মুসলিম দেশ সিয়েরা লিওনে মসজিদভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা
, ০৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৬ ছালিছ, ১৩৯২ শামসী সন , ১৪ আগষ্ট, ২০২৪ খ্রি:, ৩০ শ্রাবণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পাঁচ মিশালী
ফ্রিটাউন দেশটির রাজধানী, বৃহত্তম শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি শহর হলো বো, কেনেমা, ম্যাকেনি ও কাইদু। সিয়েরা লিওন উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চল চারটি ভৌগলিক অঞ্চলে বিভক্ত, যেগুলো আবার ১৪টি জেলায় বিভক্ত। ২৭ এপ্রিল ১৯৬১ যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে সিয়েরা লিওন। সিয়েরা লিওন জাতি ও ভাষা বৈচিত্রের দেশ।
এখানে ১৬টি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে। তবে ‘তেমনে’ ও ‘মেন্দে’ গোত্রই সবচেয়ে প্রভাবশালী। ‘ক্রিও’ দেশটির বেশির ভাগ মানুষের কথ্য ভাষা। দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজি।
পিউ রিসার্চের তথ্য মতে, সিয়েরা লিওনের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক মুসলিম। রাষ্ট্রীয়ভাবে সিয়েরা লিওন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।
সিয়েরা লিওনে ইসলামের আগমন খ্রিস্টীয় ১৬ শতকে প্রতিবেশী মুসলিম দেশের নাগরিক ও সমুদ্রপথে আগত মুসলিম নৌ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। দ্বীনি মূল্যবোধ ও ইসলামী শিক্ষার প্রসার না থাকায় সিয়েরা লিওনের মুসলিমরা ইসলামচর্চায় পিছিয়ে ছিল। নামে তারা মুসলিম হলেও ধর্মীয় বিশ্বাস ও বিধান সম্পর্কে খুব বেশি অবগত ছিল না। ১৮ শতকে সংঘটিত ফুতা জালুন যুদ্ধের পর সিয়েরা লিওনে ইসলামী জাগরণ ঘটে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন মুসলিমদের আরো সংহত করে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মুসলিম দাতব্য সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টায় সিয়েরা লিওনে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার বিকাশ ঘটছে। তবে এখনো বেশির ভাগ মুসলিম শিশুরা সনাতন পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। তবে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা শুরু হয় কুরআন শরীফ পাঠের মধ্য দিয়ে।
প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলাম অনুসারে সিয়েরা লিওনে মুসলিম শিক্ষার্থীরা ১৮ বছর বয়সে দ্বীনি শিক্ষা সমাপ্ত করে। তখন তাদের পাগড়ি প্রদান করা হয় এবং বিশেষ চেয়ারে বসিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করানো হয়। এরপর তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োগ পায়। বলা হয়, সিয়েরা লিওন ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। তবে মুসলিম দাতব্য সংস্থার কার্যক্রম শহরাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ বলে অভিযোগ আছে। গ্রাম ও বনাঞ্চলের মুসলিমরা এখনো প্রাচীন কুসংস্কার ও বিশ্বাসে আচ্ছন্ন।
সিয়েরা লিওনের প্রায় প্রতিটি গ্রামের ছোট-বড় মসজিদ রয়েছে। মসজিদগুলো ধর্মীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় সালিস-বিচার, বিয়ে, তালাক, জানাযা-দাফন, চিকিৎসাসেবা প্রদান, ইসলাম প্রচারের কাজগুলো মসজিদেই হয়ে থাকে। যাকাত ব্যবস্থাপনায় মসজিদগুলোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে দেশটিতে। সব মিলিয়ে সিয়েরা লিওনকে মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থার দেশ বলা যায়।
তথ্যসূত্র : মালুমাত ও উইকিপিডিয়া
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঘরোয়া মসলায় লুকিয়ে থাকা চিকিৎসাগুণ সম্পর্কে জানেন?
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আমে কীটনাশক রয়েছে কিনা? পরীক্ষা করুন পাঁচ পদ্ধতিতে
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাবিশ্ব দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে: নতুন গবেষণা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাচারি ঘরের ইতিকথা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কদম মুবারকে কদম রসূল
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইন্দোনেশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থীর সাফল্য
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জামের বীজের গোপন গুণ, যা অনেকেরই অজানা
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এই চার পানীয় শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর নতুন জিন আবিষ্কার
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাহারা মরুভূমির উল্কাপিন্ডে মিললো হারিয়ে যাওয়া গ্রহের প্রমাণ
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ছায়াপথের কেন্দ্রে বিরল দৃশ্য, নতুন রহস্যের সূত্র পাওয়ার দাবি বিজ্ঞানীদের
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












