বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান:
মুসলিম স্বর্ণালী যুগের লাইব্রেরির ধরণ ও পরিচালনা
, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
ইসলামিক লাইব্রেরির সংগ্রহের আকার প্রথমে উটের বোঝায় পরিমাপ করা হলেও পরবর্তী সময়ে সংখ্যা গণনার মাধ্যমে করা হতো। যেমনটি আমরা লক্ষ্য করেছি যে- সবুর ইবনে আরদাশির প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরিতে ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার ভলিউম কিতাব রয়েছে।
কর্ডোভায় ৪ লক্ষ ভলিউম নিয়ে গঠিত আর ফাতেমীয় খলীফাদের গ্রন্থাগারে ভলিউমের সংখ্যা ৪ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ।
ইসলামিক লাইব্রেরি সম্পর্কে একটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই গ্রন্থাগারগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ের বৈচিত্র্য রয়েছে। ধর্মীয় কাজগুলি বাদ দিয়ে, মুসলমানগণ সমস্ত বিষয়ে, সর্বকালের সমস্ত ভাষায় যা কিছু রচিত হয়েছে তা সংগ্রহ করেছেন এবং তা উপলব্ধি, চর্চার মাধ্যমে ভুল সংশোধন ও এর সমাধান বা উন্নয়ন করেছিলেন। এসব কাজের প্রচুর অনুলিপি তৈরি করেছেন যাতে সর্বসাধারণের মধ্যে জ্ঞান ছড়িয়ে যেতে পারে।
ইসলামিক লাইব্রেরিগুলো সমৃদ্ধ হতো বিভিন্ন কিতাব উপহার, ক্রয় বা অনুলিপি তৈরির মাধ্যমে। বড় লাইব্রেরিতে বিশেষ অনুলিপিকার নিয়োগ করা হতো। নতুন বই সংগ্রহের জন্য লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতারা প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন, আলাদাভাবে বিভিন্ন স্থানে লোক নিয়োগ করতেন। ইসলামিক লাইব্রেরিগুলোর ভৌত দিক নিয়ে খুব কম বর্ণিত রয়েছে।
আল-মাকদিসি শিরাজের গ্রন্থাগারের একটি আকর্ষণীয় বর্ণনা দিয়েছেন-
“লাইব্রেরিটির মূল কক্ষ গ্যালারি সিস্টেমে একটি বড় হলরুমের মত। এর সাথে ৩৬০টি স্টোর রুম ছিলো। বড় কক্ষটি এবং স্টোর রুমের দেয়ালে একজন মানুষের উচ্চতাসম্পন্ন তিন গজ চওড়া সজ্জিত ও অলংকৃত কাঠের র্যাকগুলো তৈরি করা হয়েছিলো। এই র্যাকগুলোর উপর থেকে নীচে পর্যন্ত তাক ছিলো।
বইগুলি তাকগুলিতে সাজানো থাকতো। শিক্ষার প্রতিটি শাখার জন্য পৃথক স্থান নির্দিষ্ট ছিলো। আমি প্রতিটি কক্ষের কার্পেট এবং পর্দা দেখেছি। আমি বায়ু চলাচল চেম্বারও দেখেছি, যেখানে পাইপ দ্বারা পানি বহন করা হতো এবং তা বায়ু চলাচল চেম্বারের চারদিকে পরিবেষ্টিত ছিলো”। ইসলামিক লাইব্রেরিতে বইয়ের বিন্যাস ছিলো মূলত: বিষয় অনুসারে, কিন্তু বিষয়ের মধ্যে লেখক বা শিরোনামের পরিবর্তে অধিগ্রহণের ক্রম অনুসারে সাজানো থাকত। জ্ঞানের প্রতিটি শাখার জন্য আলাদা আলাদা আলমারি বা কক্ষ ছিলো।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কপিগুলোর জন্য সাধারণত একটি বিশেষ স্থান নির্ধারিত থাকতো। উদাহরণস্বরূপ, কায়রোর ফাতিমীয় গ্রন্থাগারগুলিতে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কপিগুলো অন্যান্য বইয়ের তুলনায় উচ্চ স্তরে রাখা হতো। যেহেতু কিতাবগুলি খাড়াভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিলো, তাই কিতাবগুলোর লেখকদের নাম এবং শিরোনামগুলি মলাটের পার্শ্বদেশের সাথে সংযুক্ত কাগজে লেখা থাকত। একটি প্রয়োজনীয় বই অনুসন্ধানের সুবিধার্থে, একটি বুকসেলফের প্রতিটি তাকের বিষয়বস্তু সেলফের সাথে সংযুক্ত কাগজের স্ট্রিপে উল্লেখ করা থাকতো। এছাড়াও গ্রন্থাগারগুলির নিজস্ব ক্যাটালগ থাকতো যাতে জনসাধারণ সংগৃহীত সমস্ত উপাদান সহজে ব্যবহার করতে পারে। এই ক্যাটালগগুলি সাধারণত বেশ কয়েকটি ভলিউমের হতো। প্রতিটি কক্ষের দরজায় ক্যাটালগ ভলিউমগুলো একটি তালিকা আটকানো থাকতো।
ছবি: আমির তৈমুরের তিন মাদ্রাসা, রেজিস্তান, সামারখন্দ (৮ম শতক হিজরী; ১৪ শতক ঈসায়ী)
ছবি, মাদ্রাসা আল-মুনতাসিরিয়া (৬২৪ হিজরী; ১২২৭ ঈসায়ী), বাগদাদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৫)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিখ্যাত মুসলিম প্রকৌশলী রিদওয়ান আল-সাতীর আবিষ্কার করা উমাইয়া মসজিদের ঘড়ি
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সভ্যতার বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উইন্ডমিল বা বায়ুকল
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৩)
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও শল্যবিদ আবু মারওয়ান আবদুল মালিক ইবনে আবীল আলা ইবনে যুহর
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরা আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: কৃষিতে মুসলমানদের অবদান
২৭ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদের সমস্ত কিছু চুরি করেই কাফির-মুশরিকরা আজ বিজ্ঞানী সেজেছে
২২ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানরা আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: পদার্থ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
২৫ জুলাই, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলিম স্বর্ণালী যুগের লাইব্রেরির ধরণ ও পরিচালনা
২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












