পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে
রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযার ভঙ্গের কারণ (১৬)
, ২৫ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৬ হাদী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ০৫ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রি:, ২৩ চৈত্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পূর্বপ্রকাশিতের পর
রোযা অবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ, ফিক্বহর কিতাবে উল্লেখ রয়েছে যে,
وَمَا وَصَلَ اِلَى الْـجَوْفِ اَوْ اِلَى الدِّمَاغِ مِنْ مَّـخَارَقَةِ الْاَصْلِيَّةِ كَالْاَنْفِ وَالْاُذْنِ وَالدُّبُرِ....... فَسَدَ صَوْمَهٗ
অর্থ : “যা নাক, কান, পায়খানার রাস্তা ইত্যাদি দ্বারা মগজ অথবা পেটে পৌঁছবে, তাতে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। ” (বাদায়েউছ ছনায়ে)
এ প্রসঙ্গে কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয় যে,
وَمَا وَصَلَ اِلَى جَوْفِ الرَّأْسِ وَالْبَطْنِ مِنَ الْاُذْنِ وَالْاَنْفِ وَالدُّبُرِ فَهُوَ مُفْطِرٌ بِالْاِجْـمَاعِ.
অর্থ : “কান, নাক ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ ইত্যাদি মগজ অথবা পেটে পৌঁছা সকলের নিকটেই রোযা ভঙ্গের কারণ। ” (খুলাছাতুল ফতওয়া, হিদায়া, আইনুল হিদায়া, মাবসূত, বাহ্রুর রায়িক, রদ্দুল মুহ্তার)
উপরোক্ত কিতাবসমূহে যদিও ওষুধ ইত্যাদি মূল রাস্তা অর্থাৎ নাক, কান, মুখ ইত্যাদি দিয়ে মগজ অথবা পেটে পৌঁছার কথা বলা হয়েছে কিন্তু ইমামগণের নিকট মূল রাস্তা শর্ত নয়, যেমন এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ আছে যে,
وَاَبُوْ حَنِيْفَةَ رَحِـمَهُ اللهُ تَعَالٰى يَقُوْلُ اَلْـمُفْسِدُ لِلصَّوْمِ وُصُوْلُ الْـمُفْطِرِ اِلٰى بَاطِنِهٖ فَالْعِبْرَةُ لِلْوَاصِلِ لَا لِلْمَسْلَكِ.
অর্থ : “হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রোযা ভঙ্গের কারণ হলো- রোযা ভঙ্গকারী কোন কিছু ভিতরে প্রবেশ করা। সুতরাং পৌঁছাটাই গ্রহণযোগ্য, মূল রাস্তা নয়। ” (মাবসূত লিস সারাখসী)
আর ‘ফতহুল ক্বাদীর’ ২য় খ- ২৬৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,
وَاَبُوْ حَنِيْفَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يُعْتَبَرُ الْوُصُوْلُ.
অর্থ : “হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট পৌঁছাটাই গ্রহণযোগ্য। ”
অতএব, মূল রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করুক অথবা মূল রাস্তা ব্যতীত অন্য কোন স্থান দিয়েই প্রবেশ করুক না কেন, যদি মগজ অথবা পেটে পৌঁছে, তবে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
[বিঃ দ্রঃ ওষুধ ইত্যাদি মূল রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করা ও মূল রাস্তা ব্যতীত অন্যকোন রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা সম্মুখে আসছে]
উপরোক্ত বক্তব্য দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, রোযা ভঙ্গকারী কোন কিছু যেমন ওষুধ ইত্যাদি মগজ অথবা পেটে পৌঁছালে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ফিক্বাহ্বিদগণের নিকট রোযা ভঙ্গ হওয়ার জন্যে ওষুধ ইত্যাদি মগজ অথবা পেটে পৌঁছা শর্ত।
আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের বক্তব্যের দ্বারা যেহেতু স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, ইনজেকশন মগজে পৌঁছে যায়, সেহেতু ইনজেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। অতএব ইমদাদুল ফতওয়ায় যেটা বলা হয়েছে অর্থাৎ ইনজেকশন মগজে পৌঁছেনা সেটা সম্পূর্ণই ভুল।
(গবেষনাকেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ কর্তৃক মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ফতওয়া বিভাগে প্রকাশিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












