভী গংরা তা বুঝতে পারলো কৈ? আজকে পশ্চিমবঙ্গে হাজার হাজার মসজিদ ভাঙ্গা ও লাখ লাখ মুসলমানদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস, হিন্দুত্ববাদ গ্রহণে বাধ্য করার মত মহা জুলুমের মূলে হোসেন আহমদের সর্ব ভারতীয় জাতীয়বাদ।
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আকাশের অতন্দ্র প্রহরী: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (১ম পর্ব)
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কিন্তু গতকাল গুগল, ফেইসবুকে অসংখ্য আইডি থেকে প্রচারিত- ‘তারেক রমমান নারিকেল দ্বীপ (সেন্টমার্টিন দ্বীপ) আমেরিকাকে দিয়ে দিয়েছেন নারিকেল দ্বীপ এখন মার্কিন ঘাটি হবে’- ইত্যকার প্রচারণা দেশবাসীকে হতভম্ব করছে। সর্বপোরি সরকারের দলীয় বা প্রশাসনের তরফ থেকে এটাকে গুজব না বলায়- হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বর্বর আম্রিকা আর সন্ত্রাসী ইসরাইলের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত কিন্তু মুসলিম দেশ ইয়েমেন থেকে শুরু করে সোমালিয়া-লিবিয়া হতে সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চালিয়ে রাখছে আরব-আমিরাত ভয়াবহ মানবেতর সংকটে সুদান, সহিংসতা-রোগ-দুর্ভিক্ষে দিশাহারা মানুষ সুদানের রক্তপাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে এক্ষুনি
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












