মৃত ব্যক্তির কবরে তালক্বীন দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক এবং খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক-৫
, ০৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৬ ছালিছ, ১৩৯১ শামসী সন , ২৫ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ১০ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
তালক্বীন সম্পর্কে কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়েছে-
فالتلقين مشروع عند أهل السنة، ويكفي أن يقال: ্রيا فلان ابن فلان، أو يا عبد الله بن عبد الله ، اذكر دينك الذي كنت عليه في دار الدنيا، من شهادة أن لا إله إلا الله ، وأن محمداً رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وقل: رضيت بالله رباً، وبالإسلام ديناً، وبمحمد صلى الله عليه وسلم نبياً
অর্থ: আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের মতে তালক্বীন শরীয়তসম্মত। তালক্বীন করার সময় কোনো একজন মৃত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বলবে- হে অমুকের সন্তান অমুক” অথবা এটা বলবে- হে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ -দুনিয়ায় থাকাকালীন অবস্থায় তুমি যার উপর কায়িম ছিলে, এই সময়ে সেই বিষয়গুলি স্বরণ করো। অর্থাৎ তুমি এই সাক্ষ্য দাও যে, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ব্যতীত আর কোন মা’বুদ নেই, এবং অবশ্যই আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর তুমি বলো, আমি মহান আল্লাহ্ পাক উনাকে রব হিসেবে, পবিত্র ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসেবে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছি। (আল ফিক্বহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহূ ২/৫৯৮, শরহে ফতহুল ক্বাদির)
তালক্বীন সম্পর্কে কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়েছে-
وَيُسَنُّ تَلْقِيْنُ الْمَيِّتِ لِقَوْلِهٖ تَعَالٰى: {وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِيْنَ} وَأَحْوَجُ مَا يَكُوْنُ الْعَبْدُ إِلٰى التَّذَكُّرِ فِيْ هٰذِهِ الْحَالَةِ وَهُوَ: يَا عَبْدَ اللهِ ابْنَ أَمَةِ اللهِ اُذْكُرِ الْعَهْدَ الَّذِيْ خَرَجْتَ عَلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا شَهَادَةٌ أَنْ لَا إِلٰهَ إلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَّ الْجَنَّةَ حَقٌّ وَأَنَّ النَّارَ حَقٌّ وَأَنَّ الْقَبْرَ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيْهَا وَأَنَّ اللهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُوْرِ وَأَنَّكَ رَضِيْتَ بِاللهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِيْنًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا وَرَسُوْلًا وَبِالْقُرْآنِ إِمَامًا وَبِالْكَعْبَةِ قِبْلَةً وَبِالْمُؤْمِنِيْنَ إِخْوَانًا وَيُسَنُّ إعَادَةُ التَّلْقِيْنِ ثَلَاثًا وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُقْرَأَ عِنْدَهٗ شَيْءٌ مِنَ الْقُرْآنِ وَإِنْ خَتَمُوا الْقُرْآنَ كَانَ أَفْضَلَ ؛ شَرْحُ الرَّوْضِ
অর্থ: তালক্বীন করা সুন্নত, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আলোচনা করো, নিশ্চয়ই আলোচনার মধ্যেই মু’মিনদের জন্য ফায়দা রয়েছে। আর আলোচনার দ্বারা মৃত ব্যক্তির তখনকার কঠিন অবস্থাকে সহজ করা হয়। আর সেই তালক্বীন এভাবে করবে যে, একজন বলবে- “হে মহান আল্লাহ্ পাক উনার বান্দা! ঐ ওয়াদার কথা তুমি স্বরণ করো, যে ওয়াদা করে তুমি দুনিয়া থেকে এসেছ। তুমি বলো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ (মা’বুদ) নেই। আর নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ্ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নিশ্চয়ই জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কবর সত্য। আর নিশ্চয়ই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবেই এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই; এবং নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি কবরবাসীকে উঠাবেন। সুতরাং তুমি বলো, আমি মহান আল্লাহ্ পাক উনাকে রব হিসেবে, পবিত্র ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসেবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে, মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে পথ প্রদর্শক হিসেবে, পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে ক্বিবলা হিসেবে এবং মু’মিনগণকে ভাই হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছি। ” আর তালক্বীন তিনবার করা সুন্নত মুবারক, তখন মহাপবিত্র কুরআন শরীফ থেকে কিছু তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। তবে পুরো কুরআন শরীফ খতম করাটা সর্বোত্তম। (তুহফাতুল হাবীব আলা শরহিল খতীব ৬/১৯৬)
-হাফিযুল হাদীছ মুহম্মদ ফজলুল হক্ব
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করতে হবে
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আয়না ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মাছ” (২)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মাছ” (১)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আযানের জবাব দেয়ার হুকুম-আহকাম ও পবিত্র সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












